রোমান সংখ্যার ইতিহাস
প্রাচীন মিশরীয়রা তাদের স্তম্ভগুলিতে হায়ারোগ্লিফের মাধ্যমে সংখ্যা অঙ্কিত করেছিল। উল্লেখ্য, মিশরীয়রা আনুমানিক ১৮০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে প্যাপিরাসের (প্যাপিরাস এক প্রকার উদ্ভিদ যা থেকে কাগজ আবিস্কার হয়) সাহায্যে গণনা পদ্ধতি ব্যবহার করে নির্দিষ্ট পরিমাণ ওষুধ তৈরির জন্য ১ .কতটুকু বনাজী উদ্ভিদ লাগবে, ২. এক জাতের বনাজী ব্যবহার করে ওষুধের যে মান পাওয়া যায়, অন্য জাতের বনাজী উদ্ভিদ কি পরিমাণ ব্যবহারে সেই একই মান পাওয়া যেতে পারে তা পরিমাপ করতো।
মিশরীরা মজুরী, বেতন নির্ধারণ, শস্যক্ষেত্রের ক্ষেত্রফল ও শস্যাগারের আয়তন নির্ণয়, খাজনা, ট্যাক্স বা কর নির্ধারণ ও নির্দিষ্ট ইমারত, দালান কোঠা নির্মাণের জন্য কি পরিমাণ ইটের প্রয়োজন তা হিসাব করার জন্য গণিতকে কাজে লাগাত। এছাড়াও পঞ্জিকা গণনাতেও তারা গণিতভিত্তিক জ্যোতির্বিজ্ঞান ব্যবহার করত। পঞ্জিকার সাহায্যে তারা ধর্মীয় ছুটির তারিখ ও নীল নদের বার্ষিক প্লাবনের সময় নির্দেশ করতে পারত।
বিভিন্ন গ্রন্থে গণিতের প্রাচীন ভারতের অনুশীলন তথ্য
খ্রীষ্টপূর্ব ৮০০ অব্দে হিন্দু ' শুল্ব সূত্রে প্রাচীন ভারতে' ' পীথাগোরাসের উপপাদ্য' এর প্রয়োগ দেখা যায়। ললিত বিস্তার 'গ্রন্থে উল্লিখিত আছে , গৌতম বুদ্ধ পাটীগণিতে দক্ষ ছিলেন। ভারতীয় জ্যোতির্বিদ্যার প্রখ্যাত গ্রন্থ ' সূর্যসিদ্ধান্ত' আনুমানিক ৪০০ খ্রীষ্টাব্দের রচনা। সমসাময়িকগ্রন্থ 'পৌলিশ-সিদ্ধান্তে প্রাচীন ভারতীয় ত্রিকোণমিতির সারাংশ লিপিবদ্ধ হয়।
ভারতীয় গণিতবিদরা ব্রাহ্মী সংখ্যা ও ব্রাহ্মী লিপি, স্বাভাবিক সংখ্যার লিখন প্রণালীর প্রচলন, দশমিক সংখ্যার উদ্ভাবন ও শূণ্যের (০) প্রকাশনা, বিরাট বিরাট সংখ্যার নামকরণ করেছেন, যেমন - প্রযুত, অর্বদ, নার্বুদ, সমুদ্র, মধ্য, অন্ত, পরার্ধ ইত্যাদি ।
প্রাচীন ভারতের প্রখ্যাত গণিতজ্ঞগণঃ
· আর্যভট্ট
· লীলাবতী
তথ্যসূত্র
1. ↑ http://archaeologyonline.net/artifacts/history-mathematics
সিন্ধু সভ্যতায় গণিত চর্চা
প্রাচীন সিন্ধু সভ্যতায় গণিতের হিসাব ছিলো ডেসিমাল পদ্ধতির। তারা স্কেল ব্যবহারেও দক্ষতা অর্জন করেছিলো।
রোমান সংখ্যার ইতিহাস
প্রাচীন ইতিহাস থেকে জানা যায়, গ্রীকরা যিশুর জন্মের ঠিক আগের সময়টায় অঙ্ক নিয়ে দারুণ- দারুণ কাজ করেছেন, সন্ধান দিয়েছেন নতুন-নতুন দিগন্তের। কিন্তু রোম সাম্রাজ্যের উন্থানের সঙ্গে-সঙ্গেই তাদের অঙ্কচর্চায় ইতি পড়ে । এর একটা বড় কারণ ছিল এই যে, রোমানরা শুধু সাম্রাজ্য বিস্তারে আগ্রহী ছিল । নতুন একটা দেশে যুদ্ধে যেতে হলে কত জন সৈন্য নিয়ে যেতে হবে , সাত জন সৈন্যের জন্য সাত বস্তা চাল নিয়ে যেতে হলে চোদ্দজনের জন্য নিয়ে যেতে হবে আরও সাত বস্তা , এই অবধি জেনেই তারা সন্তুষ্ট|
অক্ষর সম্বলিত রোমান সংখ্যা হল প্রাচীন রোমে উদ্ভূত গাণিতিক সংখ্যা পদ্ধতি। মধ্যযুগ পর্যন্ত সারা ইউরোপ জুড়ে সংখ্যা লেখার জন্য এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হত। বর্তমান ব্যবহৃত রোমান সংখ্যায় নির্দিষ্ট পূর্ণমান সম্পন্ন সাতটি প্রতীক বা সাংকেতিক চিহ্ন রয়েছে যা নিম্নরূপঃ
চিহ্ন | |||||||
মান | ১ | ৫ | ১০ | ৫০ | ১০০ | ৫০০ | ১,০০০ |
রোমান সাম্রাজ্যের পতনের পরেও রোমান সংখ্যাসমূহের ব্যবহার অব্যাহত থাকে। ১৪শ শতাব্দীর পর থেকে রোমান সংখ্যার পরিবর্তে আরও বেশি সুবিধাজনক আরবি সংখ্যার (Arabic Numeral 1,2,3,4,5,6,7,8,9) ব্যবহার শুরু হয়, তবে এই প্রক্রিয়াটি ধীরে ধীরে ছিল। পরবর্তীতে ইউরোপীয় রেঁনেসার যুগে বিশেষ করে প্রথম শিল্প বিপ্লব তথা আধুনিক বৈজ্ঞানিক বিপ্লবোত্তর বিশেষ করে নিউটনের বলবিদ্যা, আইনস্টাইনের বিশেষ ও সাধারণ বলবিদ্যা তত্ত্বসহ বিজ্ঞানের গাণিতিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে ইউরোপে এই আরবি সংখ্যার ব্যবহার তুঙ্গে উঠে। অবশ্য ১. সংখ্যার ক্রম বিন্যাসের (সিরিয়াল) ক্ষেত্রে যথাক্রমে i) ii) iii) iv) v) vi ) vii) viii) xi) ২. স্কুল-কলেজের শ্রেণি নির্দেশনার ক্ষেত্রে প্রথম শ্রেণির (স্কুল পর্যায়ে) ক্ষেত্রে I, দ্বিতীয় শ্রেণির ক্ষেত্রে II, তৃতীয় শ্রেণির ক্ষেত্রে III, চতুর্থ শ্রেণির ক্ষেত্রে IV, পন্চম শ্রেণির ক্ষেত্রে V ,ষষ্ঠ শ্রেণির ক্ষেত্রে VI, সপ্তম শ্রেণির ক্ষেত্রে VII, অষ্টম শ্রেণির ক্ষেত্রে VIII, নবম শ্রেণির ক্ষেত্রে IX, দশম শ্রেণির ক্ষেত্রে X, একাদশ শ্রেণির (কলেজ পর্যায়ে) ক্ষেত্রে XI, দ্বাদশ শ্রেণির ক্ষেত্রে XII এবং পকেট ঘড়ি, দেয়াল ঘড়িসহ কিছু ছোটখাট ক্ষেত্রে রোমান সংখ্যাসমূহের যথাযথ ব্যবহার এখনো চলছে। ( উইকিপিডিয়া)
Arabic | Roman |
1 | I |
2 | II |
3 | III |
4 | IV |
5 | V |
6 | VI |
7 | VII |
8 | VIII |
9 | IX |
10 | X |
11 | XI |
12 | XII |
13 | XIII |
14 | XIV |
15 | XV |
16 | XVI |
17 | XVII |
18 | XVIII |
19 | XIX |
20 | XX |
21 | XXI |
22 | XXII |
23 | XXIII |
24 | XXIV |
30 | XXX |
40 | XL |
50 | L |
60 | LX |
70 | LXX |
80 | LXXX |
90 | XC |
100 | C |
101 | CI |
102 | CII |
200 | CC |
300 | CCC |
400 | CD |
500 | D |
600 | DC |
700 | DCC |
800 | DCCC |
900 | CM |
1,000 | M |
1,001 | MI |
1,002 | MII |
1,003 | MIII |
1,900 | MCM |
2,000 | MM |
2,001 | MMI |
2,002 | MMII |
2,100 | MMC |
3,000 | MMM |
4,000 | MMMMor M V |
5,000 | V |
1. (Source: Erik Gregersen, Senior Editor. the Board of Editors of Encyclopaedia Britannica
শূন্যের আবিষ্কার ও ব্যবহার
শূন্য ডেসিমেল পদ্ধতি বা দশমিক পদ্ধতি। এই দশমিক পদ্ধতি আবিষ্কার হলো বাংলায়। বরাহ মিহির-আর্যভট্ট। এরা শূন্যের আবিষ্কার ও ব্যবহার করলেন এখন থেকে ১৫০০ বছর আগে। এখান থেকে শূন্য বা ডেসিমেল পদ্ধতি আরবরা নিয়ে নিল যে, এটা একটি দারুণ বিষয়। তারা নিল ৭৬০ খ্রিষ্টাব্দে। তারপরে আরব থেকে গেল ইউরোপে।
এখন আমরা জানি দশমিক, ডেসিমেল, শূন্যের বা ডিজিটাল পদ্ধতির ব্যবহার করল ফরাসিরা। তারা চালু করল মিটার, কিলো আর লিটার, শূন্য দিয়ে। কিন্তু শূন্যের আবিষ্কার হয় এই বাংলায়।
ভারতীয় আর্যভট্ট তাঁর গাণিতিক রচনা শূন্যের ধারণাটি কাজে লাগিয়েছিলেন, তবে তিনি এর জন্য কোনও প্রতীক হিসাবে উল্লেখ করেননি। অবশ্য আর্যভট্টের একশো ১০০ বছর আগে মায়া সভ্যতার কাছে বা ৭০০ বছর পূর্বে ব্যাবিলনীয়দের কাছে যেতে হবে। ব্রহ্মগুপ্ত তার ব্রহ্মস্ফুটসিদ্ধান্ত নামক বইয়েশূন্যকে সংখ্যার মর্যাদা দিয়েছে ।
কারো কারো মতে, আর্যভট্টের ৪৫০ বছর পরে শূন্যের প্রকৃত প্রতীক "0" এর প্রাচীনতম ডকুমেন্টেশন পার্সিয়ান আল খোয়ারিজমি থেকে এসেছে (উইকিপিডিয়া)।
শূন্যের আবিষ্কারের পূর্বের ঘটনাঃ
ইংরেজিতে জিরো (ইং: zero) শব্দটি এসেছে ভেনিশিয় শব্দ জিরো (zero) থেকে যা ইতালিয় জিফাইরো (zefiro জেফিরো) থেকে পরিবর্তিত হয়ে এসেছিল। ইতালীয় জিফাইরো শব্দটি এসেছে আরবি শব্দ "সাফাইর" বা "সাফাইরা" (صفر) থেকে যার অর্থ "সেখানে কিছু ছিল না"। এই শব্দটি প্রথমে ভারতীয় সংস্কৃত শ্যুন্যোয়া শব্দ হতে অনুদিত হয়েছে। সংস্কৃত শব্দ শ্যুন্যেয়া (শ্যূন্য) যার অর্থ খালি বা ফাঁকা। ইংরেজি শব্দ জিরোর প্রথম ব্যবহার পাওয়া যায় ১৫৯৮ খ্রিষ্টাব্দে।[২][৩][৪][৫]
গণিতে ‘শূন্য’ আবিষ্কার ভারতবর্ষে হয়েছিলো।এবং ভারতবর্ষের সংস্কৃত শব্দ শ্যুন্যেয়া (শ্যূন্য)’ আরবের ‘সিফর’ হয়ে ধীরে ধীরে পশ্চিমে ‘জিরো’তে পরিণত হলো।
শূন্য আবিষ্কারের খ্রিষ্টপূর্ব দুই হাজার-তিন হাজার বছর পূর্বে সংখ্যার কোন লিখিত রূপ না থাকায় মানুষ শূন্য ‘0’ (Zero) বুঝাতে কোন স্থান-কে ফাঁকা রাখা হতো কিংবা সংখ্যা চিত্র ব্যবহার করতো। এরপরে খ্রিস্টপূর্ব ৭০০ বছর আগে ব্যবিলনীয়রা ফাকা স্থানে দুই কোণাকৃতির চিহ্ন (‘’) ব্যবহার করা শুরু করলো। এরপরে খ্রিষ্টপূর্ব ১০০ বছর পূর্বে মায়া সভ্যতা শূন্য বুঝাতে ফাকা ঘর ব্যবহার শুরু করে। এরপরে মিশরীয়রা শূন্য ও জ্যামিতি নিয়ে অনেক গবেষণা করেছিলেন। (সূত্রঃhttps://bn.quora.com/শূন্য-কে-আবিষ্কার-করেন)।
শূন্য আবিস্কারে ব্যবিলীয়ন ও মায়া সভ্যতার স্পষ্ট অবদান রয়েছে।
এক এক দেশে এক এক জনকে গণিতের আবিস্কারক হিসেবে মনে করা হয় যেমন ভারতে আর্যভট্টকে গণিতের আবিস্কারক হিসাবে মনে করা হয় গ্রিসে আর্কিমিডিসকে গনিতের আবিস্কারক হিসাবে মনে করা হয়। (https://bn.quora.com/গণিতের-আবিষ্কার-কে-করেন)।
০ (উচ্চারণ: শূন্য) হলো একাধারে একটি সংখ্যা এবং অঙ্ক।[১] যদিও এককভাবে শূন্য(০) মান শূন্য (ভ্যালুলেস) বা অস্তিত্বহীন তথাপি এরাবিক নামারাল আবিস্কারের পর এরাবিক ১ থেকে ৯ পর্যন্ত প্রতিটি সংখ্যাকে তার ডানে বসে যথাক্রমে দশক (১০), শতক (১০০), হাজার (১০০০), অযুত (১০,০০০), লক্ষ (১,০০০০০), নিযুত (১০,০০০০০) এবং কোটির (১,০০০০০০০) মানে উন্নীত করে যা রোমান সংখ্যায় আদৌ সম্ভবপর নয়। এছাড়াও দশমিকের ডানে বসে শূন্য বিভিন্ন সংখ্যার দশমাংশ প্রকাশ করে। এসব ঐতিহাসিক কারণে হিজরি ১৫০০ শত বর্ষে ১৯৮০ সনে লন্ডনে “ইসলাম ফেস্টবল” উদযাপন উপলক্ষে বৃটিশ প্রভাবশালী এক পত্রিকার বিশেষ সংখ্যায় লেখা হয় যে, আরব প্রবর্তিত বিজ্ঞান যদি ইউরোপীরা রেনেসাঁর ১০০ আগে গ্রহণ করতো তাহলে ইউরোপে আধুনিক বিজ্ঞান ১০০ বছর আগে পুনর্জাগরিত হতো।
উল্লেখ্য, অঙ্ক হিসেবে ০ (শূন্য) একটি নিরপেক্ষ অঙ্ক এবং সংখ্যার স্থানধারক হিসেবে কাজ করে। শূন্য(০) একটি স্বাভাবিক পূর্ণ সংখ্যা। তবে শূন্য ধনাত্মক, ঋণাত্মক কোনটিই নয়। '০' (শূন্য) কে সাহায্যকারী অঙ্ক বলা হয়। নিজের কোন মান নেই। সর্বপ্রথম ভারতীয় উপমহাদেশের আর্যভট্ট (৪৭৫-৫৫০ খ্রিঃ) '০' (শূন্য) প্রথম ধারণা দেন। ব্রক্ষ্মগুপ্ত (৫৯৮-৬৬৫ খ্রিঃ) শূন্য আবিষ্কার করেন এবং এই শূন্যকে ব্যাপক ভাবে আলোচনার শীর্ষে নিয়ে আসেন।
Comments
Post a Comment