শক্তির (Power) স্বরূপ


শক্তির (Power) স্বরূপঃ কি এবং কিভাবে?

হাইয়েস্ট এনার্জেটিক রেডিয়েশন হচ্ছে আকাশ এবং পৃথিবী (গ্রহ+নক্ষত্রসহ)এর উৎসমূল। মহাজগতের ৯৬%ই অজানা উৎস থেকে সৃষ্ট যার মধ্যে অধিকাংশই হচ্ছে অজানা শক্তি। ভরসম্পন্ন আলো কণাকে বস্তু/পদার্থ বলা হয়। ভরশুন্য ফোটনকে ভরত্ব প্রদানকারী ক্ষেত্র বা সৃত্রটি হচ্ছে শুন্যে বিদ্যমান শক্তি যা থেকে ফোটন বা আলো কণা ভরত্ব লাভ করে কসমোলজিক্যাল স্ট্যান্ডার্ড মডেলের সূ্ত্র অনুসারে হিগস বোসন কণায় পরিণত হয়েছে।

ফোটনের কি বুদ্ধি আছে?

আইনস্টাইন বলেন, আলো এক প্রকার শক্তি। কোয়ান্টম তত্বমতে শুন্যস্থানও শক্তিসম্পন্ন।

পদার্থবিজ্ঞানের ভাষায় এনার্জি বা শক্তির অর্থ কাজ করার সামর্থ্য। অর্থাৎ শক্তিকে এক অবস্থা থেকে আরেক অবস্থায় রূপান্তর করা। যে বস্তু কাজ করতে সমর্থ তার মধ্যেই শক্তি থাকে বিধায় তাকে সচল বস্তু, কার্যকর বস্তু বলে থাকি। আমরা যখন বলি কোনো বস্তুর মধ্যে শক্তি নিহিত আছে, তখন বোঝা যায়, বস্তুটি অন্য কিছুর ওপর বল প্রয়োগ করতে পারে এবং তার ওপর  যথাযথভাবে কাজ সম্পাদন করতে পারে।

১৭ শতকে শক্তিবিষয়ক একটি ধারণা বোঝাতে জার্মান বিজ্ঞানী গটফ্রিড লিবনিজ ল্যাটিন শব্দ ভিস ভিভা ব্যবহার করেছিলেন। এর অর্থ জীবন্ত বল বা শক্তি (ফোর্স)। পক্ষান্তরে ১৮০৭ সালে ব্রিটিশ বিজ্ঞান টমাস ইয়ং এই ধারণাটিকে বোঝাতে ভিস ভিভার পরিবর্তে এনার্জি শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন। গ্রিক শব্দ এনার্জিয়া (Energeia) থেকে উদ্ভূত এনার্জিশব্দটির অর্থ ক্রিয়াকলাপ, কার্যকলাপ, কর্মশক্তি ইত্যাদি।

গতির কারণে কাজ সম্পাদিত হয়। তাই গতিই নিশ্চিতভাবেই একপ্রকার শক্তি। এই শক্তিটিকে বোঝাতে ১৮৫৬ সালে ইংরেজ বিজ্ঞানী লর্ড কেলভিন (উইলিয়াম থমসন) কাইনেটিক এনার্জি (Kinetic energy) শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন। এই কাইনেটিক শব্দটিও এসেছে গ্রিক কাইনেসিস (Kinesis) থেকে, গ্রিক ভাষায় যার অর্থ গতি।

(তথ্যসূত্রঃ https://www.bigganchinta.com/scwords/how-energy-came-in-science)।

আমরা আমাদের দৈনন্দিক কাজ কর্মে যে শক্তি প্রয়োগ করি তা  অবস্থা অনুযায়ী ব্যবস্থা হিসেবে। কখনও সজ্ঞানে কখনও অজ্ঞানে বা অসচেতনভাবে আমরা বস্তুর ওজন ও ভরত্ব তথা বস্তুজ্ঞান”-Material Knowledge অনুযায়ী শক্তি প্রয়োগ করে থাকি।

দৈহিক শক্তি এবং মানসিক শক্তিসম্পন্ন ব্যক্তিত্বের নাম মানুষ। মানব জীবন মূলতঃ শক্তিভিত্তিক। তিন প্রধান জীবনকালের মধ্যে গণ্য জীবনকাল হচ্ছে যৌবনকাল যা শক্তির প্রতীক। যৌবনকালের পূর্বে এবং পরের জীবন ধর্তব্যের মধ্যে গণ্য নয়। একটি যন্ত্র তখনই কর্মক্ষম, সচল, সক্রিয় থাকে যখন যন্ত্রটির মধ্যে শক্তি থাকে যাকে আমরা টেম্পার বলে থাকি। সিংহ ততদিন বনের রাজা যতদিন শক্তি থাকে। প্রবল প্রতাপশালী রাজা-বাদশাহর রাজত্ব, বাদশাহী ততক্ষণ যতক্ষণ দৈহিক শক্তি এবং মানসিক শক্তিসম্পন্ন। এর বিপর্যয় ঘটলে উত্তরাধিকারী ঘোষণা করা হয়। একজন কর্মী অবসরপ্রাপ্ত হন সে বয়স্কালে যখন কর্মক্ষমতা লোপ পায়। তাই জীবন-জগতে শক্তির মান অনন্য, অসাধারণ।

শক্তি বলতে কাজ করার সামর্থ্যকে বুঝায়। প্রধানত শ‌ক্তি হ‌চ্ছে পদা‌র্থের এমন একটি বৈ‌শিষ্ট্য যার সৃ‌ষ্টি বা ধ্বংস নেই , এক রূপ থে‌কে অন্য রূপ নি‌তে পা‌রে এবং এক বস্তু থে‌কে অন্য বস্তুতে যেতে পারে। বিখ্যাত E=mc² অনুযা‌য়ী শ‌ক্তি পদা‌র্থে নি‌হিত থাক‌তে পা‌রে । যেমন ফিসন বি‌ক্রিয়া । কাজ বা কার্য হচ্ছে বল(force) ও বলের দিকে সরণের (displacement) গুণফল। কৃতকাজের পরিমাণ দিয়েই শক্তি পরিমাপ করা হয়। অর্থাৎ বস্তুর শক্তি হচ্ছে ঐ বস্তু মোট যতখানি কাজ করতে পারে। সুতরাং কাজের একক ও শক্তির একক অভিন্ন - জুল। ১ জুল = ১ নিউটনХ ১ মিটার।

শক্তির বিভিন্ন প্রাকৃতিক রূপ আছে। মোটামুটিভাবে শক্তির নয়টি রূপ দিয়ে প্রাকৃতিক সব ঘটনার ব্যাখ্যা দেয়া হয়শক্তির রূপগুলি হলঃ

·         যান্ত্রিক শক্তি

·         আলোক শক্তি

·         শব্দ শক্তি

·         তাপ শক্তি

·         চৌম্বক শক্তি

·         তড়িৎ শক্তি

·         নিউক্লিয় শক্তি

·         রাসায়নিক শক্তি

·         সৌর শক্তি

·         মহাকর্ষ শক্তি

শক্তির রূপগুলোকে সাধারণত সংশ্লিষ্ট বল অনুসারে অভিহিত করা হয়। (সূত্রঃ উইকিপিডিয়া, এনসাক্লোপিডিয়া)।

 শক্তির সংরক্ষণশীলতা নীতি

পদার্থবিজ্ঞানের ভাষায় শক্তি বলতে কাজ করার সামর্থ্যকে বুঝায়। কাজ বা কার্য হচ্ছে বল(force) ও বলাভিমুখী সরণের(displacement) গুণফল। কৃতকাজের পরিমাণ দিয়েই শক্তি পরিমাপ করা হয়। অর্থাৎ বস্তুর শক্তি হচ্ছে ঐ বস্তু মোট যতখানি কাজ করতে পারে। সুতরাং কাজের একক ও শক্তির একক অভিন্ন - জুল। ১ জুল = ১ নিউটন Х ১ মিটার। শক্তি একটি অদিক রাশি।

শক্তির স্বরূপঃ

শক্তির বিভিন্ন রূপ আছে। মোটামুটিভাবে শক্তির নয়টি রূপ দিয়ে প্রাকৃতিক সব ঘটনার ব্যাখ্যা দেয়া হয়। শক্তির রূপগুলি হলঃ

যান্ত্রিক শক্তি আলোক শক্তি শব্দ শক্তি তাপ শক্তি চৌম্বক শক্তি তড়িৎবিদ্যুৎ শক্তি নিউক্লিয় শক্তি রাসায়নিক শক্তি সৌর শক্তি শক্তির রূপগুলোকে সাধারণত সংশ্লিষ্ট বল অনুসারে ডাকা হয়।

শক্তির সংরক্ষণশীলতা নীতি

শক্তির যে কোন রূপকে অন্য যে কোন রূপে রূপান্তরিত করা যায়, কিন্তু মোট শক্তির পরিমাণ একই থাকে। একে শক্তির সংরক্ষণশীলতা নীতি বা শক্তির নিত্যতা সূত্র বলা হয়। শক্তির সংরক্ষণশীলতা নীতিকে এভাবে বিবৃত করা যায়ঃ

শক্তির সৃষ্টি বা বিনাশ নেই, শক্তি কেবল একরূপ থেকে অপর এক বা একাধিকরূপে পরিবর্তিত হতে পারে। মহাবিশ্বের মোট শক্তির পরিমাণ নির্দিষ্ট ও অপরিবর্তনীয়।

শক্তি একরূপ থেকে অন্য রূপে পরিবর্তিত হলে শক্তির কোন ক্ষয় হয় না। একটি বা একাধিক বস্তু যে পরিমাণ শক্তি হারায়, অন্য এক বা একাধিক বস্তু ঠিক একই পরিমাণ শক্তি পায়। নতুন করে কোন শক্তি সৃষ্টি হয় না বা কোন শক্তি ধ্বংসও হয়না। সুতরাং এই মহাবিশ্ব সৃষ্টির মুহূর্তে যে পরিমাণ শক্তি ছিল, এখনও ঠিক সেই পরিমাণ শক্তিই আছে।

কাজ-শক্তি উপপাদ্য কোন বস্তুর উপর কৃত কাজ তার গতিশক্তির পরিবর্তনের সমান। অর্থাৎ যেহেতু কোন বস্তুর উপর কাজ করলে তা বস্তুকে গতি দেয়, আবার যেহেতু ঐ গতিকে কাজে রূপান্তর করা সম্ভব (তাকে থামিয়ে দিতে গিয়ে), সেহেতু আমরা বলি ঐ বস্তুতে (গতি)শক্তি এসেছে।

কাজ-শক্তি উপপাদ্য

কোন বস্তুর উপর কৃত কাজ তার গতিশক্তির পরিবর্তনের সমান। অর্থাৎ যেহেতু কোন বস্তুর উপর কাজ করলে তা বস্তুকে গতি দেয়, আবার যেহেতু ঐ গতিকে কাজে রূপান্তর করা সম্ভব (তাকে থামিয়ে দিতে গিয়ে), সেহেতু আমরা বলি ঐ বস্তুতে (গতি)শক্তি এসেছে।

 (সূত্রঃhttps://bn.wikipedia.org/wiki/শক্তি)।


 

Comments

Popular posts from this blog

ইসলামী বিজ্ঞান-প্রযুক্তি তথ্য ব্যাংক (বাংলাদেশ)

Science-Tech News

আধুনিক বৈজ্ঞানিক সৃষ্টিতত্ত্বের আলোকে মহাবিশ্বের জন্মোতিহাস