বিজ্ঞান-বিচিত্রা
স্থানিক নীতি
স্থানিকতার নীতি‘(principle of locality)
কলম্বাস আমেরিকা মহাদেশ আবিষ্কার করার তিনমাস পর ইউরোপবাসী সেই খবর পেয়েছিলো।
আব্রাহাম লিংকন-এর মৃত্যুসংবাদ ইউরোপে পৌঁছাতে সময় লেগেছিলো এক সপ্তাহ। নীল
আর্মস্ট্রং চাঁদের মাটিতে পা রাখার মাত্র দেড় সেকেন্ডে পরই পৃথিবীবাসী তা জানতে পেরেছিলো। এই তিনটি ঘটনা আমাদের এই বলে দেয় যে
বিজ্ঞানের তথা সভ্যতার অগ্রগতির সাথে সাথে দূরত্বের সাথে সময়ের সম্পর্কে পরিবর্তিত
হচ্ছে তথা সময় সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে। এবার স্বভাবতঃই মনে প্রশ্ন জাগে, বার্তা আদান
প্রদানের এই সময় ব্যবধানের কি কোন সীমা আছে? না কি কমতে
কমতে তা একেবারে শূণ্য হয়ে যাবে?
পদার্থবিদ্যার ‘স্থানিকতার নীতি‘ (principle of locality) বলে একটা তত্ত্ব। তত্ত্বটি বলছে, কোনো অবব্জেক্ট (object)
কেবল তার অব্যবহিত পারিপার্শিক অবস্থা দ্বারা প্রভাবিত হতে পারে।
সেজন্যে কিছু সময়ক্ষেপন ছাড়া যেমন আমরা এক স্থান থেকে আরেক স্থানে যেতে পারছিনা;
তেমনিভাবে, অনুধাবন করা না গেলেও,
খুবই সীমিত আকারে হলেও কিছুটা সময় লেগেই যায় আমাদের পাঠানো
বার্তাগুলোকে গন্তব্যে পৌঁছুতে। ‘স্থানিকতার নীতি’
অনুযায়ী, দুটো পদার্থ, যারা কিনা স্থান দ্বারা পৃথক (spatially separated), তাদের মধ্যে তৎক্ষণাত (instantaneous) তথ্য/বার্তা
(information) বা প্রভাব (influence), মিথষ্ক্রীয়া (interaction) বিনিময় হতে পারেনা।
বআর আরেকটি প্রশ্নও আসে যে, এই ‘স্থানিকতার
নীতি’ কি কখনো লংঘিত হতে পারে?
স্থানিকতার নীতি (Principle of locality)
মনে করি ভর দুপুরে একটি কাক ঘরের চালের উপর কর্কশ কন্ঠে কা
কা করে যাচ্ছে। আপনি কাকটিকে তাড়াতে চাইছেন। এই লক্ষ্যে আপনি কি করবেন? হয়ত সজোরে শব্দ করে কাকটাকে ভড়কে দিয়ে তাড়াতে চাইবেন; কিংবা একটা ঢিল ছুড়ে তাকে উড়াতে চেষ্টা করবেন। শক্ত পাওয়ারের টর্চের
আলো ফেলেও তাকে তাড়ানোর চেষ্টা করা যেতে পারে।
এখানে পদার্থবিদ্যার নীতি ব্যবহার করলে প্রথমেই যে বিষয়টা এসে যায়
তা হলো আপনি ও কাকটা স্থান দ্বারা পৃথককৃত(spatially separated)। এই দূরত্ব অতিক্রম করা কোনো এজেন্ট দিয়ে
কাকটার গতিকে প্রভাবিত করা যেতে পারে।
প্রথম ক্ষেত্রে যখন শব্দ করা হচ্ছে, তখন সঙ্কোচন-প্রসারণের
মাধ্যমে বাতাসের মধ্যে দিয়ে শব্দটা কাকের কানে গিয়ে পৌঁছে, তাকে প্রভাবিত করতে পারে।
দ্বিতীয় ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হচ্ছে কোনো
শক্ত পদার্থ, যা হয়ত উড়ে গিয়ে কাকের গায়ে লেগে কিংবা পাশ দিয়ে গিয়ে তাকে প্রভাবিত
করবে।
শেষ ক্ষেত্রে আলো আপনার আর কাকের মধ্যকার
দূরত্ব অতিক্রম করে কাককে প্রভাবিত করবে।
লক্ষ্য করি যে,
প্রতিটি ক্ষেত্রেই কিন্তু কোন এজেন্ট (পদার্থ কিংবা শক্তি)
স্থানিকভাবে পৃথককৃত আপনার ও কাকের মধ্যকার দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে প্রভাবিত
করছে।
এবার পুরাতন প্রশ্নটি, এই দূরত্ব অতিক্রমের
ক্ষেত্রে কোন সীমা পদার্থবিদ্যা আরোপ করে কি? এক্ষেত্রে
আলবার্ট আইনস্টাইন বলেছেন যে, হ্যাঁ এইরূপ সীমা রয়েছে,
আর তা হচ্ছে আলোর গতি। আইনষ্টাইনের আপেক্ষিকতার তত্ত্ব
অনুসারে আলোর গতির চাইতে বেশী বেগে কিছু চলতে পারেনা। আমাদের মাহাবিশ্বে এটাই সর্বোচ্চ বা
চরম গতি। একে বলা যেতে পারে আলবার্ট আইনস্টাইনের বেধে দেয়া “বৈজ্ঞানিক বিশ্বাস” (Scientific Faith). এই বিশ্বাস ভঙ্গের পরিণাম বিশ্বের জন্য বড়ই
বেদনাদায়ক। নিউট্রিনো এই বিশ্বাস ভঙ্গের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল একবার। সার্ণে
কর্তৃক.....অপেরা গবেষণায় এ কারণটি পাওয়া যায় যার সংক্ষিপ্ত বর্ণনা
নিম্নরূপঃবর্তমান ডিজিটাল যুগও আইনস্টাইনের জগদ্বিখ্যাত সমীকরণ যার উপর দাঁড়িয়ে
আছে আধুনিক বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশেষ করে
বৈজ্ঞানিক সৃষ্টিতত্ত্বের স্ট্যান্ডার্ড মডেল-সেই মডেলও ২০১১ সালের
সেপ্টেম্বর মাসে সার্ণে কর্তৃক এক নিবিড় গবেষণায় নিউট্রিনোর আলোর গতির চাইতে
অন্ততঃ ৬০ ন্যানো সেকেন্ড বেশি দ্রুত চলার অআবিস্কারকে। তাও অআবার নিউট্রিনোকে
ভরযুক্ত কণারূপে আবিস্কারের মাধ্যমে এই আবিস্কারের জন্য কানাডা এবং জাপানী দুই
বিজ্ঞানী নোবেল পুরস্কারও লাভ করেন, সেই নিউট্রিনোকে আইনস্টাইনের সমীকরণের
উর্ধ্বে স্থান দেয়ার জন্য স্টিফেন হকিংসহ বিশ্বের খ্যাতনামা বিজ্ঞানীদের পক্ষ থেকে
জোর তাগিদ দেয়া হয় নচেৎ নতুন করে স্ট্যান্ডার্ড মডেল রচনা সহ
স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পঠিত তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞান নতুন নিয়মে, সূত্রে লেখা
ছাড়া গত্যন্তর থাকবেনা। ১৬০০১ তম গবেষণায় জানা যায় যে, “In September 2011,
CERN attracted media attention when the OPERA Collaboration reported the
detection of possibly faster-than-light neutrinos. Further tests showed that “The
results were flawed due to an incorrectly connected GPS synchronization cable”.
- পুরো আটলান্টিক মহাসাগরে যত চামচ পানি আছে তার ৮ গুন পরিমাণ পরমাণু আছে কেবল এক চামচ পানিতে।https://bn.quora.com/bijnanera-kichu-majara-jinisaguli-ki-ki
Comments
Post a Comment