ঘূর্ণিঝড়, ভূমিকম্প, লাভা উদগীরণ, দাবানল
হাইজেনবার্গের অনিশ্চয়তাবাদী সম্ভাবনা তত্ত্ব
ঘূর্ণিঝড় একটা
মধ্যপন্থী বলবিদ্যার অনুসারী। এটি না পুরোপুরি নিউটনীয় বলবিদ্যার পরিপূরক; না হাইজেনবার্গীয় অনিশ্চয়তা তত্ত্বের বরং কখনও নিউটনীয়
বলবিদ্যার চমৎকার প্রতিফলন ঘটিয়ে যথাসময়ে প্রবলবেগে ঘূর্ণিঝড় উপকূলীয় এলাকায় আঘাত
হানে, আবার কখনও হাইজেনবার্গীয় অনিশ্চয়তার সাথে সংগত রেখে ঘূর্ণিঝড় দূর্বল হয়ে
লঘুচাপে পরিণত হয়ে সাগরে বিলীন হয়ে যায়।
বাংলাদেশের আবহাওয়া
দপ্তর মধ্য বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়ের গতিবেগ নিরূপন সাপেক্ষেই আবহাওয়ার
পূর্বাভাষ দেয় এই বলে, ঘূর্ণিঝড়টি আগামীকাল ভোর........টার
মধ্যে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খুলনা,
বাগেরহাট,পটুয়াখালী সমুদ্রোপকূলবর্তী
এলাকা দিয়ে ঘন্টায় ২৬০ কিঃমিঃ বেগে বয়ে যেতে পারে।
লক্ষ্যণীয় যে, রেল কর্তৃপক্ষ ১. ট্রেন ছাড়ার নির্দিষ্টতা এবং ২. ট্রেনের ইনজিনের
সক্ষমতা সাপেক্ষে যে নির্দিষ্ট টাইম টেবল নির্ধারণ করেন।
তাই আবহাওয়ার পূর্বাভাষের মতো বলা হয় না, ৭টার মধ্যে পৌঁছতে পারে। বরং সুনির্দিষ্টভাবে বলা হয় ট্রেন ছাড়বে রাত ১১ টায় পৌঁছবে সকাল ৭টায় টায়। কিন্তু আবহাওয়ার ক্ষেত্রে রয়েছে ব্যতিক্রম। তাতে বলা হয়ঃ ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে (May be possible)। কারণ, অধিকাংশ ঘূর্ণিঝড় মাঝপথে অজ্ঞাতকারণে গতিবেগ কমে গিয়ে কিংবা গতিপথ পরিবর্তনের ফলে ঘোষিত প্রত্যাশিত উপকূলীয় এলাকায় আদৌ ঘূর্ণিঝড় প্রবাহিত হয় না বরং দূর্বল হয়ে সাধারণতঃ একসময় গভীর সমুদ্রে বিলীন হয়ে যায়। মাঝে মধ্যে আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাষ যথাসময়ে বাস্তব রূপ লাভ করে থাকে। প্রায় প্রতি বছরেই বছরে অন্ততঃ প্রথম (এপ্রিল-মে) এবং শেষের দিকে (নভেম্বর-ডিসেম্বর) একাধিকবার নিম্নচাপের সৃষ্টি হয় কিন্তু আঘাত হানে বছরওয়ারী ব্যাপক ব্যবধানে যার তুলনামূলক চিত্র নিম্নরূপঃ·
সিরিয়াল নং | তারিখ/বছর | সংকটের প্রকার | প্রাসঙ্গিক তথ্য | তথ্যসূত্র/ সূত্র তালিকা |
|
১ | ৩–৫ জুন ১৮৩৯ | ঘূর্ণিঝড় | উপকূল: বঙ্গোপসাগরের উপর দিয়ে বয়ে যায় (বাংলাদেশের কূল ঘেঁসে) অপর বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। | · আন্তর্জাতিকভাবে উন্নয়নের স্বার্থে আমেরিকান পররাষ্ট্র দুর্যোগ সহায়তা সংস্থার জন্যে তৈরি ১৯৭৯ সালের ঘূর্ণিঝড়ের তালিকা, বঙ্গোপসাগরের প্রলয়ঙ্করী ঝড়সমূহ, ওয়াশিংটন ডিসি ২০৫২৩- এফ হ্যন্ডারসন। |
২ | ১৯-২১ সেপ্টেম্বর ১৮৩৯ | ঘূর্ণিঝড় | উপকূল: ঝড়টি সুন্দরবন উপকূলের উত্তর পাস দিয়ে বয়ে যায়, কোলকাতা ও বরিশাল এর মাঝদিয়ে। অপর বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। | · আন্তর্জাতিকভাবে উন্নয়নের স্বার্থে আমেরিকান পররাষ্ট্র দুর্যোগ সহায়তা সংস্থার জন্যে তৈরি ১৯৭৯ সালের ঘূর্ণিঝড়ের তালিকা, বঙ্গোপসাগরের প্রলয়ঙ্করী ঝড়সমূহ, ওয়াশিংটন ডিসি ২০৫২৩- এফ হ্যন্ডারসন। |
৩ | ১১ মে ১৮৪৪ | ঘূর্ণিঝড় (ঝড়ো বাতাস) | উপকূল: নোয়াখালী ও চট্টগ্রাম উপকূল দিয়ে অতিক্রম করে। অপর বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। | · আন্তর্জাতিকভাবে উন্নয়নের স্বার্থে আমেরিকান পররাষ্ট্র দুর্যোগ সহায়তা সংস্থার জন্যে তৈরি ১৯৭৯ সালের ঘূর্ণিঝড়ের তালিকা, বঙ্গোপসাগরের প্রলয়ঙ্করী ঝড়সমূহ, ওয়াশিংটন ডিসি ২০৫২৩- এফ হ্যন্ডারসন। |
৪ | ১২–১৩ মে ১৮৪৯ | ঘূর্ণিঝড় (ঝড়ো বাতাস) | উপকূল: ঘূর্ণিঝড়টি চট্টগ্রাম উপকূলের উপর দিয়ে অতিক্রম করে। অপর বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। | · আন্তর্জাতিকভাবে উন্নয়নের স্বার্থে আমেরিকান পররাষ্ট্র দুর্যোগ সহায়তা সংস্থার জন্যে তৈরি ১৯৭৯ সালের ঘূর্ণিঝড়ের তালিকা, বঙ্গোপসাগরের প্রলয়ঙ্করী ঝড়সমূহ, ওয়াশিংটন ডিসি ২০৫২৩- এফ হ্যন্ডারসন। |
৫ | ২৩–২৮এপ্রিল ১৮৫০ | ঘূর্ণিঝড় | উৎপত্তি: উৎপত্তিস্থল পশ্চিম নিকবর। উপকূল: এটি উত্তরদিক থেকে বাংলা হয়ে পশ্চিম নিকবরে সরে যায়। অপর বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। | · আন্তর্জাতিকভাবে উন্নয়নের স্বার্থে আমেরিকান পররাষ্ট্র দুর্যোগ সহায়তা সংস্থার জন্যে তৈরি ১৯৭৯ সালের ঘূর্ণিঝড়ের তালিকা, বঙ্গোপসাগরের প্রলয়ঙ্করী ঝড়সমূহ, ওয়াশিংটন ডিসি ২০৫২৩- এফ হ্যন্ডারসন। |
৬ | ১২–১৫ মে ১৮৫২ | ঘূর্ণিঝড় | উৎপত্তি: উৎপত্তিস্থল ১৫°উত্তর। উপকূল: এটি উত্তর দিকে সরে এসে সুন্দরবনের উপর দিয়ে অতিক্রম করে, কেন্দ্র প্রবাহিত হয় ৩৯ মাইল (৬৩ কিমি) পূর্ব কোলকাতা অপর বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। | · আন্তর্জাতিকভাবে উন্নয়নের স্বার্থে আমেরিকান পররাষ্ট্র দুর্যোগ সহায়তা সংস্থার জন্যে তৈরি ১৯৭৯ সালের ঘূর্ণিঝড়ের তালিকা, বঙ্গোপসাগরের প্রলয়ঙ্করী ঝড়সমূহ, ওয়াশিংটন ডিসি ২০৫২৩- এফ হ্যন্ডারসন। |
৭ | ১৩–১৭ মে ১৮৬৯ | ঘূর্ণিঝড় | ঝড়টি কেপ নিগ্রেস থেকে উত্তর-পশ্চিমদিকে সরে বাংলার দিকে এগিয়ে যায় এবং বাংলার উপকূলের উপর দিয়ে বয়ে যায়। অপর বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। | · আন্তর্জাতিকভাবে উন্নয়নের স্বার্থে আমেরিকান পররাষ্ট্র দুর্যোগ সহায়তা সংস্থার জন্যে তৈরি ১৯৭৯ সালের ঘূর্ণিঝড়ের তালিকা, বঙ্গোপসাগরের প্রলয়ঙ্করী ঝড়সমূহ, ওয়াশিংটন ডিসি ২০৫২৩- এফ হ্যন্ডারসন। |
৮ | ২৪ অক্টোবর ১৮৯৭ | ঘূর্ণিঝড় | উপকূল: চট্টগ্রামের নিকটবর্তী দ্বীপ কুতুবদিয়া। ক্ষয়ক্ষতি: ১৪,০০০ জন । পরবর্তীতে কলেরা মহামারী আকার ধারণ করে এবং ১৮,০০০ জন মারা যায়। |
৯ | ১৬ অক্টোবর ১৯০৯ | ঘূর্ণিঝড় | উপকূল:খুলনা ক্ষয়ক্ষতি: ৬৯৮ জন মানুষ ও ৭০,৬৫৪ গবাদি পশু মারা যায়। |
১৭–১৯ মে ১৯৪৮ | ঘূর্ণিঝড় | উপকূল: চট্টগ্রাম ও নোয়াখালী এর মধ্যের ব-দ্বীপ। ক্ষয়ক্ষতি: আনুমানিক মানুষ ১,২০০ জন এবং গবাদিপশু ২০,০০০। |
১৬–১৯ মে ১৯৫৮ | ঘূর্ণিঝড় | উপকূল: বরিশাল ও নোয়াখালীর পূর্বপার্শ্বের পূর্ব-পশ্চিম মেঘনা নদীর মোহনা। ক্ষয়ক্ষতি: মানুষ ৮৭০ জন এবং ১৪,৫০০ গবাদি পশু। একইসাথে ক্ষেতের ফসল বিনষ্ট হয়। |
২১–২৪ অক্টোবর ১৯৫৮ | ঘূর্ণিঝড় | উপকূল: চট্টগ্রাম ক্ষয়ক্ষতি: আনুমানিক ১ লক্ষ মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়ে। |
৯–১০ অক্টোবর ১৯৬০ | তীব্র ঘূর্ণিঝড় | উপকূল: মেঘনা নদীর পূর্ব মোহনা, নোয়াখালী, বাকেরগঞ্জ, ফরিদপুর এবং পটুয়াখালী। বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ: ২০১ কিমি/ঘণ্টা |
৩০–৩১ অক্টোবর ১৯৬০ | তীব্র ঘূর্ণিঝড় | উপকূল: চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, বাকেরগঞ্জ, ফরিদপুর, পটুয়াখালী এবং মেঘনা মোহনার পূর্ব পাড়। বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ: ২১০ কিমি/ঘণ্টা |
৯ মে ১৯৬১ | তীব্র ঘূর্ণিঝড় | উপকূল: বাগেরহাট এবং খুলনা সর্বোচ্চ বাতাসের গতিবেগ: ১৬১ কিমি/ঘণ্টা |
২৬–৩০ অক্টোবর ১৯৬২ | তীব্র ঘূর্ণিঝড় | উপকূল: ফেনি সর্বোচ্চ বাতাসের গতিবেগ: ১৬১ কিমি/ঘণ্টা |
২৮–২৯ মে ১৯৬৩ | তীব্র ঘূর্ণিঝড় | উপকূল: চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, কক্সবাজার এবং সন্দ্বীপ, কুতুবদিয়া, হাতিয়া এবং মহেশখালীর উপকূলীয় অঞ্চল সমূহ। সর্বোচ্চ বাতাসের গতিবেগ: ২০৩ কিমি/ঘণ্টা (১৬৪ কিমি/ঘণ্টা at কক্সবাজার) |
উপকূল: চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, বাকেরগঞ্জ, ফরিদপুর, পটুয়াখালী এবং মেঘনা মোহনার পূর্ব পাড়। বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ: ২১০ কিমি/ঘণ্টা |
উপকূল: বাগেরহাট এবং খুলনা সর্বোচ্চ বাতাসের গতিবেগ: ১৬১ কিমি/ঘণ্টা |
উপকূল: ফেনি সর্বোচ্চ বাতাসের গতিবেগ: ১৬১ কিমি/ঘণ্টা |
উপকূল: চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, কক্সবাজার এবং সন্দ্বীপ, কুতুবদিয়া, হাতিয়া এবং মহেশখালীর উপকূলীয় অঞ্চল সমূহ। সর্বোচ্চ বাতাসের গতিবেগ: ২০৩ কিমি/ঘণ্টা (১৬৪ কিমি/ঘণ্টা at কক্সবাজার) |
১১–১২ মে ১৯৬৫ | ঘূর্ণিঝড় | উপকূল: বরিশাল এবং বাকেরগঞ্জ। সর্বোচ্চ বাতাসের গতিবেগ: ১৬২ কিমি/ঘণ্টা | |
১৪–১৫ ডিসেম্বর ১৯৬৫ | ঘূর্ণিঝড় | উপকূল: কক্সবাজার ও পটুয়াখালীর নিকটবর্তী। সর্বোচ্চ বাতাসের গতিবেগ: ২১০ কিমি/ঘণ্টা কক্সবাজারে। | |
১ অক্টোবর ১৯৬৬ | ঘূর্ণিঝড় | উপকূল: সন্দ্বীপ, বাকেগঞ্জ, খুলনা, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী এবং কুমিল্লা। জোয়ারের উচ্চতা: ৪.৭-৯.১ মিটার | |
৭-১৩ নভেম্বর: ১৯৭০ ভোলা ঘূর্ণিঝড় | তীব্র ঘূর্ণিঝড় | উপকূল: সমগ্র বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) চটগ্রাম, বরগুনা, খেপুপাড়া, পটুয়াখালী, চর বোরহানুদ্দিনের উত্তর পাশ, চর তাজুমুদ্দিন এবং মাইজদি ও হরিণঘাটা এর দক্ষিণ পাশ সবচাইতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সরকারী হিসাব অনুসারে মৃত্যুর সংখ্যা ৫ লক্ষ কিন্তু প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি ধারণা করা হয়। ক্ষতির মধ্যে আনুমানিক ২০,০০০ মাছ ধরা নৌকা, শস্য ও সম্পদ। গবাদিপশু মৃত্যু প্রায় ১০ লক্ষে, বাড়িঘর ৪ লক্ষ এবং ৩,৫০০ শিক্ষাকেন্দ্র বিধ্বস্ত হয়। সর্বোচ্চ বাতাসের গতিবেগ: ২২২ কিমি/ঘণ্টা। |
৫–৬ নভেম্বর ১৯৭১ | ঘূর্ণিঝড় | উপকূল: চট্টগ্রামের উপকূলীয় অঞ্চল ক্ষয়ক্ষতি: অজানা | --- | |
২৮–৩০ নভেম্বের ১৯৭১ | ঘূর্ণিঝড় | উপকূল: সুন্দরবন এর নিকটবর্তী সর্বোচ্চ বাতাসের গতিবেগ: ৯৭–১১৩ কিমি/ঘণ্টা। | --- | |
৬–৯ ডিসেম্বর ১৯৭৩ | ঘূর্ণিঝড় | উপকূল: সুন্দরবন এর নিকটবর্তী পটুয়াখালী ও তার নিকটবর্তী এলাকা সমূহ প্রবল জলোচ্ছ্বাসে নিমজ্জিত হয়। | --- | |
১৩–১৫ অগাস্ট ১৯৭৪ | ঘূর্ণিঝড় | উপকূল:খুলনা সর্বোচ্চ বাতাসের গতিবেগ: ৮০.৫ কিমি/ঘণ্টা | --- | |
২৪–২৮ নভেম্বের ১৯৭৪ | ঘূর্ণিঝড় | উপকূল: কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের নিকটবর্তী। সর্বোচ্চ বাতাসের গতিবেগ: ১৬১ কিমি/ঘণ্টা | --- |
(সূত্রঃ উইকিপিডিয়া)
সন ভিত্তিক ঘূর্ণঝড়
১৯৮৮ এর ঘূর্ণিঝড়:
১৯৮৮ সালের নভেম্বরের ঘূর্ণিঝড় লণ্ডভণ্ড করে দিয়ে যায় যশোর, কুষ্টিয়া, ফরিদপুর এবং বরিশাল ও খুলনা অঞ্চলের উপকূলীয় এলাকায়৷ বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৬২ কিলোমিটার৷ এই ঘূর্ণিঝড়ে পাঁচ হাজার ৭০৮ জন প্রাণ হারান৷
১৯৯১ এর ঘূর্ণিঝড়:
ভারত মহাসাগরে উৎপত্তি হওয়া প্রবল এই ঘূর্ণিঝড়ে বাতাসের গতি ছিল ঘণ্টায় ২২৫ কিলোমিটার৷ এটি মূলত চট্টগ্রাম ও বরিশাল উপকূলে আছড়ে পড়েছিল৷ ঝড়ের প্রভাবে ১২ থেকে ২২ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস হয়৷ ২৯-৩০ এপ্রিলের এই ঘূর্ণিঝড়কে আখ্যা দেওয়া হয় ‘শতাব্দীর প্রচণ্ডতম ঘূর্ণিঝড়’ হিসেবে৷ এতে প্রায় এক লাখ ৩৮ হাজার মানুষ মারা গিয়েছিল বলে জানা যায়৷ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল এক কোটির বেশি মানুষ৷
১৯৯৭ এর ঘূর্ণিঝড়:
১৯৯৭ সালের ১৯ মে বাংলাদেশের সীতাকুণ্ড ও এর আশেপাশের এলাকায় আরেকটি ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়ে৷ ঘণ্টায় ২৩২ কিলোমিটার বেগের বাতাসের সঙ্গে ১৫ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে উপকূলীয় এলাকা প্লাবিত হয়৷ এরপর আরো কয়েকটি ঘূর্ণিঝড় আঘাত হেনেছিল৷ তবে সেগুলো বাতাসের গতিবেগ ছিল কম৷
ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের ইতিহাস
২০০০ সাল থেকে ঝড়ের নামকরণের জন্য নিয়ম বানানো হয়৷ তাতে ওয়ার্ল্ড মেটেরোলজিক্যাল অর্গানাইজেশন ও ইউনাইডেট নেশনস ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল কমিশন ফর এশিয়ার সদস্য দেশগুলি ঘূর্ণিঝড়ের নাম দেওয়া শুরু করে৷ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে আছে ভারত, বাংলাদেশ, মালদ্বীপ, মিয়ানমার, ওমান, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ড৷ সব দেশের কাছ থেকে ঝড়ের নাম চাওয়া হয়৷ তার থেকে দেশ প্রতি ৮টি করে নাম বাছাই করে মোট ৬৪টি ঝড়ের নামকরণ করা হয়৷ সেই তালিকার শেষ নাম ‘আমফান’৷
ঘূর্ণিঝড় সিডর:
২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর দেশের দক্ষিণ উপকূলে আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড় সিডর প্রায় ছয় হাজার মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল৷ যদিও রেডক্রিসেন্টের হিসাব মতে প্রাণহানির সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার৷ উত্তর ভারত মহাসাগরে আন্দামান নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের কাছে সৃষ্ট এ ঝড়ে বাতাসের গতিবেগ ছিল ২৬০ থেকে ৩০৫ কিলোমিটার৷ সিডর খুলনা ও বরিশাল এলাকায় তাণ্ডব চালায়৷ সমুদ্র থেকে উঠে আসা ১৫ থেকে ২০ ফুট উঁচু জলোচ্ছ্বাসের তোড়ে সব কিছু ভেসে যায়৷ ঝড়ে তিন হাজরের বেশি মানুষ মারা যায়৷ ক্ষতিগ্রস্ত হয় ৩২টি জেলার ২০ লাখ মানুষ৷ উপকূলীয় এলাকায় প্রায় ছয় লাখ টন ধান নষ্ট হয়ে যায়৷ সুন্দরবনের প্রাণীদের পাশাপাশি অসংখ্য গবাদিপশু মারা যায় ৷
ইতিহাসের সবচেয়ে বিধ্বংসী আটটি ঝড়
নার্গিস (মিয়ানমার)
দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়গুলোর মধ্যে একটি হলো নার্গিস৷ ২০০৮ সালের মে মাসে যেটি মিয়ানমারে আঘাত হানে৷ এতে প্রাণ হারায় ১ লাখ ৪০ হাজারেরও বেশি মানুষ৷ ৪ লাখ ৫০ হাজার ঘর-বাড়ি পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়৷
ঘূর্ণিঝড় আইলা:
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও খুলনা উপকূলে ২০০৯ সালে ২৫ মে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় ‘আইলা'৷ এই ঘূর্ণিঝড় ভারতের ১৪৯ জন ও বাংলাদেশের ১৯৩ জনের প্রাণ কেড়ে নেয়৷ বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাংশে উপকূলে প্রায় তিন লাখ মানুষ গৃহহীন হয়৷
ঘূর্ণিঝড় মহাসেন:
ঘূর্ণিঝড় ‘মহাসেন’ ২০১৩ সালের ১৬ মে নোয়াখালী ও চট্টগ্রাম উপকূলে আঘাত হানে৷ এটির বাতাসের গতি ছিল ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার৷ এই ঝড় বাংলাদেশে ১৭ জনের প্রাণ কেড়ে নেয়৷
ঘূর্ণিঝড় কোমেন:
ঘূর্ণিঝড় কোমেন ২০১৫ সালের ৩০ জুলাই চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে আঘাত হানে৷ বাতাসের গতি ছিল ৬৫ কিলোমিটার৷ কোমেনের প্রভাবে মিয়ানমার, বাংলাদেশ ও ভারতে প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টিপাত হয়েছিল৷
ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু:
রোয়ানু একটি ছোট ঘূর্নিঝড়, যা ২০১৬ সালে ২১ মে বাংলাদেশের উপকূল অঞ্চলে এবং ভারতে আংশিক অঞ্চলে আঘাত হানে৷ ধারণা করা হয়, ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর ব্যাপ্তি ছিল দুটি বাংলাদেশের সমান আকৃতির৷ রোয়ানু-র আঘাতে চট্টগ্রামে ২৬ জনের মৃত্যু হয়৷
ঘূর্ণিঝড় মোরা:
উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় মোরা ২০১৭ সালের ৩০ মে ১৪৬ কিলোমিটার বাতাসের গতিতে কক্সবাজার উপকূলে আঘাত হানে৷ ঝড়ের তাণ্ডবে হাজার হাজার কাঁচা ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে যায়৷ কক্সবাজারে বিদ্যুৎব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে৷ জমির ফসল এবং লবন চাষীদের জমাকৃত লবন নষ্ট হয়ে যায়৷ দুজন নারীসহ তিনজন মারা যায়৷
ঘূর্ণিঝড় ফণী:
২০১৯ সালের ৩ মে বঙ্গপোসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ফণীর আঘাতে বাংলাদেশে নয় জনের মৃত্যু হয়৷ তবে প্রাণহানি কম হলেও ক্ষয়ক্ষতির পরিমান ছিল অনেক বেশি৷ সরকারি হিসাব মতে, ঘূর্ণিঝড় ফণীর কারণে ঘরবাড়ি, বাঁধ, সড়ক ও কৃষিতে ৫৩৬ কোটি ৬১ লাখ ২০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়৷
ঘূর্ণিঝড় বুলবুল:
বার বার দিক বদল করে ২০১৯ সালের ৯ নভেম্বর অতিপ্রবল এই ঘূর্ণিঝড় বুলবুল ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার সাগর দ্বীপ উপকূলে আঘাত হানার পর স্থলভাগ দিয়ে বাংলাদেশে আসায় ক্ষয়ক্ষতি আশঙ্কার চেয়ে কম হয়৷ ঝড়ে মারা যায় ২৪ জন৷ ৭২ হাজার ২১২ টন ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হয়, যার আর্থিক মূল্য ২৬৩ কোটি পাঁচ লাখ টাকা৷ ক্ষতি হয়েছে সুন্দরবনেরও৷
সূত্রঃhttps://www.dw.com/bn//বাংলাদেশে-আঘাত-হানা-যত-ঘূর্ণিঝড়/a-53504181
বছর/দশক ও শতাব্দীওয়ারি
ঘূর্ণিঝড়ের তুলনামূলক ব্যবধান নিম্নরূপঃ
বাংলাদেশ ঝড়ের দেশ, জলোচ্ছ্বাসের দেশ। ইতিহাসের বিভিন্ন সময়
এই বঙ্গ ভূখণ্ডে ঘটে গেছে ভয়ংকরতম কিছু ঘূর্ণিঝড়। বর্তমান বাংলাদেশ ইতিহাসের
বিভিন্ন সময় বিভিন্ন নামে পরিচিত থাকলেও এ ঘূর্ণিঝড়গুলো এ অঞ্চলে সংঘটিত হয়েছিল।
মানুষের মৃত্যুর তথ্য বিবেচনা করে এ তালিকা তৈরি করা হয়েছে। উল্লেখ্য, বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্যে মৃত মানুষের সংখ্যার কিছু হেরফের হতে পারে।
১. ভোলা সাইক্লোন
১২-১৩ নভেম্বর, ১৯৭০
মৃতের সংখ্যা: সরকারি
হিসাবে ৩ লাখ। বেসরকারি হিসাবে ৫ লাখ।
গত ৫০ বছরে বাংলাদেশের
ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ এবং প্রাণঘাতী ঘূর্ণিঝড় এটি। সাধারণত ১৯৭০ সালের এই ঝড় ‘ভোলা সাইক্লোন’ নামে
পরিচিত। এটি ছিল সিম্পসন স্কেলে ‘ক্যাটাগরি ৩’ মাত্রার ঘূর্ণিঝড়। বঙ্গোপসাগরে এই ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয়েছিল ৮ নভেম্বর।
ধীরে ধীরে এটি শক্তিশালী হয় এবং উত্তর দিকে এগিয়ে আসতে থাকে। ১১ নভেম্বর এটির
গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৮৫ কিলোমিটার বা ১১৫ মাইল। জলোচ্ছ্বাসের সর্বোচ্চ উচ্চতা ছিল
প্রায় ১০.৬ মিটার। এই গতিতেই এটি উপকূলে আঘাত করে। এই ঝড়ের কারণে সৃষ্ট
জলোচ্ছ্বাসে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের দক্ষিণ উপকূলীয় অঞ্চল ও দ্বীপগুলো প্লাবিত
হয়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় চট্টগ্রাম, বরগুনা, খেপুপাড়া, পটুয়াখালী, চর বোরহানউদ্দিন, চর তজুমদ্দিন, মাইজদী ও হরিণঘাটায়। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ছিল ভোলার তজুমদ্দিন
উপজেলা। তজুমদ্দিনের তখনকার জনসংখ্যা ১ লাখ ৬৭ হাজারের মধ্যে ৭৭ হাজার জন প্রাণ
হারায় সে ঝড়ে।
২. ১৫৮২ সালের ঘূর্ণিঝড়
মৃতের সংখ্যা: ২ লাখ
আইন-ই-আকবরি, রিয়াস-উস-সালাতিন এবং বিভিন্ন প্রাচীন
নথিপত্রের সূত্র উল্লেখ করে সার্ক প্রকাশিত (১৯৯৮) একটি গবেষণা জানাচ্ছে, ১৫৮২ সালে বাকেরগঞ্জ অঞ্চলে একটি প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়েছিল। এই
ঘূর্ণিঝড়ের বিস্তারিত তথ্য জানা যায় না।
৩. গ্রেট বাকেরগঞ্জ
সাইক্লোন
৩১ অক্টোবর-১ নভেম্বর, ১৮৭৬
মৃতের সংখ্যা: ২ লাখ
বর্তমান বরিশাল জেলার একটি
উপজেলা হিসেবে পরিচিত হলেও বাকেরগঞ্জ ছিল ব্রিটিশ আমলের একটি জেলা। এই বাকেরগঞ্জ
এবং সংলগ্ন অঞ্চলে ১৮৭৬ সালে একটি প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়েছিল। বাংলাপিডিয়া
এই ঝড়ের তারিখ উল্লেখ করেছে ৩১ অক্টোবর এবং সার্ক (১৯৯৮) প্রকাশিত একটি গবেষণায়
উল্লেখ করা হয়েছে ১ নভেম্বর। মানুষ ও গবাদিপশুর মৃত্যুর হার, ফসল এবং অন্যান্য সম্পদহানির ক্ষয়ক্ষতির
পরিমাণ বিবেচনা করে এই ঝড়কে বলা হয় ‘গ্রেট বাকেরগঞ্জ
সাইক্লোন’।
৪. ১৯৯১ সালের প্রলয়ংকরী ঝড়
২৫-৩০ এপ্রিল, ১৯৯১
মৃতের সংখ্যা: প্রায় ১ লাখ
৩৮ হাজার
১৯৯১ সালের ২২ এপ্রিল মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বঙ্গোপসাগরে একটি গভীর নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়। ২৪ এপ্রিল নিম্নচাপটি ০২বি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয় এবং উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হতে থাকে। অগ্রসর হওয়ার সময় এটি আরও শক্তিশালী হয়। ২৮ ও ২৯ এপ্রিল এটির তীব্রতা বৃদ্ধি পায় এবং এর গতিবেগ পৌঁছায় ঘণ্টায় ১৬০ মাইলে। ২৯ এপ্রিল রাতে এটি চট্টগ্রামের উপকূলবর্তী অঞ্চলে ঘণ্টায় ১৫৫ মাইল বেগে আঘাত করে। স্থলভাগে আক্রমণের পর এর গতিবেগ ধীরে ধীরে কমতে থাকে এবং ৩০ এপ্রিল এটি বিলুপ্ত হয়। এই ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বাংলাদেশের ১৯টি জেলার ১০২টি উপজেলা। তবে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় সন্দ্বীপ, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, কুতুবদিয়া, খেপুপাড়া, ভোলা, টেকনাফ। ১৯৯১ সালের এই ঝড়ে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৮২ জন মৃত্যুবরণ করে এবং প্রায় সমপরিমাণ মানুষ আহত হয়।
৫. ১৮২২ সালের ঘূর্ণিঝড়
জুন, ১৮২২
মৃতের সংখ্যা: ৫০ হাজার
ঘূর্ণিঝড়টি সংঘটিত হয়েছিল
১৮২২ সালের জুন মাসে। বরিশাল-বাকেরগঞ্জ অঞ্চলে হয়ে যাওয়া এ ঘূর্ণিঝড়ে ৫০ হাজার
মানুষের প্রাণহানি হয়। এ ছাড়া প্রায় ১ লাখ গবাদিপশু মারা যায় এ ঝড়ে।
৬. ১৭৬৭ সালের ঘূর্ণিঝড়
মৃতের সংখ্যা: ৩০ হাজার
বরিশাল-বাকেরগঞ্জের উপকূলীয়
অঞ্চলে একটি ঘূর্ণিঝড়ে ৩০ হাজার মানুষের প্রাণহানি হয়েছিল বলে জানা যায়। এ ঝড়ে
সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসের উচ্চতা ছিল ১৩ দশমিক ৩ মিটার বা ৪৩ ফুট।
৭. ১৮৩১ সালের ঘূর্ণিঝড়
৩১ অক্টোবর, ১৮৩১
মৃতের সংখ্যা: ২২ হাজার
এ ঝড়ে ভারতের ওডিশা উপকূলও
প্লাবিত হয়। জলোচ্ছ্বাসে সৃষ্টি হওয়া ঢেউয়ের সর্বোচ্চ উচ্চতা ছিল ১৫ ফুট। বাংলা ও
ভারতের উপকূলবর্তী এলাকায় এ ঝড়ে মৃত্যুবরণ করে ২২ হাজার মানুষ। এ ছাড়া এতে ৫০
হাজার গবাদিপশুর মৃত্যু রেকর্ড করা হয়।
৮. ১৯৬৩ সালের ঘূর্ণিঝড়
২৮-২৯ মে, ১৯৬৩
মৃতের সংখ্যা: সরকারি
হিসাবে ১১ হাজার ৫২০। বেসরকারি হিসাবে ২২ হাজার
এ ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়েছিল
চট্টগ্রাম, সন্দ্বীপ এবং
নোয়াখালী জেলায়। এর উৎপত্তি হয়েছিল উত্তর আন্দামান সাগরে। এটি ২৮ মে রাতে
সীতাকুণ্ড দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এর সর্বোচ্চ বাতাসের গতিবেগ রেকর্ড করা হয়
ঘণ্টায় ১৬৭ কিলোমিটার। ঢেউয়ের সর্বোচ্চ উচ্চতা ছিল ২০ ফুট।
৯. ১৯৬৫ সালের ঘূর্ণিঝড়
৯-১২ মে, ১৯৬৫
মৃতের সংখ্যা: ১৯ হাজার ২৭৯
এ ঝড় বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি
হয়ে ১১ মে মধ্যরাতে বরিশাল ও নোয়াখালী দিয়ে বাংলাদেশের উপকূল অতিক্রম করে। এ ঝড়ে
বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৬১ কিলোমিটার। জলোচ্ছ্বাসের উচ্চতা ছিল ১২
ফুট। এতে বরিশাল, নোয়াখালী,
খুলনা, যশোর, ফরিদপুর,
ঢাকা এবং চট্টগ্রাম অঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
১০. ১৯৮৮ সালের ঘূর্ণিঝড়
১৪-৩০ নভেম্বর, ১৯৮৮
মৃতের সংখ্যা: ১১ হাজার ৬৮৩
জন
এ ঝড় বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি
হয়ে খুলনার কাছে রায়মঙ্গল নদের কাছ দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এটি যশোর, কুষ্টিয়া, ফরিদপুর,
খুলনা, বরিশালের বিভিন্ন চর এবং
উপকূলবর্তী দ্বীপগুলোর ওপর দিয়ে বয়ে যায়। বাতাসের বেগ ছিল সর্বোচ্চ ঘণ্টায় ১৬২
কিলোমিটার। জলোচ্ছ্বাসের উচ্চতা ছিল সাড়ে ১৪ ফুট।
১১. ১৯৬১ সালের ঘূর্ণিঝড়
৫-৯ মে, ১৯৬১
মৃতের সংখ্যা: ১১ হাজার ৪৬৮
এ ঘূর্ণিঝড় হয়েছিল মূলত
ঢাকা, কুমিল্লা ও সংলগ্ন এলাকায়।
এ ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৬১ কিলোমিটার। এটি মেঘনার পশ্চিম মোহনা
অতিক্রম করে সকাল নয়টায়। এ ঝড়ে ঢাকা শহরের বেশির ভাগ কাঁচা ঘর ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল।
১২. উড়িরচর সাইক্লোন
২২-২৫ মে, ১৯৮৫
মৃতের সংখ্যা: ১১ হাজার ৬৯
এই ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়
চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, নোয়াখালী এবং উপকূলবর্তী দ্বীপ সন্দ্বীপ, হাতিয়া
এবং উড়িরচরে। বাতাসের গতিবেগ ছিল চট্টগ্রামে ঘণ্টায় ১৫৪ কিলোমিটার, সন্দ্বীপে ১৩৯ কিলোমিটার, কক্সবাজারে ১০৪
কিলোমিটার। সেই সঙ্গে ১৫ ফুট উঁচু জলোচ্ছ্বাস সংঘটিত হয়। এতে ১১ হাজার ৬৯ জন নিহত
হয় এবং ৯৪ হাজার ৩৭৯টি ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত ও মোট ১ লাখ ৩৫ হাজার ৩৩টি পশুসম্পদ
বিনষ্ট হয়। মোট ৭৪ কিলোমিটার সড়ক ও বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
সিডর, ২০০৭
১৩. সিডর
১৫ নভেম্বর, ২০০৭
মৃতের সংখ্যা: ১০ হাজার
(রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি)
সরকারি হিসাব: ৬ হাজার
বঙ্গোপসাগর এলাকায় সৃষ্ট
ঘূর্ণিঝড় সিডর। এটি ০৬বি টাইপ ঘূর্ণিঝড়। এ ঝড়ে বাতাসের বেগ ছিল ঘণ্টায় ২৬০
কিলোমিটার। এ কারণে সাফির-সিম্পসন স্কেল অনুযায়ী এটি ক্যাটাগরি-৫ মাত্রার
ঘূর্ণিঝড় হিসেবে চিহ্নিত। খুলনা-বরিশাল উপকূলীয় এলাকা লন্ডভন্ড করে দেওয়া ঘূর্ণিঝড়টির
সময় জলোচ্ছ্বাসের উচ্চতা ছিল ১৫ থেকে ২০ ফুট।
১৪. ১৯৬০ সালের ঘূর্ণিঝড়
৩০-৩১ অক্টোবর, ১৯৬০
মৃতের সংখ্যা: ৫,১৪৯
চট্টগ্রামে এ ঝড়ে বাতাসের
সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৯৩ কিলোমিটার। তবে চট্টগ্রামের বহির্নোঙরে থাকা এস এস
বালি নামে সুইডেনের একটি জাহাজ প্রতি ঘণ্টায় বাতাসের গতিবেগ ২০৯ কিলোমিটার রেকর্ড
করেছিল বলে জানা যায়। ৩১ তারিখ এই ঝড় বরিশাল অতিক্রম করে ১৪৮ কিলোমিটার গতিবেগে। এ
ঝড়ের কারণে সৃষ্ট ঢেউয়ের উচ্চতা ছিল ২২ ফুট।
১৫. ১৯৪১ সালের ঘূর্ণিঝড়
২২-২৬ মে, ১৯৪১
মৃতের সংখ্যা: ৫,০০০
ভোলা, বরিশাল ও নোয়াখালীর ওপর দিয়ে বয়ে
গিয়েছিল এ ঘূর্ণিঝড়। এতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল ভোলা অঞ্চল। এ ঝড়ে সৃষ্টি হওয়া
জলোচ্ছ্বাসের উচ্চতা ছিল ১০-১২ ফুট।
সূত্র: ১. দ্য ইমপ্যাক্ট অব
ট্রপিক্যাল সাইক্লোনস অন দ্য কোস্টাল রিজিয়ন অব সার্ক কান্ট্রিজ অ্যান্ড দেয়ার
ইনফ্লুয়েন্স ইন দ্য রিজিয়ন, সার্ক
মেটেরোলজিক্যাল রিসার্চ সেন্টার (এসএমআরসি), ১৯৯৮,
আগারগাঁও, ঢাকা।
Recent earthquakes
ভূমিকম্প: পূর্বাভাষবিহীন অনিশ্চিত এক আকস্মিক দূর্যোগ
ভূ-ত্বকে সঞ্চিত শক্তি হঠাৎ তরঙ্গ আকারে
বহিঃপ্রকাশের মাধ্যমে ভূমিকম্পের সৃষ্টি করে ভূমিকে কাঁপিয়ে তুলতে পারে।
ভূ-গর্ভস্থ রকের সঙ্গে বিদ্যমান ফল্টের ধাক্কায়ও ভূমিকম্প সৃষ্টি হতে পারে। যখন
দুটি প্লেট একে অপরের বিপরিতে অবস্থান করে,তখন কিছুটা আটকে থাকে।
যখন প্লেটে বিদ্যমান শিলাগুলো ভেঙে যায়,তখনই মাটিতে কম্পন
দেখা দেয়। তথ্য ও উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা যায়, যদি ভূ-গর্ভস্থ
ফল্টে পানির পরিমাণ বেড়ে যায়,তাহলে ভূমিকম্পের
ফ্রিকোয়েন্সি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
ফ্লোরিডায়
ইউনিভার্সিটি অফ মিয়ামিতে গবেষণায় দেখা যায়,অধিক বৃষ্টিপাত
ভূমিকম্পের ফ্রিকোয়েন্সি বৃদ্ধিতে সাহায্য করতে পারে। উল্লেখ্য, টানা বৃষ্টিপাতে ২০১০ সালে হাইতিতে রিখটার স্কেলে সাত মাত্রার ভূমিকম্প
আঘাত হেনে ছিল। অন্যদিকে বৃষ্টিপাতে,২০০৯ সালের দিকে
তাইওয়ানে প্রায় ছয় দশমিক চার মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। ধারণা করা হচ্ছে,
জলবায়ু পরিবর্তনে বৃষ্টিপাত,সাইক্লোন ও
ঝড়ের প্যাটার্ন যে অনাকাঙ্খিত হারে পরিবর্তিত হচ্ছে, তা
ভূমিকম্পের প্রাদুর্ভাব বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।
ভূমিকম্প
সিস্মোমিটার বা সিস্মোগ্রাফে পরিমাপ করা যায়। ১৯৬০ সালের ২২ মে দক্ষিণ চিলিতে গভীর
ও ভয়ানক যে ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল তা যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপে প্রায় ৯
দশমিক ৫ মাত্রার ছিল। ইতিহাস পর্যালোচনায় আরও দেখা যায়, ১৮১১ সালের দিকে দক্ষিণ আমেরিকায় রিখটার স্কেলে আট মাত্রার বেশি
ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল।
এ
পর্যন্ত বিশ্বে প্রায় ৩৭টির বেশি বড় ধরনের ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছে। রিখটার
স্কেলে যেগুলোর মাত্রা ছিল ৮ দশমিক ৫-এর বেশি। ওই মাত্রার ভূমিকম্পে আক্রান্ত
দেশগুলো হলো- চিলি, আমেরিকা, ইন্দোনেশিয়া,
ভারত, জাপান, আফ্রিকা,
বাংলাদেশ, কলোম্বিয়া, চীন, রাশিয়াসহ বিশ্বের বহু দেশ। বাংলাদেশে ওই
ঐতিহাসিক ভূমিকম্পটি ১৭৬২ সালের দিকে চট্টগ্রাম অঞ্চল দিয়ে প্রবেশ করেছিল।
জিওগ্রাফিক্যালি
বাংলাদেশের অবস্থান ভূমিকম্প জোনে। বাংলাদেশের চারপাশে অনেক টেকটোনিক ব্লক রয়েছে।
দেশটির নিম্নাঞ্চল বঙ্গোপসাগরের সঙ্গে সংযুক্ত রয়েছে। অন্যদিকে ইন্ডিয়ান ও
ইউরেশিয়ান প্লেটের সঙ্গে বাংলাদেশের সরাসরি সংযুক্তি রয়েছে। অন্যদিকে সি লেবেল
দেশটির কাছাকাছি হওয়ায় ভূমিকম্পের সঙ্গে সুনামিও দেখা দিতে পারে।
বাংলাদেশে
১৯০০ সালের পরবর্তী সময়ে প্রায় ১০০টির বেশি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছে। তন্মধ্যে
প্রায় ৬৫টির বেশি ভূমিকম্প ১৯৬০ সালের পরবর্তী সময়ে রেকর্ড করা হয়। পরিসংখ্যানে
দেখা যাচ্ছে, গত ৫০ বছরে বাংলাদেশে ভূমিকম্পের ফ্রিকোয়েন্সি
লাগামহীনভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ডেটা অনুযায়ী,সিলেট ও
চট্টগ্রাম অঞ্চলে ঘন ঘন ভূমিকম্প আঘাত হানে।
১৯৮৮ সালে সিলেটে মাঝারি থেকে বড় আকারের ভূমিকম্পের রিখটার স্কেলের মাত্রা
ছিল ৫ দশমিক ৮। ওই ভূমিকম্পে টেকটোনিক প্লেটের গভীরতা ছিল প্রায় ৪৫ কিলোমিটার।
বাংলাদেশে
২০২০ সালে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে দুটি ভূমিকম্প হয়েছিল,রিখটার
স্কেলে যার মাত্রা ছিল যথাক্রমে ৪ দশমিক ৪ এবং ৩ দশমিক ৭। ওই ভূমিকম্প দুটির
উৎপত্তিস্থল আগ্নেয়গিরি থেকে গড়ে ৬৮০ কিলোমিটার দূরে ছিল। ২০২১ সালে মে ও জুনেও
দুটি ভূমিকম্প ঢাকা ও তার আশপাশের এলাকায় আঘাত হানে। রিখটার স্কেলে ওই ভূমিকম্পের
মাত্রা ছিল ৩ দশমিক ৩-এর বেশি। সর্বশেষ
২০২১ সালের ২৬ নভেম্বর শুক্রবার
ভোরে এবং ২৭ নভেম্বর শনিবার বিকালে চট্টগ্রামে যথাক্রমে মাঝারি ও মৃদু ভূমিকম্প
অনুভূত হয়।
বিভিন্ন কারণে ভূমিকম্পের সৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- ভূ-গর্ভস্থ পানির উত্তোলন, প্রচুর বৃষ্টিপাত, কার্বনডাই অক্সাইডের বৃদ্ধি, বাঁধ নির্মাণ, বনায়ন ধ্বংস, জিওথার্মাল শক্তির স্থানান্তর ও জলবায়ু পরিবর্তন। জলবায়ু পরিবর্তনে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত গ্রিন হাউজ গ্যাস ক্রমান্বয়ে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে যাচ্ছে। ক্রমান্বয়ে ওই বৃদ্ধিপ্রাপ্ত বৈশ্বিক উষ্ণতা পৃথিবীতে বিদ্যমান বরফ গলিয়ে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বাড়াতে সাহায্য করছে। ওই বৃদ্ধিপ্রাপ্ত সমুদ্রের পানি, ভূ-গর্ভস্থ ফল্টে পানির পরিমাণ বাড়াতে সাহায্য করে। বনায়ন ধ্বংসে ভূমিধসের পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে। ওই ভূমিধসে ভূগর্ভস্থ মাটিতে বিদ্যমান আন্তঃশক্তি কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে টেকটোনিক প্লেটের গতি বেড়ে হঠাৎ ভূমিকম্পের আশঙ্কা দেখা দিতে পারে। আবার আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাতও ভূমিকম্প বৃদ্ধিতে সহায়তা করতে পারে। আগ্নেয়গিরিতে বিদ্যমান ‘রিং অফ ফায়ার’ ভূমিকম্পের প্রতি সংবেদনশীল। ওই রিং অফ ফায়ারে পৃথিবীর প্রায় ৯০ শতাংশ ভূমিকম্প দেখা যায়।

স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের আগ্নেয়গিরির আরও দুটি মুখ খুলে গেছে। এতে আগ্নেয়গিরিটি আরও তীব্রভাবে লাভা উদগীরণ করছে।
আগ্নেয়গিরির এই লাভাই ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে লা পালমা দ্বীপ এলাকায়। কারণ এরইমধ্যে সেখানে মোট আটটি ৩ দশমিক শূণ্য পাঁচ মাত্রার ভূমিকম্প রেকর্ড করেছেন বিজ্ঞানীরা।
আগ্নেয়গিরির
লাভা উদগীরণঃ পূর্বাভাষবিহীন এক আকস্মিক দূর্যোগ
কোনো
আগ্নেয়গিরি থেকে কোন প্রকার পূর্বাভাষ ব্যতিরেকে হঠাৎ নিঃসৃত গলিত পাথর বা তা
থেকে জমাট বাঁধা পাথরকে লাভা বলা হয়। লাভা যখন কোনো আগ্নেয়গিরি থেকে বেরিয়ে আসে
তখন এর উষ্ণতা থাকে ৭০০° সেলসিয়াস থেকে ১২০০° সেলসিয়াস।
আগ্নেয়গিরি
থেকে বিস্ফোরণহীণভাবে উদগীরিত লাভা যখন ভূপৃষ্ঠে বয়ে যায় তখন তাকে লাভা প্রবাহ
বলা হয়। এই লাভা জমাট বেঁধে আগ্নেয় শিলা
গঠন করে। বিস্ফোরণ যুক্ত উদগীরণ-এর ক্ষেত্রে আগ্নেয় ভস্ম বা আগ্নেয় ছাই এবং
আগ্নেয় বস্তুকণা বা টেফ্রা-র মিশ্রণ উদগীরিত হয়। ধারণা করা হচ্ছে, লাভা কথাটি সম্ভবত ল্যাটিন শব্দ লাবেস (labes) থেকে এসেছে, যার অর্থ গড়িয়ে পড়া।
বিশ্বের
বিভিন্ন জায়গায় একে একে জেগে উঠছে ঘুমন্ত আগ্নেয়গিরি। কঙ্গোর ভয়াবহ অগ্নুৎপাতের পর
স্পেনের লা পালমা দ্বীপে দেখা গেছে লাভার উদগীরণ। এদিকে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে
যুক্তরাষ্ট্রের ‘কিলাউয়া’ আগ্নেয়গিরিটি।
স্থানীয় সময় বুধবার (২৯ সেপ্টেম্বর/২০২১) থেকে লাভা উদগীরণ শুরু করেছে হাওয়াই
দ্বীপের এই আগ্নেয়গিরিটি। ভূ-তাত্ত্বিকরা বলছেন, লোকালয়ের
কাছাকাছি এলাকায় লাভার উদগীরণ হচ্ছেনা। হাওয়াই ভলক্যানো ন্যাশনাল পার্কেই সীমাবদ্ধ
অগ্ন্যুৎপাৎ। গত কয়েকদিনে এলাকাটিতে মৃদু ও মাঝারি ভূকম্পন রেকর্ড করা হয়।
স্পেনের
লা পালমা দ্বীপে কয়েকদিনের মৃদু ও মাঝারি ভূমিকম্পের পর ১৯ সেপ্টেম্বর প্রথম
সক্রিয় হয় আগ্নেয় শৈলশিরা ‘কুমব্রে ভিয়েজা।’ এর
লাভার স্রোত পুড়িয়ে দেয় ৬ শতাধিক ঘরবাড়ি ও স্থাপনা। ধ্বংস হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ
বেশকিছু সড়ক ও সেতুও। নিরাপত্তার খাতিরে দ্বীপের ৭ হাজার বাসিন্দাকে সরিয়ে নেয়া
হয়েছে নিরাপদ আশ্রয়ে। লাভা গিয়ে পড়েছে আটলান্টিক মহাসাগরে। ফলে ভয়াবহ পরিবেশ
বিপর্যয়ের শঙ্কা দেখা দিচ্ছে।https://www.jamuna.tv/news/269080
এদিকে ১৫০ বছর পর ঘুম ভেঙে ফের জেগে উঠেছে
ভারতের একমাত্র জীবন্ত আগ্নেয়গিরি, ব্যারেন। গোয়ার ন্যাশনাল
ইনস্টিটিউট অফ ওসোনোগ্রাফি জানিয়েছে, ক্রমাগত ধোঁয়া আর
ছাই বেরিয়ে আসছে জ্বালামুখ দিয়ে। স্থানীয় সময় সোমবার সকালের দিকে তাল
আগ্নেয়গিরি থেকে দুর্বল লাভা উদগীরণ শুরু হয়-আগ্নেয়গিরিটি রাজধানী ম্যানিলা
থেকে ৭০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত।
বিশাল
মাত্রায় ছাই উদগীরণের কারণে স্থানীয় ৮ হাজার বাসিন্দাকে সরিয়ে নেয়ার পর এই
লাভা উদগীরণ শুরু হলো। একটি লেকের মাঝখানে দ্বীপের মতো জায়গায় অবস্থিত
আগ্নেয়গিরিটি বিশ্বের সবচেয়ে ছোট আগ্নেয়গিরি এবং গত সাড়ে চারশ বছরে এটি ৩৪ বার
অগ্ন্যুৎপাত করেছে।
“তাল
আগ্নেয়গিরির মধ্যে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে যা চৌম্বকীয় উদগীরণ ঘটাতে পারে
রাত ২:৪৯ থেকে ভোর ৪:২৮-এর মধ্যে…এটি মূলত দুর্বল লাভা
যার সাথে বজ্রপাতও হতে পারে,” এক বিবৃতিতে একথা জানিয়েছে
ফিলিপিন্স ইন্সটিটিউট অব ভলকানোলজি এন্ড সিসমোলজি (ফিভোলক্স)।
কিন্তু
প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক রেনাটা সোলিডাম বলেন, ভয়ংকর বিস্ফোরণের চিহ্ন
যেমন “ছাই, পাথর, গ্যাস মিশ্রিত লাভা যা আনুভূমিকভাবে ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার বেগে”
ধাবিত হয় তা এখনো দেখা যায়নি, সিএনএন
ফিলিপিন্সকে তিনি একথা বলেন।
ফিভোলক্স
সতর্ক সংকেতের মাত্রা তিন থেকে বাড়িয়ে চার করা হয়েছে। এ ধরণের ঘটনায় সর্বোচ্চ
সতর্ক সংকেত দেয়া হয় পাঁচ।
কর্তৃপক্ষ আরো সতর্ক করে বলেছে যে, অগ্ন্যুৎপাতের কারণে সুনামির আশঙ্কা রয়েছে, যা উদগীরণের পর লাভা পানিতে পড়ার কারণে পানি স্থলভাগে চলে আসতে পারে এবং ঢেউ তৈরি করতে পারে।https://theagronews.com/ফিলিপিন্স-তাল
আগ্নেয়গিরির নতুন দুটি মুখের অবস্থান সমুদ্র থেকে মাত্র ৫০ ফুট দূরে। যে কারণে সহজেই পাথর গলা জলন্ত লাল লাভা মিশে যাচ্ছে সমুদ্রে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন দুটি মুখের বিস্ফোরণের কারণে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৬ হাজার মিটার পর্যন্ত এলাকা গ্যাস এবং ছাইয়ে ঢেকে গেছে।
গেল ১৯ সেপ্টেম্বরে অগ্নুৎপাতের পর এই দীপপুঞ্জ থেকে ছয় হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।
ঘটনাস্থলের সমূদ্র উপকূলের বাতাস পর্যবেক্ষণ করে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাতাসে সালফার ডাই অক্সাইডের মাত্রা বেড়ে গেছে। তবে তা স্বাস্থ্যের জন্য খুব বেশি হুমকির নয়।
তারপরেও স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘরে থাকার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।
এই আগ্নেয়গিরিটি এখন পর্যন্ত ৮০ ঘনমিটার গলিত শিলা নির্গত করেছে, যা ১৯৭১ সালের বিস্ফোরণের চেয়ে দ্বিগুন বলে ধারণা করছেন বিজ্ঞানীরা।
স্প্যানিশ দ্বীপপুঞ্জের প্রায় ৭০৯ হেক্টর এখন এই আগ্নেয়গিরির লাভায় ক্ষতিগ্রস্ত।
সূত্র: গার্ডিয়ান/এসবি
দাবানলঃ পূর্বাভাষবিহীন এক আকস্মিক দূর্যোগ
দাবানল (ইংরেজি: wildfire) হচ্ছে বনভূমি বা গ্রামীণ এলাকার
বনাঞ্চলে সংঘটিত একটি অনিয়ন্ত্রিত আগুন।
উষ্ণ তাপক-শিখা ক্রমশ ওপরের দিকে উঠতে থাকে আর পোড়াতে থাকে বন। এসব আগুন নিয়ন্ত্রণ করাও কঠিন হয়ে পড়ে কারণ
আগুন থামাবার জন্যে সহজে কোনো ব্ল্যাঙ্ক করিডোর তৈরি করা যায় না ফলে যতক্ষণ খুশি
আপন মনে জ্বলতে থাকে আগুন।
সাধারণত, যখন কোনো আগুনের উৎস প্রচন্ড তাপমাত্রায় এবং যথেষ্ট পরিমাণে অক্সিজেনের
উপস্থিতিতে দাহ্য পদার্থের সংস্পর্শে আসে, তখন দাবানলের
সুত্রপাত ঘটে৷ গাছপালা থেকে থেকে ক্রমাগত পানি বাস্পীভূত হয়ে সৃষ্টি হয় পানির এই
ঘাটতি৷ ঘাটতি পূরণ করা হয় মাটি বা বাতাসে বিদ্যমান জলীয় বাষ্প বা বৃষ্টির পানি
শোষণ করে৷ কিন্তু অনেকদিন ধরে উত্তপ্ত ও শুষ্ক আবহাওয়া চলতে থাকলে গাছপালা পানির
এই সমতা রক্ষা করতে না পেরে শুষ্ক ও দাহ্য হয়ে ওঠে৷ যেসব অঞ্চলের আবহাওয়া এতটাই
আর্দ্র যে গাছপালা দ্রুত বৃদ্ধি পায়, আবার দীর্ঘ সময়ের
জন্য শুষ্ক ও উষ্ণ আবহাওয়া বিরাজ করে, সেসব অঞ্চলে দাবানল
ছড়িয়ে পড়তে দেখা যায়।
আমেরিকার বনাঞ্চলে বিভিন্ন উপায়ে আগুন লাগে
বছরে প্রায় এক লক্ষ বার। যে কারণে পুড়ে যায় ২০ লক্ষ হেক্টর জমি। ঘণ্টায় ২০
কিলোমিটার গতিতে চলতে সক্ষম এই আগুন সামনে যা কিছু পায় পুড়িয়ে নিঃশেষ করে
গাছপালা ঘরবাড়ি মানুষসহ। বজ্রপাতসহ এই আগুন লাগবার পেছনে প্রাকৃতিক কারণ মাত্র
পাঁচ ভাগের একভাগ। বাকী চারভাগের জন্য দায়ী মানুষ।
যেভাবেই হোক একবার আগুন লাগলে প্রকৃতি তাকে
ইন্ধন যোগায় পাগলের মতো। ফায়ার স্টর্ম, আগুনে-সাইক্লোন, অগ্নি-টর্নেডোর রূপ নিয়ে
দিকবিদিক ছড়িয়ে পড়ে। ক্যালফোর্নিয়াতে সান্টা অ্যানা শুষ্ক বায়ুপ্রবাহ অগ্নি
স্ফূলিঙ্গকে মাইল মাইল দূরে অনায়াসে উড়িয়ে নিয়ে যেতে পারে। কেবল রাস্তার ওপারে
নয়, নদীর ওপারেও আগুনকে বহন করে নিয়ে যেতে পারে এমন
বায়ুপ্রবাহ।
https://www.dhakatimes24.com/2021/08/11/225579//যেভাবে-সৃষ্টি-হয়-দাবানলগ্নেয়গির/
Comments
Post a Comment