আইনস্টাইন এবং কোয়ান্টাম তত্ত্ব:

 



আইনস্টাইন এবং কোয়ান্টাম তত্ত্ব:

কোয়ান্টাম তত্ত্বের সাথে আইনস্টাইনের একটা শত্রুতা শুরু থেকেই লেগে ছিল। আইনস্টাইন ঘোর বাস্তববাদী বিজ্ঞানী ছিলেন। মিসির আলির মত তিনিও কোনো অনিশ্চয়তায় বিশ্বাস করতেন না। কিন্তু মিসির আলি যেমন তাঁর যুক্তিতর্ক দিয়ে সব মিস্টিরি সলভ করতে পারেন নি তেমনি আইনস্টাইন ও তাঁর জীবনে কোয়ান্টাম তত্ত্বকে ব্যাখ্যা করতে পারেন নি।

আর প্রতিবেদনের শুরুর কথাটাও তিনি বলেছিলেন এই কোয়ান্টাম তত্ত্ব নিয়েই।

যাই হোক, পুরোপুরি মানতে না পারলেও আইনস্টাইনকেও এই তত্ত্ব ব্যবহার করতে হয়েছিলো একবার।

প্লাঙ্ক যখন কৃষ্ণবস্তুর বিকিরণ সমস্যার সমাধান করছেন তখনই আরেকটা সমস্যা এসে হাজির হয় পদার্থবিজ্ঞানের জগতে। সেটা হলো আলোক তড়িৎক্রিয়া।

ধাতব পাতের উপর আলো ফেললে সেই পাত থেকে ইলেকট্রন নির্গত হয়। কেন? এর ব্যাখ্যা কি?

নিউটনের গতিতত্ত্বের পক্ষে এর ব্যাখ্যা দেওয়া সম্ভব হলো না। ম্যাক্সওয়েলও তাঁর বিদ্যুতচুম্বকীয় তত্ত্বের মাধ্যমে এর কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারলেন না।

এখানে একটা বিষয় মনে রাখা দরকার, তখনও পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা আলোকে শুধু তরঙ্গই ভাবতেনকণাতত্ত্ব বহু আগেই বাতিল হয়ে গিয়েছিল।

বিজ্ঞানীরা তখন উঠে পড়ে লাগলেন এর ব্যাখ্যা খুঁজতে। তখনও পর্যন্ত প্লাঙ্কের কোয়ান্টাম তত্ত্ব বিজ্ঞানমহলে খুব একটা সাড়া ফেলতে পারে নি।

এদিকে সমস্ত বিজ্ঞানী যখন এক উপায়ে আলোর তড়িৎক্রিয়া ব্যাখ্যার চেষ্টা চালাচ্ছে তখন সুইজারল্যান্ড পেটেন্ট অফিসের কর্মী আলবার্ট আইনস্টাইনের মাথায় ঘুরছে অন্যকিছু।

তিনি তখন ভাবছেন থিওরি অফ রিলেটিভিটি নিয়ে। একইসাথে তাঁর মাথায় ঘুরছে কোয়ান্টাম তত্ত্ব। তিনিও তখন শুরু করেন আলোর তড়িৎক্রিয়ার ব্যাখ্যা খোঁজা। এবং এ জন্য প্রথম যে ভাবনাটি আইনস্টাইনের মাথায় এসেছিল তা ছিল যুগান্তকারী!

আইনস্টাইন ফট করে বলে বসলেন আলো শুধু শক্তি বা তরঙ্গ নয়, কণাও!

বিজ্ঞানীদের মাথায় পড়লো বাজ। বিজ্ঞানমহলে আবারো ফিরে এলো আলোর কণাতত্ত্ব

তবে নিউটনের কণাতত্ত্বের সাথে আইনস্টাইনের তত্ত্বের কোনো মিল নেই। আলোকে শক্তির প্যাকেট হিসেবে আখ্যায়িত করলেন আইনস্টাইন। তবে তিনি আলোর তড়িৎক্রিয়া ব্যাখ্যা করার জন্য চিরায়ত কণাবিদ্যা বা বিদ্যুৎচৌম্বকীয় তত্ত্বের দিকে হাত বাড়ালেন না। বরং বিকিরণের জন্য ম্যাক্স প্লাঙ্ক যে কোয়ান্টাম তত্ত্ব দিয়েছিলেন তা দিয়েই ব্যাখ্যা করলেন আলোর তড়িৎক্রিয়া।

প্লাঙ্ক আলোর ক্ষুদ্র শক্তিগুচ্ছকে বলেছিলেন প্যাকেট বা কোয়ান্টাম। আইনস্টাইন আলোর সর্বনিম্ন শক্তির সেই প্যাকেটকেই বললেন আলোর কণা। আরও পরে সেই কণার নাম হয় ফোটন।

ফোটন ভরহীন কণা। কিন্তু গতিশীল ফোটনের ভরবেগ আছে বলে উল্লেখ করলেন আইনস্টাইন। ভরবেগ ও গতিসম্পন্ন কণাকে তিনি তুলনা করলেন কামানের গোলার সাথে। কামানের গোলা যখন কোনো বস্তুকে আঘাত করে তখন তা ছিন্নভিন্ন হয়ে ছড়িয়ে পড়েঠিক একইভাবে আলোর ফোটনকণা কামানের গোলার মত প্রচন্ডবেগে আঘাত হানে ধাতুর পরমাণুতে। তখন পরমাণুর ভেতর থেকে ছিটকে বেরিয়ে যায় ইলেকট্রন কণা।

এবার একসঙ্গে দুই সমস্যার সমাধান হল। আলোক তড়িৎক্রিয়ার সমস্যাটা মিটলো একইসাথে কোয়ান্টাম তত্ত্বও প্রতিষ্ঠিত হলো শক্তপোক্তভাবে

কোয়ান্টা বা কোয়ান্টাম তত্ত্বের বাস্তবতা

বাস্তব পরীক্ষণঃ আমাদের মাথার উপর যে ৩ পাখা বিশিষ্ট বৈদ্যুতিক পাখা ঘুরছে তাকে একই সঙ্গে ৩টিও দেখা যাবে না আবার শত শত পাখা বিশিষ্টও দেখা যাবে না। ঘুরন্ত অবস্থায় যদি শতশত পাখা বিশিষ্ট দেখা যায় তবে ৩ পাখা দেখতে হলে পাখা (ফ্যান)টির সুইচ বন্ধ করে দিতে হবে। পানির ফোঁটা অতি ক্ষুদ্র অণুর সমাহারমাত্র। পানির প্রবল চাপ থাকলে একে নলের যত বড় মুখ তত বড় দেখা যাবে, যত ছোট মুখ তত ছোট দেখা যাবে। টেপ বন্ধ করলে পানির ফোটা ক্রমেই ছোট বিন্দুর আকার ধারণ করতে দেখা যায়। উপর থেকে নীচে এক ফোটা পানি ফেলে দেখা যায়, পানি বিন্দুটি ভেঙ্গে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অসংখ্য পানির অণু কণায় পরিণত হয়েছে।  এতে প্রমাণিত হয় এক ফোটা পানি অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অসংখ্য পানির অণু কণার সমাহার মাত্র।

 

 

 

 

Comments

Popular posts from this blog

ইসলামী বিজ্ঞান-প্রযুক্তি তথ্য ব্যাংক (বাংলাদেশ)

Science-Tech News

আধুনিক বৈজ্ঞানিক সৃষ্টিতত্ত্বের আলোকে মহাবিশ্বের জন্মোতিহাস