Posts

Showing posts from December, 2021

আধুনিক বৈজ্ঞানিক সৃষ্টিতত্ত্বের আলোকে মহাবিশ্বের জন্মোতিহাস

  আধুনিক বৈজ্ঞানিক সৃষ্টিতত্ত্বের আলোকে মহাবিশ্বের জন্মোতিহাস   বর্তমান বিজ্ঞান মহাবিশ্বের সৃষ্টিতত্ত্ব বিষয়ে তথ্য দিতে গিয়ে মানবজাতিকে এ মর্মে অবহিত করেছে যে , প্রায় ১৫০০ কোটি বৎসর পূর্বে কোন এক মহা আলোক শক্তির মহাউৎস হতে উৎসারিত হয়ে অদৃশ্য প্রায় মহাসূক্ষ্ম বিন্দু 10- ³³ cm. আকার ধারণ করে হাইয়েস্ট এনার্জেটিক রেডিয়েশন নামক বিপুল পরিমাণ আলোক শক্তি মহাসঙ্কোচনের মাধ্যমে সংকুচিত হয়ে প্রায় ১০ , ০০০ কোটি কোটি কোটি কোটি ডিগ্রি কেলভীন ( K) তাপমাত্রা লাভ করে মাত্র 10 - ⁴³ sec. অর্থাৎ এক সেকেন্ডের ১০ কোটি , কোটি কোটি কোটি কোটি ভাগের মাত্র এক ভাগকাল সময়ের মধ্যে মহাবিস্ফোরণ Big Bang) এর মাধ্যমে এ মহাবিশ্বের সূচনাকাল শুরু হয়ে যায় ।   Big Bang মতবাদ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ঐ মতবাদ গবেষণাকারী বিজ্ঞানীগণ Computer simulation'- এর মাধ্যমে ব্যাপক গবেষণা করে সিদ্ধান্ত দেন যে , মূলতঃ highest energetic radiation' তথা কল্পনাতীত শক্তিশালী মহা আলোর গোলক । ‘ আলোকশক্তিই প্রথমে ঘনীভূত হয়ে মহা বিন্দুতে প্রবেশ করে এবং পরবতা মুহুতে স...

আলোক-তড়িৎক্রিয়া বা ফটোইলেকট্রিক ইফেক্ট

  আলোক-তড়িৎক্রিয়া বা ফটোইলেকট্রিক ইফেক্ট ১৮৩৯ সাল। ফরাসী বিজ্ঞানী এডমন্ড বেকরেল এক আশ্চর্য ঘটনা লক্ষ করলেন। তিনি সৌরবিদ্যুৎ নিয়ে কাজ করছিলেন। দেখেন বৈদ্যুতিক কোষের ওপর আলো একটা ভালো প্রভাব ফেলে। কিন্তু এ ঘটনার ব্যাখ্যা তাঁর কাছে ছিল না। আর এটা নিয়ে তিনি খুব বেশি মাথাও ঘামাননি। কিন্তু এটাই ছিল কোনো বিজ্ঞানীর পর্যবেক্ষণ করা প্রথম আলোক-তড়িৎক্রিয়া বা ফটোইলেকট্রিক ইফেক্ট। তিন দশক পর ১৮৭৩ সালে বিট্রিশ ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার উইলাফবি স্মিথ টেলিফোন অপারেটে হিসেবে  ট্রান্স আটলান্টিক টেলিফোন ক্যাবলের রোধ পরীক্ষা করার দায়িত্ব পালনকালে তিনি রোধক পরিমাপের একটা যন্ত্র ব্যবহার করতেন। রোধকটা ছিলি সেলিনিয়ামের। একদিন তিনি অবাক হয়ে লক্ষ্য করেন , বৈদুতিক রোধকের নতুন এক ব্যাপার। আগে কেউ জানতেন না এ ব্যাপারটা। তিনি লক্ষ্য করেন , সেলিনিয়াম রোধকের ওপর সূর্যের আলো পড়লে বেড়ে যাচ্ছে বিদ্যুৎ প্রবাহ। অর্থাৎ কমে যাচ্ছে রোধকের মান। হয়তো মনে হতে পারে , সূর্যের তাপের কারণে এমনটা হচ্ছে। তড়িৎগতিবিদ্যা কিন্তু উল্টো কথা বলে , তাপ বাড়লে বেড়ে যায় রোধেকের রোধকত্ব। ফলে বিঘ্ন ঘটে স্বাভাবিক তড়িৎ প্রবাহে। তাহলে ...

আইনস্টাইন এবং কোয়ান্টাম তত্ত্ব:

  আইনস্টাইন এবং কোয়ান্টাম তত্ত্ব: কোয়ান্টাম তত্ত্বের সাথে আইনস্টাইনের একটা শত্রুতা শুরু থেকেই লেগে ছিল। আইনস্টাইন ঘোর বাস্তববাদী বিজ্ঞানী ছিলেন। মিসির আলির মত তিনিও কোনো অনিশ্চয়তায় বিশ্বাস করতেন না। কিন্তু মিসির আলি যেমন তাঁর যুক্তিতর্ক দিয়ে সব মিস্টিরি সলভ করতে পারেন নি তেমনি আইনস্টাইন ও তাঁর জীবনে কোয়ান্টাম তত্ত্বকে ব্যাখ্যা করতে পারেন নি। আর প্রতিবেদনের শুরুর কথাটাও তিনি বলেছিলেন এই কোয়ান্টাম তত্ত্ব নিয়েই। যাই হোক , পুরোপুরি মানতে না পারলেও আইনস্টাইনকেও এই তত্ত্ব ব্যবহার করতে হয়েছিলো একবার। প্লাঙ্ক যখন কৃষ্ণবস্তুর বিকিরণ সমস্যার সমাধান করছেন তখনই আরেকটা সমস্যা এসে হাজির হয় পদার্থবিজ্ঞানের জগতে। সেটা হলো আলোক তড়িৎক্রিয়া। ধাতব পাতের উপর আলো ফেললে সেই পাত থেকে ইলেকট্রন নির্গত হয়। কেন ? এর ব্যাখ্যা কি ? নিউটনের গতিতত্ত্বের পক্ষে এর ব্যাখ্যা দেওয়া সম্ভব হলো না। ম্যাক্সওয়েলও তাঁর বিদ্যুতচুম্বকীয় তত্ত্বের মাধ্যমে এর কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারলেন না। এখানে একটা বিষয় মনে রাখা দরকার , তখনও পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা আলোকে শুধু তরঙ্গই ভাবতেন । কণাতত্ত্ব বহু আগেই বাতিল হয়ে গিয়েছিল। বি...

কৃষ্ণবস্তুর বিকিরণ ফর্মুলা

  কৃষ্ণবস্তুর বিকিরণ ফর্মুলা আদর্শ কৃষ্ণবস্তু এবং তার বিকিরণসহ প্রথম সসূত্র ধারণা দেন জার্মান পদার্থ বিজ্ঞানী গুস্তভ কার্শফ ১৮৬০ সালে। গুস্তভ কার্শভ বলেন , কোনো বস্তুর তাপমাত্রা যদি পরিবেশের তাপমাত্রার চেয়ে কম হয় , সেই বস্তু নির্দিষ্ট তরঙ্গ দৈর্ঘের বিকিরণ শোষণ করে নিজের তাপমাত্রা বৃদ্ধি করবে। আবার কোনো বস্তুর তাপমাত্রা যদি পরিবেশের তাপমাত্রার চেয়ে বেশি হয় তবে সেই বস্তু নির্দিষ্ট তরঙ্গদৈর্ঘের আলো বিকিরণ করে তরঙ্গদৈর্ঘ হ্রাস করবে। ১৮৯৫ সাল নাগাদ কৃষ্ণ বস্তু তৈরি হয়। এরমধ্যে ফেরি আর ভিয়েনের কৃষ্ণবস্তু বেশি পরিচিত। কৃষ্ণবস্তুর দেওয়ালে হার্জিয়ান কম্পকদের এক রকম শক্তি -বণ্টন ব্যবস্থা ও এক ধরণের এন্ট্রপি বণ্টন-ব্যবস্থা আছে। সাম্য অবস্থায় এন্ট্রপি সব চেয়ে বেশি হতে হবে এবং তা পরিসংখ্যান পদ্ধতির সাহায্যে বোলৎজমানের মৌলিক সমীকরণটি কাজে লাগিয়ে গণনা করা যায় । সম্ভাব্যতা গণনা করতে গিয়ে প্লাঙ্ক দেখলেন কম্পকের শক্তিকে ছোট অথচ সসীম অংশে – ‘ কোয়ান্টা ’- য় ভাগ করে ফেলা সুবিধাজনক। এই অনুমানের সাহায্যে প্লাঙ্ক একটি কম্পকের গড় শক্তি পরিমাপ করতে পারলেন। এর থেকেই এলো কৃষ্ণবস্তু বিকিরণ ফর্মুলা সূত্র : ...

আলবার্ট আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিকতা তত্ত্ব

  ডিজিটাল চিকিৎসা ব্যবস্থায় আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিকতা তত্ত্বের  ভূমিকা আর্সেনিক যখন ইউরোপে এক রূপকথার রাক্ষস , তখন জার্মানির বিজ্ঞানী পল আলিখ ( Paul Ehrlich) সে বিষে খুঁজতে থাকেন আশীর্বাদ। তাঁর লক্ষ্য সিফিলিস রোগের ওষুধ উদ্ভাবন। সিফিলিস তখন ইউরোপ-আমেরিকায় লাখ লাখ প্রাণ কেড়ে নিচ্ছিল । জার্মান রসায়নবিদেরা ইতিমধ্যে আর্সেনিকের প্রচুর যৌগ তৈরি করেছেন। আলিখ তাঁর ল্যাবরেটরিতে সেসব যৌগ সংগ্রহ করলেন। আর্সেনিকের সব যৌগ মানুষের জন্য সমান বিষাক্ত নয়। আলিখ এমন আর্সেনিক যৌগ তৈরির কথা ভাবলেন , যেটি মানুষের জন্য সিফিলিস রোগের ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করবে । তাঁর ল্যাবে সে সময় সুদূর জাপানি মেধাবী ছাত্র গবেষণা করতেন নাম : সাহাচিরো হাতা ( Sahachiro Hata) । কয়েক শ আর্সেনিক যৌগ দেওয়া হলো সাহাচিরোকে। বলা হলো , খুবই ধৈর্যের সঙ্গে প্রতিটি যৌগ টেস্ট করতে হবে। পরীক্ষা করা হবে খরগোশের ওপর। খরগোশদের সিফিলিস ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত করা হতো। একটি একটি যৌগ , প্রতিটি খরগোশের ওপর প্রয়োগের পর পর্যবেক্ষণ করে নোট করা হতো। সাহাচিরো কয়েক শ যৌগ পরীক্ষা করলেন।   কিন্তু কাঙ্ক্ষিত যৌগ আর পাওয়া যায় না। সেই...