নতুন বিজ্ঞান জগতের পথে পুরাতন পৃথিবী

   

                                         নতুন বিজ্ঞান জগতের পথে পুরাতন পৃথিবী 

                                                                 - মুহাম্মাদ শেখ রমজান হোসেন
 প্রথম অধ্যায়ঃ
 

নতুন বিজ্ঞানের ইতি কথা

কোয়ান্টাম তত্ত্ব: নতুন বিজ্ঞানের নতুন বীজ

কোয়ান্টাম তত্ত্ব কীএর ব্যাখ্যা কী?

উনবিংশ শতাব্দী ছিল বৈজ্ঞানিক উৎকর্ষতার এক পরম যুগ যা অষ্টাদশ, সতের শতকের নিরবচ্ছিন্ন বিজ্ঞান সাধনার উর্বর ফসল। ধারণা করা হয়েছিল যে, মানব জাতির জ্ঞান ভান্ডারে যে বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব, সূত্র, প্রযুক্তিগত যতসব আবিস্কার তার সবই সম্পন্ন হয়ে গেছে। কিন্তু বিংশ শতাব্দীর শুরু হতে না হতেই জ্ঞান/বিজ্ঞানের চাকা যেন উল্টোপানে ঘুরতে শুরু করে দেয়। বিংশ শতাব্দীর শুরুর মাত্র দশ মাসের মাথায় অর্থাৎ ১৯০০ খ্রিস্টাব্দের ১৯ অক্টোবর এ চাকা উল্টোপানে ঘুরতে শুরু করে । নিম্নে বিস্তারিত দেয়া গেলঃ

১৯০০ খ্রিস্টাব্দের ১৯ অক্টোবর : জগদ্বিখ্যাত পদার্থ বিজ্ঞানী মাক্স প্লাঙ্ক বার্লিন বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিজ্ঞানের এক সেমিনারে নিম্নোক্ত একটি নূতন ফর্মুলা উপস্থাপন করলেন যা কৃষ্ণবস্তু থেকে বিকিরণের এন্ট্রপি ফর্মুলাকে আরও ব্যাপকভাবে পরিবর্ধিত করে প্রচলিত বৈজ্ঞানিক ধারণাকে রাতারাতি বৈপ্লবিকভাবে পরিবর্তন করে কোয়ান্টাম তত্ত্ব নামে এক নতুন বিজ্ঞানের বীজ বপন করে দেয়:

কোয়ান্টাম তত্ত্ব: আলোকরশ্মি যখন কোন উৎস থেকে অনবরত বের না হয়ে অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিচ্ছিন্ন প্যাকেট শক্তি গুচ্ছ আকারে বের হয়।” অর্থাৎ, E=hνযেখানে E= ফোটনের শক্তি, h= প্ল্যাংক ধ্রুবকν = ফোটনের কম্পাংক। প্রত্যেক বর্ণের আলোর জন্য এক একটি বিচ্ছিন্ন প্যাকেটের শক্তির নির্দিষ্ট মান রয়েছে। এই এক একটি বিচ্ছিন্ন প্যাকেটকে কোয়ান্টাম বা ফোটন বলে। বিজ্ঞানী ম্যাক্সপ্লাঙ্ক ১৯০০ সালে কোয়ান্টাম তত্ত্ব প্রদান করেন।

উল্লেখ্য, উনবিংশ শতাব্দীর বিজ্ঞানের পরম উৎকর্ষতার মাঝেও পদার্থবিদ্যায় এক বিরাট যে সমস্যা তৎকালীন জাদরেল পদার্থবিজ্ঞানীদেরকে অসহায় করে তুলেছিল তা হচ্ছে: কৃষ্ণবস্তু থেকে বেরিয়ে আসা বিকিরণের বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করা ১৭৯২ সালে টি ওয়েজউড লক্ষ করেছিলেন যে তাপিত সকল বস্তু একই তাপমাত্রায় রক্তিম হয়ে যায়। পরবর্তীকালে এই অনুমানের সঠিক ব্যাখ্যা দেন কারচফ। ১৮৫৯ সালে তিনি তাপ-গতি তত্ত্বের মাধ্যমে প্রমাণ করেন যে বিকিরণ শক্তি ও শোষণ সহগের অনুপাত কেবল মাত্র কম্পাংক ও তাপমাত্রার অপেক্ষকবস্তুর চরিত্রের উপর নির্ভরশীল নয়। ১৮৯৩ সালে ডব্লু ভাইন আরেক ধাপ এগিয়ে তাপ-গতি তত্ত্ব ও ম্যাক্সওয়েলের তত্ত্বকে সংযুক্ত করে দেখাতে সক্ষম হলেন বিকিরণশক্তি দুটি সংখ্যার গুণফল। সংখ্যা দুটি হল : কম্পাঙ্কের ত্রিঘাত ও কম্পাঙ্ক-তাপমাত্রার অনুপাতের অপেক্ষক। তবে প্রাচীন তাপগতিবিদ্যা কিংবা নিউটনীয় বলবিদ্যা এই সমস্যা সম্পূর্ণভাবে সমাধান করা যায়নি। তৎপরিপ্রেক্ষিতে বিংশ শতাব্দীর শুরুতে এ বিষয়ে সমাধানার্থে যাঁরা কাজ করেছিলেন তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন জগদ্বিখ্যাত  বিজ্ঞানী হেনরিক রুবেনআর্নস্ট প্রিংসাইমঅটো লুথান  ডব্লু ভিনলর্ড র‍্যালে এবং কে, এইচ, জিনস প্রমুখ (অসমাপ্ত)

আধুনিক বিজ্ঞান-প্রযুক্তির আলোকে মহাবিশ্ব তত্ত্ব (Cosmology)

সূচনা: বলা হয়ে থাকে বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রা সেদিনের সে ক্ষণটিতে শুরু যে দিনের যে ক্ষণে মানব মনে সর্বপ্রথম সত্যকে জানার আগ্রহ জেগেছিল। এই সত্য জানার ধারাবাহিকতায় সাধারণ মানব মনে প্রশ্ন জেগেছিল: তারা ভরা,  সূর্য দীপ্ত এই আকাশ-মহাকাশ কিংবা সাগর-মহাসাগরবন-মহাবনসুউচ্চ পাহাড়-পর্বতনদ-নদী সুবিস্তৃত শস্য-শ্যামল এই পৃথিবীই বা কিভাবে সৃষ্টি হয়েছিলকিংবা  এই আকাশ-মহাকাশ বা পৃথিবীর আগেই বা কি ছিল অথবা কে ছিলেনপ্রায় একই ধরণের প্রশ্ন জেগেছিল বিশ্ব বরণ্য বিজ্ঞানীদের মনেও। তাঁদের নিকট এই প্রশ্ন অনন্ত হয়ে দেখা দেয় যেমহাবিশ্ব কিভাবে সৃষ্টি হয়েছিল। মহাবিশ্বের পূর্বেকার অবস্থা কেমন ছিল?

উপরোক্ত প্রশ্নগুলি ঘিরেই পরবর্তিতে জন্ম নেয় বিশ্বসৃষ্টি তত্ত্ব (কসমোলোজি)। 

স্থান ও সময় এবং এদের অন্তর্ভুক্ত সকল বিষয় নিয়েই মহাবিশ্ব। পৃথিবী এবং অন্যান্য সমস্ত  গ্রহ সূর্য ও অন্যান্য তারা ও নক্ষত্র জ্যোতির্বলয় স্থান ও এদের অন্তর্বর্তীস্থ গুপ্ত পদার্থ ল্যামডা-সিডিএম নকশা  ও শূণ্যস্থান (মহাকাশ) - যেগুলো এখনও  সরাসরি পর্যবেক্ষিত নয় - এমন সবপদার্থ ও শক্তি মিলে যে জগৎ তাকেই বলা হচ্ছে মহাবিশ্ব ।

ভৌত বিশ্বতত্ত্বস্থান ও সময় এবং এদের অন্তর্ভুক্ত সকল বিষয় নিয়েই মহাবিশ্ব ।। পৃথিবী এবং অন্যান্য সমস্ত গ্রহ সূর্য ও অন্যান্য তারা ও নক্ষত্র জ্যোতির্বলয় স্থান ও এদের অন্তর্বর্তীস্থ গুপ্ত পদার্থ ল্যামডা-সিডিএম নকশা ও শূণ্যস্থান (মহাকাশ) - যেগুলো এখনও তাত্ত্বিকভাবে অভিজ্ঞাত কিন্তু সরাসরি পর্যবেক্ষিত নয়-এমন সবপদার্থ ও শক্তি মিলে যে জগৎ তাকেই বলা হচ্ছে মহাবিশ্ব । পুরো বিশ্বের আকার বিজ্ঞানীদের অজানা থাকলেও এর উপাদান ও সৃষ্টিধারা নিয়ে বেশ কয়েকটি hypotheses বিদ্যমান। মহাবিশ্বের উৎপত্তি সংক্রান্ত বিষয়কে বলে বিশ্বতত্ত্ব। দৃশ্যমান মহাবিশ্বের সুদূরতম প্রান্তের পর্যবেক্ষণ ও বিভিন্ন তাত্ত্বিক গবেষণায় মনে হয় মহাবিশ্বের প্রতিটি প্রক্রিয়াই তার সৃষ্টি থেকেই একই ধরণের প্রাকৃতিক নিয়ম ও কয়েকটি নির্দিষ্ট ধ্রুবক দ্বারা নির্ধারিত হয়। বিগ ব্যাং (Big Bang) তত্ত্ব অনুসারে এর আয়তন ক্রমবর্ধমান। সম্প্রতি আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানীদের বিভিন্ন তত্ত্বে আমাদের এই দৃশ্যমান মহাবিশ্বের পাশাপাশি আরো অনেক মহাবিশ্ব থাকার অর্থাৎ অনন্ত মহাবিশ্ব থাকার সম্ভাবনা অবশ্যম্ভাবী বলে ধারণা করা হচ্ছে। (সূত্রঃ Encyclopedia) প্রসঙ্গ:মহাবিশ্বের জাগতিক আইন বিশ্বতত্ত্ব একটি বিশ্ব বিষয়ক নীতিনির্ধারণী বিজ্ঞান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। উক্ত নীতিতে বলা হয়েছিলো যেপৃথিবী থেকে দৃশ্যমান এবং আমাদের দৃষ্টি সীমানার বাইরে অবস্থিত সকল বস্তুই সুনির্দিষ্ট ভৌত আইন মেনে চলে। নিউটনীয় বলবিদ্যাই প্রথম এই আইনের সুষ্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে সক্ষম হয়। সেই সময় পদার্থবিদরা সম্পূর্ণ স্থির একটি মহাবিশ্বের ধারণা পোষণ করতেন যার কোন শুরু বা শেষ নেই। তবেআইনস্টাইনের আপেক্ষিক তত্ত্ব আবিষ্কারের পর এখন বিষয়টি পরিষ্কার যে নিউটনীয় বলবিদ্যা কেবল বৃহৎ বস্তু পদার্থের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। আণবিক জগতের রয়েছে অন্য এক আইন অর্থাৎ বিশ্ব জগত আইনগতভাবে কার্যত: দুভাগে বিভক্ত। ১) স্থূল জাগতিক আইন ২) সূক্ষ্ণ জাগতিক আইন। ১. স্থূল জাগতিক আইন: স্থূল জাগতিক আইন নিউটনীয় বলবিদ্যার অনেকটা অনুকূল। ২. সূক্ষ্ণ জাগতিক আইন: আইনস্টাইনের আপেক্ষিক তত্ত্বের অনুকূল। উল্লেখ্য১৯১৫ সালে বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন তার সাধারণ আপেক্ষিকতা তত্ত্ব উপস্থাপনের পর থেকেই মূলত ভৌত বিশ্বতত্ত্ব একটি পর্যবেক্ষণযোগ্য এবং সুনির্দিষ্ট নীতিমালাবিশিষ্ট বিজ্ঞান হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়। সাধারণ আপেক্ষিক তত্ত্ব মানলে মহাবিশ্বকে হয় প্রসারিত হতে হবো নয়তো সংকুচিত হতে হবে। সাধারণ আপেক্ষিকতা তত্ত্বের এই সমাধানটি প্রথম দেন বিজ্ঞানী আলেকজান্ডার ফ্রিডম্যান যার সমীকরণ ফ্রিডম্যান-Lemaître-রবার্টসন-ওয়াকার মহাবিশ্বের ব্যাখ্যা প্রদান করে যাতে বলা হয়েছে এই মহাবিশ্ব প্রসারিত বা সংকুচিত হতে পারে। (সূত্রঃ উইকিপিডিয়া) মহা বিশ্বের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস প্রাচীন কালে মহাবিশ্বকে ব্যাখ্যা করার জন্য নানাবিধ বিশ্বতত্ত্বের আশ্রয় নেওয়া হত। পুরাতন গ্রিক দার্শনিকরাই প্রথম এই ধরণের তত্ত্বে গাণিতিক মডেলের সাহায্য নেন এবং পৃথিবী কেন্দ্রিক একটি মহাবিশ্বের ধারণা প্রণয়ন করেন। তাঁদের মডেলে পৃথিবীই মহাবিশ্বের কেন্দ্রে অবস্থিত। বর্তমান মহাবিশ্বের উপাদান সমূহ মহাবিশ্বের আকার বিশাল। বর্তমান বিশ্বতত্ত্বের মডেল অনুযায়ী মহাবিশ্বের বর্তমান বয়স ১৩.৭৫ বিলিয়ন বা ১,৩৭৫ কোটি বছর। এই মহাবিশ্বের দৃশ্যমান অংশের "এই মুহূর্তের" ব্যাস প্রায় ৯৩ বিলিয়ন আলোক বছর। মহাবিশ্বের ব্যাস ১৩.৭৫ ২ = ২৭.৫০ বিলিয়ন আলোক বছরের চাইতে বেশী। তাছাড়াপৃথিবীকে কেন্দ্র করে মহাবিশ্বকে যদি একটা গোলক কল্পনা করা হয় তবে তার ব্যাসার্ধ হবে প্রায় ৪৬ বিলিয়ন আলোক বর্ষ। জ্যোতির্বিদরা মনে করছেন দৃশ্যমান মহাবিশ্বে প্রায় ১০০ বিলিয়ন গ্যালাক্সি আছে। এই গ্যালাক্সিরা খুব ছোটও হতে পারেযেমন মাত্র ১০ মিলিয়ন (বা ১ কোটি) তারা সম্বলিত বামন গ্যালাক্সি অথবা খুব বড়ও হতে পারেযেমনঃ দৈত্যাকার গ্যালাক্সিগুলিতে ১০০০ বিলিয়ন তারা থাকতে পারে । মহাবিশ্বের গঠন ও আকার আমাদের গ্যালাক্সি-ছায়াপথ সূর্য থেকে গ্যালাক্সির কেন্দ্রের দূরত্ব প্রায় ৩০,০০০ আলোক বর্ষ। গ্যালাক্সির ব্যাস ১০০,০০০ বা এক লক্ষ আলোক বর্ষ। স্থানীয় গ্যালাক্সিপুঞ্জ আমাদের ছায়াপথের ৫ মিলিয়ন বা ৫০ লক্ষ আলোকবর্ষের মধ্যে অবস্থিত স্থানীয় গ্যালাক্সিগুলো। এই স্থানীয় গ্যালাক্সি দলের মধ্যে বড় তিনটি সর্পিল গ্যালাক্সি - ছায়াপথঅ্যান্ড্রোমিডা বা M31 এবং M33 একটি মহাকর্ষীয় ত্রিভুজ তৈরি করেছে। অ্যান্ড্রোমিডা গ্যালাক্সি আমাদের নিকটবর্তী বড় গ্যালাক্সি। এর দূরত্ব হচ্ছে ২.৫ মিলিয়ন বা ২৫ লক্ষ আলোকবর্ষ। স্থানীয় গ্যালাক্সি মহাপুঞ্জ স্থানীয় গ্যালাক্সি দল থেকে স্থানীয় গ্যালাক্সি মহাপুঞ্জের অন্যান্য দলের দূরত্ত্ব বিদ্যমান। এই মহাপুঞ্জের কেন্দ্র কন্যা গ্যালাক্সি দল হওয়াতে তাকে কন্যা মহাপুঞ্জ বা মহাদল বলা হয়। কন্যা গ্যালাক্সি পুঞ্জ আমাদের থেকে প্রায় ৬৫ মিলিয়ন বা ৬.৫ কোটি আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত। এই ধরণের মহাপুঞ্জগুলো ফিতার আকারের মত। সাবানের বুদবুদ দিয়ে এই ধরণের গ্যালাক্সিপুঞ্জ গঠনের মডেল করা যায়। দুটো বুদবুদের দেওয়াল যেখানে মেশে সেখানেই যেন গ্যালাক্সির ফিতা সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের ৫০০ মিলিয়ন বা ৫০ কোটি আলোকবর্ষের মধ্যে অবস্থিত প্রধান গ্যালাক্সিপুঞ্জ ও গ্যালাক্সি দেওয়াল রয়েছে। কন্যা গ্যালাক্সি মহাপুঞ্জসহ ৫০ মেগাপার্সেকের (৫০ মিলিয়ন পার্সেক বা ১৬৩ মিলিয়ন আলোকবর্ষ)মধ্যে সমস্ত পদার্থ ৬৫ মেগাপার্সেক দূরের গ্যালাক্সি পুঞ্জ Abell 3627এর দিকে ৬০০ কিমি/সেকেন্ডে ছুটে যাচ্ছে। মহাবিশ্বের প্রসারণ হচ্ছে বিংশ শতাব্দীর শেষে এসে জ্যোতির্বিদরা আবিষ্কার করলেন মহাবিশ্বের প্রসারণ ত্বরাণ্বিত হচ্ছে।[১১] বিগ ব্যাং(Big Bang) বিংশ শতাব্দীতে বিশ্বতত্ত্বের জগতে প্রচুর গবেষণা হয়েছে আর এর ফলেই গড়ে উঠেছে বৃহৎ বিস্ফোরণ তত্ত্ব যা এখনকার প্রায় সকল বিজ্ঞানীই মহাবিশ্বের সৃষ্টির কারণ হিসেবে মনে করছেন। সাধারণভাবে বলতে গেলে ভৌত বিশ্বতত্ত্ব মহাবিশ্বের অতিবৃহৎ বস্তুসমূহ নিয়ে আলোচনা করেযেমন: ছায়াপথছায়াপথ শ্রেণী ও স্তবকছায়াপথ মহাস্তবক ইত্যাদি। বিশ্বতত্ত্বের নীতিসমূহ কণা পদার্থবিজ্ঞানের জগতে প্রায় অচল। এ যাবৎকালের বিজ্ঞানীদের নিশ্চিত ধারণা-বিশ্বাস ছিল যেমহাবিশ্ব ৪ প্রধান বলে পরিচালিত। হালে বিজ্ঞানীরা ৫ম যে সত্বার অস্তিত্বের প্রমাণ দাবী করেছেন তার নামকরণ করেছেন এক্স-১৭ নামে। বিজ্ঞানীদের প্রত্যাশা: সম্ভবতঃ স্ট্রিং থিওরীতে পাওয়া যেতে পারে আবিস্কৃত ৫ম বলের যথার্থ ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ। বিজ্ঞানীদের ধারণা হল সুদূর অতীতে সমস্ত গ্যালাক্সিগুলি বা তাদের অন্তর্নিহিত সমস্ত পদার্থই একসাথে খুব ঘন অবস্থায় ছিল এবং কোন এক কালে মহা বিস্ফোরণের ফলে বস্তুসমূহ একে অপর থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। এই বিস্ফোরণের নাম দেওয়া হল বিগ ব্যাং(Big Bang)। ১৯৬০এর দশকে বিজ্ঞানীরা বিগ ব্যাং-এ সৃষ্ট উষ্ণ বিকিরণের শীতল অবশেষের সন্ধান পেলেন।[১০] এই তরঙ্গ বিগ ব্যাং ঘটনার প্রায় ৪,০০০০০ (চার লক্ষ) বছর পরেবস্তু ঘনত্বের হ্রাসের পরমুক্ত হয়েছিল। এই মাইক্রোওয়েভ বিকিরণ মহাবিশ্বের প্রতিটি জায়গাতেই পাওয়া যায়। এক অর্থে বলা যায় এই তরঙ্গ দৃশ্যমান মহাবিশ্বের শেষ প্রান্ত থেকে আসছে। মহাজাগতিক ঘর্ষণ বা বিগ ব্যাং ঠিক কত বছর আগে হয়েছিলঅর্থাৎ মহাবিশ্ব সৃষ্টি ঠিক কত কোটি বছর আগে – এটা নিয়ে আছে নানা জল্পনা-কল্পনা৷ হার্ভার্ড-স্মিথসোনিয়ান সেন্টারের জ্যোতির্পদার্থবিদরা জানানযে তরঙ্গ প্রবাহের সন্ধান তাঁরা পেয়েছেনতা একটি মাইল ফলক। ১৪শকোটি বছর আগে এই তরঙ্গের উৎপত্তি হয়েছিল বলে জানান তাঁরা৷ এর সাথে আলবার্ট আইনস্টাইনের এক শতকের পুরোনো আপেক্ষিক তত্ত্বের মিল পাওয়া যায় ৷ এ থেকে এই প্রথম কসমিক ইনফ্লেশনবা মহাজাগতিক স্ফীতির সরাসরি তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেল৷ শুধু তাই নয়এই তত্ত্ব থেকে এ কথা সহজেই বলা যায় যেমহাবিশ্ব চোখের পলক ফেলার সময়ে একশ ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন গুণ বিস্তার লাভ করেছে ৷ মহাবিস্ফোরণ (Big Bang) ঘটার পূর্বেকার অবস্থাঃ Computer simulationএর মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা এ সিদ্ধান্তে উপনীত হন যেসর্ম্পূণ নাই/শুন্য/নিল (Nil)/জিরো(Zero) থেকে মহাবিশ্বের মহাসৃষ্টির সূচনার পূর্বে র্অথাৎ মহাবিস্ফোরণ (Big Bang) ঘটার পূর্বে মহাশক্তিশালী এক প্রকার আলোক শক্তিই বিদ্যমান ছিল-যার বৈজ্ঞানিক নামঃ মহাসূক্ষ্ণ আলোক বিন্দু” (Highest Energetic Radiation)। এতেই সম্মিলিতভাবে(Combined) নিহিত ছিল আজকের আসমান ও যমিন বা পৃথিবী। বিজ্ঞানীদের ধারণাপ্রায় ১৫০০ কোটি থেকে ২০০০ কোটি বৎসর পূর্বে উক্ত মহাসূক্ষ্ণ” বিন্দুটি 10º³e.s.aপর্যায়ে স্থিতি লাভ করেছিল। ১৯৬৫ সালে পশ্চাৎপদ বিকিরণ (Back Ground Radiation)আবিস্কারের ফলে বিজ্ঞান এ সত্য মানব জাতিকে অবগত করাতে সক্ষম হয় যেশুণ্য থেকে সৃষ্ট উক্ত Highest Energetic Radiation নামক মহাআলোক গোলকটি মহাবিস্ফোরণ (Big Bang)এর পূর্বে (১) আলো (২) শক্তি ও (৩) তাপ-এই ত্রিমাত্রিক অবস্থায় বিরাজমান ছিল । এই সময় তাপমাত্রার পরিমাণ ছিল 10³²ডিগ্রি কেলভিন অর্থাৎ ১০,০০০ কোটিকোটিকোটিকোটি ডিগ্রি কেলভিন। মহাবিস্ফোরণ (big bang)ঘটার পরবর্তী মুহুর্তের অবস্থাঃ বৈজ্ঞানিক ভাষ্যমতে Highest Energetic Radiation-এ মহাবিস্ফোরণ (big bang) ঘটার পর মুহুর্তে তাপমাত্রা 10³ºkথেকে দ্রুত 10²8-এ নেমে আসে তখন (highest energetic photon)কণিকারা নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটিয়ে পদার্থ কণিকা হিসেবে প্রথম বারের মত কোয়ার্ক’ এবং এন্টি কোয়ার্ক এর জন্ম দেয়। অতঃপর তাপমাত্রা যখন আরো নিচে নেমে 10¹³kকেলভিনে দাঁড়ায় তখন কোয়ার্ক এবং এন্টি কোয়ার্কের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। এতে উভয় এর ব্যাপক ধ্বংস সাধন ঘটে এবং অবশিষ্ট থেকে যায় কিছু কোয়ার্ক। এরপর যখন তাপমাত্রা আরো কমে গিয়ে 10¹ºkকেলভিন-এ দাঁড়ায় তখন ৩টি কোয়ার্ক (১টি আপ কোয়ার্ক এবং ২টি ডাউন কোয়ার্ক মিলিত হয়ে প্রোটন কণিকা (Proton Particle)এবং ৩টি কোয়ার্ক (২টি আপ কোয়ার্ক এবং ১টি ডাউন কোয়ার্ক) মিলিত হয়ে নিউট্রন কণিকা (Neutron Particle) সৃষ্টি হতে থাকে। তারপর তাপমাত্রা যখন 10000000000 কেলভিন-এ নেমে আসে তখন পরিবেশ আরো অনুকুলে আসায় সৃষ্ট প্রোটন কণিকা ও নিউট্রন কণিকা পরষ্পর মিলিত হয়ে প্রথমবারের মত মহাবিশ্বে এটমিক নিউক্লি গঠিত হতে থাকে। এরপর তাপমাত্রা আরও কমে গিয়ে 1000000000 কেলভিন তখন এটমিক নিউক্লি মহাবিশ্বে বিক্ষিপ্ত ভাবে ছুটে চলা ইলেকট্রনিক কণিকাকে (Electronic Particle) চর্তুদিকের কক্ষপথে ধারণ করে। ফলে প্রথমবারের মত অণু'র (atoms)সৃষ্টি হয়। আরও পরে যখন তাপমাত্রা ৩,০০০ কেলভিনে উপনীত হয় তখন মহাবিশ্বের মূল সংগঠন গ্যালাক্সি (Galaxy) সৃষ্টি হতে থাকে। পরবর্তীতে এর ভেতর নক্ষত্রগ্রহউপগ্রহ ইত্যাদি সৃষ্টি হতে থাকে। অতঃপর তাপমাত্রা যখন আরো নিম্নগামী হয়ে মাত্র ৩ কেলভিনে নেমে আসে তখন সার্বিক পরিবেশ অনুকূলে থাকায় পৃথিবীতে গাছ-পালাজীব-জন্তু ও প্রাণের ব্যাপক সমাবেশ সমাগম ঘটতে থাকে-এই হচ্ছে ২০১২ সালের ৪ঠা জুলাইয়ের পূর্ব পর্যন্ত সময়ের আধুনিক বৈজ্ঞানিক সৃষ্টি তত্ত্বের ইতিকথা। নিউট্রিনো কি? (بالإنجليزية: (Neutrino): “নিউট্রিনো”(Neutrino)হচ্ছে বৈদ্যুতিক চার্জবিহীন দূর্বল ও সক্রিয় এক প্রকার অতি ক্ষুদ্র পারমানবিক কণা। ধারণা করা হয়এই ক্ষুদ্র কণা অশুন্য’ (Non-Zero) ভরের কণা। ২০১১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সার্ণের গবেষকরা এই নিউট্রিনো আবিস্কারের ঘোষণা করেন। বিজ্ঞানীদের দাবীঃ আবিস্কৃত নিউট্রিনো বর্তমান প্রচলিত সাধারণ আলোক কণা থেকে দ্রুত বেগ সম্পন্ন। বিজ্ঞানী পাউলি প্রথমবারের মত উপলদ্ধি করেন যেভরবেগশক্তিকৌণিক ভরবেগ ইত্যাদি নিত্যতা বজায় রাখার জন্য ইলেকট্রনের সাথে আরেকটি খুবই হালকাআধানহীন এবং প্রায় অদৃশ্য কণার উপস্থিতি প্রয়োজন। উল্লেখযোগ্য১৯৩০ সালে পাউলি (Pauli) যখন প্রথমবার এই কণাটির অস্তিত্ব আছে বলে প্রস্তাব করেনতাঁর কিছু পরেই নাকি তিনি মন্তব্য করেছিলেন, “আমি একটি ভয়ানক কাজ করে ফেলেছি আমি এমন একটি কণার অস্তিত্বের প্রস্তাব রেখেছি যা সনাক্ত করা অসম্ভব ।” [1] নিউট্রিনো শেষমেষ ১৯৫৬ সালে প্রথমবার সনাক্ত হয় এবং নামকরণ করা হয় নিউট্রিনো। নিউট্রিনোর ধারণা প্রথম বিজ্ঞানীরা জানতে পারেন পরমাণুর বেটা ক্ষয়ের বিশ্নেষণ করতে গিয়ে। তাতে দেখা গেছে নিউট্রিনো ও ইলেকট্রন প্রকৃতিতে যেন দুই ভাইয়ের মত। উল্লেখ্যমহাবিশ্বের স্ট্যান্ডার্ড মডেল অনুসারে মৌলিক কণাগুলো প্রধানতঃ তিন প্রকার যথাঃ কোয়ার্কবোসন ও লেপটন। এর মধ্যে লেপটন দুই প্রকার যথাঃ ইলেকট্রন ও নিউট্রিনো। তিন ধরণের ইলেকট্রনের মধ্যে রয়েছে (১) ইলেকট্রন ইলেকট্রন (অথবা শুধুই ইলেকট্রন) (২) মিউ ইলেকট্রন (মিউয়ন) এবং (৩) টাউ ইলেকট্রন (টাউয়ন) এবং এর প্রতিটি ইলেকট্রনের সাথে আছে একটি করে নিউট্রিনো যথাঃ (১) ইলেকট্রন নিউট্রিনো, (২) মিউ নিউট্রিনো। দ্বিতীয় অধ্যায়ঃ বিশ্ব সৃষ্টিতত্ত্বের কতিপয় তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ: সৃষ্টি তত্ত্ব বিষয়ক STANDARD MODEL পদার্থ বিদ্যার যে তত্ত্বের সাহায্যে কোন বস্তুর ভরের ব্যাখ্যা দাঁড় করানো হয় তাকে ষ্ট্যান্ডার্ড মডেল” (Standard Model) বলা হয়। এই ষ্ট্যান্ডার্ড মডেলটি অস্তিত্বশীল হতে হলে প্রয়োজন পড়ে এক অতি পারমাণবিক কণা। পদার্থ বিদ্যার এই ষ্ট্যান্ডার্ড মডেল অনুসারেমহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তুর ভর সৃষ্টির প্রাথমিক ভিত্তি হচ্ছে একটি অদৃশ্য কণা। বস্তুর ভরের মধ্যে ভিন্নতার কারণও এই অদৃশ্য কণাটিই। পদার্থের ভর কিভাবে তৈরি হয় তা জানতে ১৯৬৪ সাল থেকে শুরু হয় গবেষণা। ২০০১ সালে এসে গবেষকরা যুক্তরাষ্ট্রের ফার্মিল্যাবের "টেভাট্টন" নামক যন্ত্ররে মাধ্যমে ওই কণার খোঁজ করতে শুরু করেন। এ কণার খোঁজে ২০০৮ সালে প্রতিযোগিতায় নামেন CERN এর খ্যাতনামা গবেষকরা। ২০১১ সালে CERN এর বিজ্ঞানীরা এ কণার প্রাথমিক অস্তিত্ব টের পান। পদার্থবিজ্ঞানের আইন প্রণয়নে কতিপয় তাত্ত্বিক কাঠামোর বিন্যাস বিংশ শতাব্দীতেপদার্থবিজ্ঞানের আইন প্রণয়নের জন্য দুটি তাত্ত্বিক কাঠামো আবির্ভূত হয়। প্রথম আলবার্ট আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতার সাধারণ তত্ত্বএকটি তত্ত্ব যা মহাকর্ষ বল এবং স্থান ও সময় গঠনকে ব্যাখ্যা করে। অন্যটি কোয়ান্টাম মেকানিক্স যা সম্ভাব্যতার নীতি নির্দেশিত মাত্রার সূত্র বা তত্ত্ব। ১৯৭০-এর দশকের শেষের দিকে এই দুইটি কাঠামো অতিপারমাণবিক মৌলিক কণাসহ মহাবিশ্বের পর্যবেক্ষণযোগ্য বৈশিষ্ট্যসমূহকে ব্যাখ্যায় সফলতা অর্জন করে। মহাবিশ্বের পারমাণবিক অবস্থান মহাবিশ্বের সংঙ্গে আমাদের পরিচয় মূলত: স্থূল এবং সুক্ষ্ণ তথা দৃশ্যমান এবং অদৃশ্য বস্তুর আঙ্গিকে। বস্ত্তত: পরমাণু ও পরমাণু দ্বারা গঠিত যৌগ পদার্থ দিয়ে এই মহাবিশ্ব গঠিত। আবার এই ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র পরমাণুর অভ্যন্তরে ইলেকট্রনপ্রোটন ইত্যাদি মিলে ভিন্ন এক জগত মহাজগত রয়েছে। উনিশ শতকের প্রথম দিকে জন ডাল্টন পরমাণুবাদকে বেশ শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করিয়েছিলেন। এ পরমাণুবাদের একটি স্বীকার্য ছিল, "সকল পদার্থ পরমাণু নামক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণা দ্বারা গঠিত।" উল্লেখ্যগ্রীক দার্শনিক ডেমোক্রিটাস ঈসাব্দপূর্ব ৪০০ অব্দে সর্বপ্রথম পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা’ (atom)নিয়ে মতবাদ পোষণ করেন। অ্যাটোমাস’ (atomas) শব্দ থেকে এটম (atom) শব্দটির বুৎপত্তি যার অর্থ অবিভাজ্য। অ্যারিষ্টটলের মতেপদার্থসমূহ নিরবচ্ছিন্ন (continuous)একে যতই ভাঙ্গা হোক না কেনপদার্থের কণাগুলো ক্ষুদ্র হতে ক্ষুদ্রতর হতে থাকবে। বিজ্ঞানী রাদার ফোর্ড তার পরীক্ষালব্ধ ফলাফল থেকে বলেন যেপরমাণু হলো ধনাত্মক আধান ও ভর একটি ক্ষুদ্র জায়গায় আবদ্ধ। তিনি এর নাম দেন নিউক্লিয়াস। প্রোটন ও ইলেকট্রন নিয়ে গঠিত হয় পরমাণু কেন্দ্র-এই কেন্দ্রকে বলা হয় নিউক্লিয়ার্স। নিউক্লিয়ার্স এর চার পাশে ঘুরতে থাকে পরমাণুর ইলেকট্রন। ইলেকট্রন: ইলেকট্রন একটি অধঃ-পরমাণু (subatomic) মৌলিক কণা (elementary particle) যা একটি ঋণাত্মক তড়িৎ আধান বহন করে। ইলেকট্রন ফার্মিয়ন এবং লেপ্টন শ্রেনীভুক্ত। এটি প্রধানত তড়িৎ-চুম্বকীয় মিথষ্ক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে। পারমাণবিক কেন্দ্রের (নিউক্লিয়াসের) সঙ্গে একত্র হয়ে ইলেকট্রন পরমাণু তৈরি করে এবং এর রাসায়নিক বন্ধনে অংশগ্রহণ করে। ইলেক্ট্রনের ভর 9.109×10^31 kg এবং 5.489×10^4 amu। আইনস্টাইনের ভর-শক্তি সমতা নীতির ভিত্তিতেএই ভরটি 0.511 MeV শক্তি বিশিষ্ট। "ইলেকট্রন লেপ্টন নামক অধঃপারমাণবিক কণার শ্রেণীতে অবস্থিত। এদেরকে মৌল কণিকা হিসেবে ধরা হয়অর্থাৎ এদেরকে আরও ক্ষুদ্রতর অংশে ভাগ করা সম্ভব নয়। অন্যান্য কণার মত ইলেকট্রনও তরঙ্গ হিসেবে আচরণ করতে পারে। এই আচরণটিকে তরঙ্গ-কণা দ্বৈত আচরণ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। পদার্থবিজ্ঞানে এর অপর নাম কমপ্লিমেন্টারিটি"(উইকিপিডিয়া)। বিজ্ঞানী জি. জনস্টোন স্টোনি সর্বপ্রথম তড়িৎ রসায়নে ইলেকট্রনকে আধানের একটি একক হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং তিনিই ১৮৯১ সালে ইলেকট্রন নামকরণ করেন । প্রোটন প্রোটন পরমাণুর একটি মৌলিক কণা। এই কণাটি একটি ধনাত্মক তড়িৎ আধান বহন করে। এর প্রতীক =p+। এর ভর- 1.672621777(74)×1027 kg। এটি একটি অতিপারমাণবিক কণার যৌগিক কণা। আধুনিক পদার্থ বিজ্ঞানে প্রোটন হলো হ্যাড্রোন (hadron)-এর অন্তর্গত ব্যারিয়ন শ্রেণির যৌগিক কণা। এটি তিনটি কোয়ার্ক কণা নিয়ে তৈরি হয়। এর ভিতরে থাকে দুটি আপ কোয়ার্ক (up quarks) এবং একটি ডাউন কোয়ার্ক (down quark)। দুটি আপ কোয়ার্কের আধান হলো- ২/৩+২/৩=৪/৩। পক্ষান্তরে এতে -১/৩যুক্ত ডাউন কোয়ার্ক থাকায় এর চূড়ান্ত মান দাঁড়ায় ৪/৩-১/৩= ১। এই কারণে এর প্রতীক p+। এই কোয়ার্কগুলো গ্লুয়োন শক্তি দ্বারা আবদ্ধ থাকে। এর ব্যাস ১.৬-১.৭ এফএম। পরমাণুর কেন্দ্রে এক বা একাধিক প্রোটন থাকে। একটি পরমাণুতে অবস্থিত প্রোটনের সংখ্যাকে ওই পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা বলা হয়। যেমন সোডিয়ামের পরমাণুতে প্রোটন থাকে ১১টি। তাই সোডিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা ১১। একটি পরমাণুতে প্রোটন ও নিউট্রনের সংখ্যাকে বলা হয় পারমাণবিক ভর সংখ্যা (atomic mass number)। যেমনকার্বনের পরমাণুতে প্রোটন ৬টি এবং নিউট্রন ৬টি থাকে। তাই এর পারমাণবিক ভর সংখ্যা হবে ১২।যে সকল পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা একই থাকে কিন্তু নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন হয়তখন ওই পরমাণুগুলো পরস্পরের আইসোটোপ হিসাবে বিবেচনা করা হয়। যেমন কার্বনের পরমাণুতে প্রোটন ৬টি এবং নিউট্রন ৬টি থাকেতাদের পরিচয় হয় কার্বন-১২ নামে। কিন্তু যখন কোনো পরমাণুতে প্রোটন ৬টি এবং নিউট্রন ৮টি থাকেতখন তা কার্বন-১৪ নামে পরিচিত হয়। এই বিচারে কার্বন-১২ এবং কার্বন-১৪ পরস্পরের আইসোটোপ হবে। ১৯২০ খ্রিষ্টাব্দে রাদার্ডফোর্ড (Ernest Rutherford) এর নামকরণ করেন। সূত্র: বাংলা একাডেমী বিজ্ঞান বিশ্বকোষ। ১-৫ খণ্ড। http://en.wikipedia.org/wiki/Proton নিউক্লিয়াস ইউক্যারিওটিক কোষের প্রোটোপ্লাজমের সবচেয়ে ঘনপ্রায় গোলাকারপ্রোটিন ও লিপিড দিয়ে তৈরি দুটি একক পর্দা দিয়ে ঢাকা যে অংশ বংশগত পদার্থ ও DNA বহন করে এবং কোষের যাবতীয় বিভিন্ন কাজগুলি নিয়ন্ত্রণ করেতাকে নিউক্লিয়াস বলে। ল্যাটিন ভাষায় নিউক্লিয়াসের অর্থ হল শাঁস। https://completegyan.com/https://completegyan.com//নিউক্লিয়াস-গঠন-কাজ-ক্লি/ রবার্ট ব্রাউন (RobertBrown) সর্বপ্রথম ১৮৩১ সালে অর্কিড পাতার কোষে নিউক্লিয়াস দেখতে পান এবং এর নামকরণ করেন।[১] রাসায়নিকভাবে নিউক্লিয়াস মূলত প্রোটিন ও নিউক্লিক এসিড দ্বারা গঠিত। এতে অন্যান্য উপাদানও থাকে। যেমনঃ প্রোটিন (Protein), আরএনএ(RNA), ডিএনএ(DNA) । সিভকোষ বা লোহিত রক্তকণিকায় নিউক্লিয়াস থাকে না৷[২] নিউক্লিয়াসে বংশগতির বৈশিষ্ট্য নিহিত ৷ এটি কোষে সংঘটিত বিপাকীয় কার্যাবলিসহ সব ক্রিয়া-বিক্রিয়া নিয়ন্ত্রন করে ৷ সুগঠিত নিউক্লিয়াস নিচের অংশগুলো দেখা যায়: নিউক্লিয়ার ঝিল্লি নিউক্লিয়াস কে ঘিরে রাখে যে ঝিল্লী তাকে নিউক্লিয়ার ঝিল্লী বলে ৷ এটি দ্বিস্তর বিশিষ্ট ঝিল্লী ৷ এ ঝিল্লী লিপিড ও প্রোটিন এর সমন্বয়ে গঠিত ৷ এ ঝিল্লীতে মাঝে মাঝে কিছু ছিদ্র থাকে একে নিউক্লিয়ার রন্ধ্র বলে ৷ এই ছিদ্রের মাধ্যমে কেন্দ্রিকা ও সাইটোপ্লাজম এর মধ্যে কিছু বস্তু চলাচল করে ৷ এই ঝিল্লী সাইটোপ্লাজম থেকে কেন্দ্রিকার অন্যান্ন বস্তুকে পৃথক করে ও বিভিন্ন বস্তুর চলাচল নিয়ন্ত্রন করে ৷[৩] নিউক্লিওপ্লাজম কেন্দ্রিকা ঝিল্লীর অভ্যন্তরে জেলির ন্যায় বস্তু বা রসকে কেন্দ্রকারস বা নিউক্লিওপ্লাজম বলে ৷ কেন্দ্রিকা রসে নিউক্লিক এসিড প্রোটিন উৎসেচক ও কতিপয় খনিজ লবণ থাকে ৷ নিউক্লিওলাস কেন্দ্রিকার মধ্যে ক্রোমোজম এর সাথে লাগানো গোলাকার বস্তুকে নিউক্লিওলাস বা কেন্দ্রিকাকাণু বলে ৷ এরা RNA ও প্রোটিন দ্বারা গঠিত ৷ এরা নিউক্লিক এসিড মজুদ করে ও প্রোটিন সংশ্লেষণ করে ৷ নিউক্লিওলাস ক্রোমোসোমের যে স্থানটিতে লাগানো থাকে তাকে বলা হয় স্যাটেলাইট। ক্রোমাটিন জালিকা কোষের বিশ্রামকালে কেন্দ্রিকায় কুন্ডলী পাকানো সূক্ষ সুতার ন্যায় অংশই হল ক্রোমাটিন জালিকা ৷ কোষ বিভাজনের সময় এরা মোটা ও খাটো হয় তাই তখন তাদের আলাদা ক্রোমোজোম হিসেবে দেখা হয় ৷ http://bigganeradda.blogspot.com/2016/02/nucleus.html দ্বিতীয় অধ্যায় (তাত্ত্বিক) বিশ্ব সৃষ্টিতত্ত্বের কতিপয় তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ: তাত্ত্বিক বস্ত্ত জগত মহাবিশ্বের সংঙ্গে আমাদের পরিচয় মূলত: ১. দৃশ্যমান স্থূল বস্তু/পদার্থ যথাঃ গ্রহ-নক্ষত্রচাঁদসূর্যপৃথিবীছায়াপথগ্যালাক্সি এবং ২. অদৃশ্যমান সুক্ষ্ণ পারমানবিক/অতিপারমানবিক বস্তু কণা যথাঃ নিউট্রনপ্রোটননিউক্লিয়াস,নিউট্রিনো ইত্যাদির আঙ্গিকে। নিউটনীয়ান বলবিজ্ঞান বলবিজ্ঞান পদার্থবিজ্ঞানের মূল শাখা যা মানুষের চোখে দৃশ্যমান বৃহৎ জগৎ নিয়ে আলোচনা করে। সেই হিসেবে দৃশ্যমান প্রাকৃতিক বিশ্ব সম্বন্ধে এটিই মূল তত্ত্ব প্রণয়নের দাবী করতে পারে। বলবিজ্ঞান মহাবিশ্বের যেকোন বস্তুর উপর চারটি মৌলিক বলের প্রভাব বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করে। মৌলিক বল চারটি হল: মহাকর্ষসবল নিউক্লিয়দূর্বল নিউক্লিয় এবং তাড়িতচৌম্বক বল। বলবিজ্ঞান (গ্রিক: Μηχανικήইংরেজি: Mechanics) (অথবা বলবিজ্ঞান) পদার্থবিজ্ঞানের একটি শাখাযেখানে কোনো বল প্রযুক্ত হওয়ার ফলে ভৌত বস্তুর সরণ বা অন্যান্য আচরণ এবং পরিবেশের উপর তার প্রভাব নিয়ে আলোচনা করা হয়ে থাকে। এটি গণিত শাস্ত্রেও অধীত হয়ে থাকে। মূলত বস্তুর স্থির বা গতিশীল অবস্থা নিয়ে এতে আলোচনা করা হয়। পদার্থবিজ্ঞানের এই শাখাটির সূচনাকাল বলা যেতে পারে প্রাচীন গ্রিক সভ্যতার স্বর্ণযুগকে। সে সময় অ্যারিস্টটল বিভিন্ন বস্তুযেমন: পাথর কিংবা ভারী জাতীয় কোনো বস্তু বাতাসে নিক্ষেপ করলে কেমন আচরণ করেতা নিয়ে গবেষণা করেছিলেন। পরবর্তীতে এ গবেষণাকে বলবিদ্যা নামে এগিয়ে নিয়ে যান জ্যোতির্বিজ্ঞানী গ্যালিলিওইয়োহানেস কেপলার এবং সবশেষে পদার্থ বিজ্ঞানী আইজাক নিউটন। এতে তাঁরা বলবিজ্ঞানের মৌলিক তত্ত্বগুলোর তাত্ত্বিক আলোচনা করেন। অবশ্য নিউটনের উদ্ভাবিত নীতিগুলোকে নিয়ে নিউটনীয় বলবিজ্ঞান নামে একটি পৃথক শাখা গড়ে উঠেছে। যিনি বলবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশুনা এবং গবেষণা করেনতাঁকে বলবিজ্ঞানী বলা হয়। বলবিজ্ঞান প্রযুক্তির জগতেও একটি মৌলিক ভূমিকা পালন করে থাকে। এটি ভৌত জ্ঞানসমূহকে মানুষের কাজে লাগানোর উপযোগী করে তৈরি করে থাকে। এজন্য অনেক সময় এই শাখাটিকে প্রকৌশল বা ফলিত বলবিজ্ঞান নামকরণ করা হয়ে থাকে। এদিক দিয়ে চিন্তা করলে বলবিজ্ঞানই যন্ত্রের যান্ত্রিক গঠন এবং যন্ত্রসমূহের ব্যবহার ও প্রয়োগবিধি নির্দেশ করে। যন্ত্র প্রকৌশলমহাকাশ প্রকৌশল (aerospace), পুর প্রকৌশলজৈব বলবিজ্ঞান, structural engineering, materials engineering, biomedical engineering ইত্যাদি অধ্যয়নে বলবিজ্ঞান সহায়ক হিসাবে ভূমিকা রাখে। নিউটনীয়ান বল বিজ্ঞানের প্রকারভেদ নিম্নোক্ত বিষয়সমূহ নিয়ে বলবিজ্ঞানর ভিত রচিত হয়:  নিউটনীয় বলবিজ্ঞানগতি (সৃতিবিজ্ঞান) এবং বলের (গতিবিজ্ঞান) মৌলিক আলোচনা করে।  ল্যাগ্রাঞ্জীয় বলবিজ্ঞান: (Lagrangian mechanics) একটি তাত্ত্বিক আচারপ্রিয়তা (formalism)।  হ্যামিল্টনীয় বলবিজ্ঞান: আরেকটি তাত্ত্বিক আচারপ্রিয়তা।  খ বলবিজ্ঞানতারা: ছায়াপথ]] ইত্যাদির গতি।  জ্যোতির্গতিবিজ্ঞান: নভোযান চালনা।  কঠিন বলবিজ্ঞান: স্থিতিস্থাপকতা এবং দৃঢ় ও অল্প দৃঢ় বস্তুর আলোচনা।  শব্দবিজ্ঞান: কঠিন এবং তরলে শব্দের আচরণ।  স্থিতিবিজ্ঞান: যান্ত্রিক সাম্যাবস্থা।  প্রবাহী বলবিজ্ঞানতরল পদার্থের গতি।  Continuum mechanics, mechanics of continua (both solid and fluid)  তরল স্থিতিবিজ্ঞান (hydraulics): সাম্যাবস্থায় তরল।  ফলিত বলবিজ্ঞান  জৈব বলবিজ্ঞান  পরিসাংখ্যিক বলবিজ্ঞান  অপেক্ষবাদিক অথবা আইনস্টাইন বলবিজ্ঞান। (সূত্রঃ https://bn.wikipedia.org/wiki/বলবিজ্ঞান বিশেষ আপেক্ষিকতা বা আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্ব আপেক্ষিকতার এই বিশেষ তত্ত্বটি আলবার্ট আইনস্টাইন প্রথম ১৯০৫ সালে On the Electrodynamics of Moving Bodies নামক গবেষণা পত্রে প্রকাশ করেন। আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্ব থেকে পদার্থবিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলব্ধি সূচীত হয়। আর সেটি হল শক্তি ও ভর সমতুল্য। এই সূত্র অনুসারে ভরের কোন বস্তুর সমতুল্য শক্তির পরিমাণ ঐ ভরের সাথে আলোর বেগ(c)এর বর্গের গুনফল এর সমান। অর্থাৎ ১ কেজি ভরের কোন বস্তু বিলুপ্ত হলে যে শক্তি সে দিয়ে যাবে তার পরিমাণ ৯০০০০০০০০০০০০০০০০ জুল। এই অবিশ্বাস্য পরিমাণ শক্তি আমেরিকার মত একটি দেশের দিনের বৈদ্যুতিক শক্তির যোগান দিতে পারে! সমীকরণটি শক্তির সাথে ভরের একটি চমৎকার সম্পর্ক নির্দেশ করে। এ থেকে বোঝা যায় যেশক্তি এবং ভর আসলে একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। ভর থেকে শক্তি পাওয়া যায় এবং শক্তি থেকেও ভর পাওয়া যেতে পারে। অর্থাৎ শক্তি এবং ভর পরস্পর সমতুল্য। ভর শক্তিতে রূপান্তরিত হবার সবচাইতে পরিচিত এবং বেদনাদায়ক উদাহরণটি হল হিরোশিমা-নাগাসাকিতে ১৯৪৫ সালের ৬ ও ৮ আগস্ট মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফেলা পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা। পারমাণবিক বোমাতে একটি বড় মৌলের পরমাণুকে (যেমনঃ- ইউরেনিয়াম বা প্লুটোনিয়াম) নিউট্রন দ্বারা আঘাত করে ভেঙ্গে ফেলা হয়। ফলে বড় পরমাণুটি ভেঙ্গে দুইটি নতুন পরমাণুতে বিভক্ত হয় এবং কিছু ভর পরিণত হয় শক্তিতে। উল্লেখ্যমেঘনাদ সাহা ও তার সহপাঠী এবং সহকর্মী সত্যেন্দ্রনাথ বসু সর্বপ্রথম আলবার্ট আইনস্টাইনের স্পেশাল থিওরি অফ রিলেটিভিটি জার্মান থেকে ইংরাজি অনুবাদ করেন যা কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত হয়। [১] আপেক্ষিকতার সাধারণ তত্ত্ব আপেক্ষিকতার সাধারণ তত্ত্ব (ইংরেজিতে General Theory of Relativity তথা GTR বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন কর্তৃক আবিষ্কৃত মহাকার্ষের একটি জ্যামিতিক তত্ত্ব বিশেষ। এটি বিশেষ আপেক্ষিকতা এবং নিউটনের মহাকর্ষ তত্ত্বকে একীভূত করার মাধ্যমে একটি বিশেষ অন্তর্দৃষ্টির জন্ম দিয়েছে। অন্তর্দৃষ্টিলব্ধ বিষয়টি হচ্ছেস্থান এবং কালের বক্রতার মাধ্যমে মহাকর্ষীয় ত্বরণের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যাকরণ। সাধারণ আপেক্ষিকতা: "টাইম মেশিন" বা সময় যন্ত্রের ধারণা তত্ত্ব! আইনস্টাইন এই ফর্মুলার মাধ্যমে স্থান ও কালের মধ্যে সংযোগ সেতু স্থাপন করেছেন যা আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান বড় ভূমিকা পালন করে। এই ফর্মূলামতেস্থান-কালের মধ্যস্থিত পদার্থের ভর-শক্তি এবং ভরবেগের কারণেই এক প্রকার মহাজাগতিক বক্রতার উৎপত্তি ঘটে যা ভবিষ্যতে অতি দ্রুত সময়ে মহাবিশ্ব ভ্রমণেচ্ছু সায়েন্স ফিকশনিস্টদের বহুল প্রত্যাশিত "টাইম মেশিন" বা সময় যন্ত্রের ধাঁধা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।[১] ব্যাপারটি অনেকটা টানটান করে বেঁধে রাখা একটি চাদরের মাঝখানে একটি বেশ ভারী পাথর রেখে দেয়ার মত। পাথর রাখার কারণে চাদরের কেন্দ্রভাগে একটি বক্রতার সৃষ্টি হয়। এখন চাদরের উপর অপেক্ষাকৃত কম ভরের আরেকটি পাথর রাখলে তা কেন্দ্রের দিকে ঝুঁকে পড়বে বা পড়ে যেতে চাইবে। দেখা যাচ্ছে বেশি ভরের পাথরের মাধ্যমে সৃষ্ট বক্রতার কারণে কম ভরের পাথরটি তার দিকে টান অনুভব করছে। মহাবিশ্বের ক্ষেত্রে এই চাদরটিই হল স্থান-কালের জালিকা। একটি বস্তুর কারণে এই জালিকায় সৃষ্ট বক্রতাই মহাকর্ষীয় আকর্ষণ বলের কারণ। আইনস্টাইনীয় এই ফর্মুলা মতেদুই বা ততোধিক ভরের মধ্যে পর্যবেক্ষণকৃত মহাকর্ষীয় আকর্ষণ বলের কারণ হলতারা নিজেদের ভরের মাধ্যমে আশেপাশের স্থান-কালকে বাঁকিয়ে দেয়। ফলে স্থানিক দূরত্ব অতিমাত্রায় কমে আসে। এ প্রক্রিয়ায় সায়েন্স ফিকশনিস্টরা স্থানিক দূরত্ব কমে যাওয়ার সুবাদে নভোতরী বা নভোভেলায় চড়ে অনায়াসে মহাকাশের এ প্রান্ত থেকে ওপার প্রান্ত চষে বেড়াতে পারবে বৈকি। আপেক্ষিকতা নটনীয় বিদ্যার সেতু বন্ধ নিউটনীয় বলবিদ্যা অনুসারে বৈজ্ঞানিক বিশ্বাস ছিল যেভরস্থান এবং কাল (সময়) এ সবই পরম। পক্ষান্তরে আইনস্টাইনীয় বিশেষ আপেক্ষিকতা বা আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্ব (সংক্ষেপে STR)মতেভরস্থান এবং কাল (সময়)- এ সবই আপেক্ষিক। এতে সুস্পষ্ট প্রতীয়মান যেনিউটনীয় বল বিদ্যার সাথে আইনস্টাইনীয় বিশেষ আপেক্ষিকতায় তাত্ত্বিক যোগসূত্রতা নেই। ফলে অনেক পদার্থবিজ্ঞানীই নিউটনের মহাকর্ষ তত্ত্বের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি আপেক্ষিকতাভিত্তিক তত্ত্ব আবিষ্কারের চেষ্টা করতে থাকেন যাদের মধ্য স্বয়ং আইনস্টাইনও ছিলেন। শেষ পর্যন্ত আইনস্টাইনই সফলতা অর্জন করেনতার তত্ত্বটিই পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে সত্য প্রমাণিত হয়। প্রতিষ্ঠা পায় সাধারণ আপেক্ষিকতা। উল্লেখ্যমহাবিশ্ব কেন্দ্রিক নিউটনীয় বলবিদ্যা তথা তৎকালীন সমসাময়িক চিন্তাধারা অনুসারে মহাবিশ্ব স্থির ধরা হয়েছিল। নিউটনীয় বলবিদ্যা বা সমসাময়িক চিন্তাধারার সাথে আইনস্টাইনও ১৯০৫ সালে আবিস্কৃত তাঁর জগদ্বিখ্যাত বিশেষ আপেক্ষিকতা তত্ত্বের মধ্যে সামঞ্জস্য বিধানের জন্য নিউটনীয় বিশ্বাসের আলোকে, "স্থির বিশ্ব-কে স্থির" ধরেই আইনস্টাইন তাঁর মূল ক্ষেত্রের সমীকরণগুলোতে একটি নতুন পরামিতি যুক্ত করেছিলে-যাকে আইনস্টাইনীয় সাধারণ আপেক্ষিকতার সাথে নিউটনীয় বল বিদ্যার সেতু বন্ধ বলা যেতে পারে। কিন্ত্ত প্রশ্ন দেখা দেয় যেকিভাবে সাধারণ আপেক্ষিকতাকে কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞানের সাথে একত্রিত করে কোয়ান্টাম মহাকর্ষের একটি সম্পূর্ণ স্বতঃপ্রবৃত্ত সূত্র নির্ণয় করা যায়কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞানের ইতিহাস চিরায়ত বলবিজ্ঞান আমাদের চারপাশের জগতের অনেক ঘটনা নির্ভুলভাবে ব্যাখ্যা করতে সক্ষম। চিরায়ত বলবিজ্ঞান আমাদের চারপাশের জগতের অনেক ঘটনা নির্ভুলভাবে ব্যাখ্যা করতে সক্ষম। আইজাক নিউটন ১৬৮৬ সালে তার বিখ্যাত বই Philosophiae Naturalis Principia Mathematica, সংক্ষেপে প্রিন্সিপিয়া ম্যাথেম্যাটিকা-তে চিরায়ত বলবিজ্ঞানের মূলসূত্রগুলি লিপিবদ্ধ করেন। এরপর প্রায় দুইশ বছর ধরে এই সূত্রগুলিই পদার্থবিজ্ঞান ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের সমস্ত ঘটনাবলির ব্যখ্যার কাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। চিরায়ত ও আপেক্ষিকতাভিত্তিক বলবিজ্ঞান নিশ্চয়তাবাদী: চিরায়ত ও আপেক্ষিকতাভিত্তিক বলবিজ্ঞান নিশ্চয়তাবাদী: অর্থাৎ এগুলিতে বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে নির্ভুল জ্ঞান থাকলে ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নির্ভুল ভবিষ্যদ্বাণী করা সম্ভবদৈবের কোন স্থান এখানে নেই। কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞান অনিশ্চয়তাবাদী: অন্যদিকে কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞান সম্ভাবনাভিত্তিক: বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে নির্ভুল জ্ঞান থাকলেও ভবিষ্যৎ কী ঘটবে তার পূর্বাভাস দেয়া কঠিন। এই অদ্ভুত বৈশিষ্ট্য সত্ত্বেও কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞান অত্যন্ত নির্ভুলভাবে পারমাণবিক ও অতিপারমাণবিক স্তরের অনেক ঘটনা ব্যাখ্যা করতে সক্ষমএবং চিরায়ত বলবিজ্ঞানের সাহায্যে এই মাত্রার নির্ভুলতায় পৌঁছানো সম্ভব নয়কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞান কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞান (ইংরেজি: Quantum mechanics) বা কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞান (ইংরেজি: Quantum physics) আধুনিক পদার্থ বিজ্ঞানের একটি শাখা যা পরমাণু এবং অতিপারমাণবিক কণার/তরঙ্গের মাপনীতে[টীকা ১] পদার্থের আচরণ বর্ণনা করে। কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞানকে ব্যবহার করে বিশাল কোন বস্তু যেমন তারা ও ছায়াপথ সম্পর্কিত বিষয় ব্যাখ্যা করা যায় তেমনি এবং বিশ্ব সৃষ্টি তত্ত্বমূলক যেমন মহা বিস্ফোরণ (বিগ ব্যাং) এর ঘটনাও ব্যাখ্যা করা যায়। পদার্থবিজ্ঞানের যেসব ক্ষেত্রে চিরায়ত নিউটনীয় বলবিজ্ঞান দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় নাসেসব ক্ষেত্রে পদার্থগুলির ভৌত আচরণ সম্পর্কে ধারণা পাবার জন্য পদার্থবিজ্ঞানীরা কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞান ব্যবহার করে থাকেন। কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞান রসায়নআণবিক জীববিজ্ঞানইলেকট্রনিক্‌সকণা পদার্থবিজ্ঞানন্যানোপ্রযুক্তি এবং প্রযুক্তিবিদ্যার আধুনিক উন্নয়নের ভিত্তিএবং বিজ্ঞানের এই শাখাগুলো বিগত পঞ্চাশ বছরে পৃথিবীকে প্রায় সম্পূর্ণভাবে রূপান্তরিত করেছে। কোয়ান্টাম মহাকর্ষতত্ত্ব কোয়ান্টাম মহাকর্ষ আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের খুব সক্রিয় একটি গবেষণা ক্ষেত্র। এর অধীনে একাধিক তত্ত্ব আছে যার একটি আবার অন্যটির সাথে প্রতিযোগিতায় মত্ত। অনেক সময় একে সবকিছুর তত্ত্ব বা থিওরি অফ এভরিথিং বলা হয়। মূলত এটি পদার্থবিজ্ঞানের দুটি বৃহৎ ক্ষেত্রকে একত্রিত করার চেষ্টা করে। ক্ষেত্র দুটি হচ্ছে ১. মহাকর্ষ এবং ২. কোয়ান্টাম বলবিদ্যা। কোয়ান্টাম মহাকর্ষ তত্ত্বের উদাহরণ হিসেবে সুপারস্ট্রিং তত্ত্বএর উত্তরসূরী এম-তত্ত্ব এবং এদের প্রতিযোগী লুপ কোয়ান্টাম মহাকর্ষ । অনেকেই মনে করেনতমোপদার্থ গবেষণার চেয়ে কোয়ান্টাম মহাকর্ষ নিয়ে কাজ করাটা অনেক মৌলিক এবং আকর্ষণীয় একটি বিষয়। কারণ কোয়ান্টাম মহাকর্ষ প্রকৃতির সকল মৌলিক বলকে একটি সূত্রের মাধ্যমে ব্যাখ্যার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এই অতি মৌলিক তত্ত্বটি প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেলে তা দিয়ে তমোপদার্থের মত সকল সমস্যার সমাধান করা যাবে বলে মনে করেন অনেকে। কারণ তমোপদার্থ একটি চিরায়ত সমস্যা সমাধানের জন্য প্রস্তাবকৃত একটি চিরায়ত পদার্থবিজ্ঞানের সমাধান। কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞান কোয়ান্টাম জনক কার্ল আর্নস্ট লুডভিগ মার্কস প্ল্যানক কার্ল আর্নস্ট লুডভিগ মার্কস প্ল্যানক (German: [ˈplaŋk]; English: /ˈplæŋk/; জন্ম: ২৩ এপ্রিল ১৮৫৮ - ৪ অক্টোবর ১৯৪৭) জার্মান তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানী ছিলেন। 1918 সালে প্লাংক পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেছিলেন। ১৮৮৯ থেকে ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক মিউনিখ বিশ্ববিদ্যালয়ের তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের সার্বক্ষণিক শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান। তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানে প্লাংক অনেক অবদান রেখেছিলেনকিন্তু পদার্থবিজ্ঞানী হিসাবে তাঁর খ্যাতি মূলত: কোয়ান্টাম তত্ত্বের জনক হিসাবে। তাঁর এই অবদান অতি পারমাণবিক পর্যায়ে মহাবিশ্বকে বোঝার ক্ষেত্রে বিপ্লব সৃষ্টি করে। তাঁর প্রতিভার স্বকৃতিস্বরূপ 1948 সালে জার্মান বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠান "কাইজার উইলহেল সোসাইটির" (যার মধ্যে প্লাংক দুবার সভাপতি ছিলেন) নামকরণ করা হয় "ম্যাক্স প্লাংক সোসাইটি (এমপিএস)"। ৮০টি বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট নিয়ে প্ল্যাঙ্ক সোসাইটি এখন বিশ্বের অন্যতম সেরা ও সফল বিজ্ঞানবিষয়ক সংস্থা। কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞানের ইতিকথা কোয়ান্টাম বল বিজ্ঞানের জনক ম্যাক্স প্ল্যাঙ্কের সময়ে ক্লাসিক্যাল পদার্থবিজ্ঞানের একটি বড় সমস্যা ছিল কৃষ্ণ বস্তুর বিকিরণ। কৃষ্ণ বস্তু হলো এমন বস্তু যা এর উপর আপতিত সকল তড়িৎচুম্বক বিকিরণ শোষণ করে নেয়। বিজ্ঞানীরা ভাবতেন কৃষ্ণবস্তুকে উত্তপ্ত করলে এটি তড়িৎচুম্বক তরঙ্গ বিকিরণ করে। এসব তরঙ্গের তরঙ্গদৈর্ঘ্য অতিবেগুনীঅবলোহিত এবং দৃশ্যমান আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সীমার মধ্যে পড়ে। কিন্তু উনিশ শতকে অনেক বিজ্ঞানী পর্যবেক্ষণে দেখতে পান যেক্লাসিক্যাল তাপগতি বিজ্ঞানের সাথে পরীক্ষায় পাওয়া উষ্ণ বস্তুর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের কোনো মিল নেই। তত্ত্বের সাথে পর্যবেক্ষণের এই সমস্যা দূর করতে এগিয়ে আসেন ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক। তিনি প্রস্তাব করেন যেশক্তি অবিচ্ছিন্নভাবে যেকোনো পরিমাণে নির্গত হয় না বরং নির্দিষ্ট পরিমাণে নির্গত হয়- যার নাম দেন তিনি কোয়ান্টা। এখান থেকেই কোয়ান্টাম তত্ত্বের উদ্ভব। এই তত্ত্ব পর্যবেক্ষণ থেকে প্রাপ্ত তরঙ্গের তরঙ্গদৈর্ঘ্য সম্পর্কে সঠিক ধারণা লাভ করা যায়। প্ল্যাঙ্ক আরও বের করেন যেতড়িৎচুম্বক বিকিরণের সাথে বাহিত শক্তির পরিমাণ একটি নির্দিষ্ট সংখ্যা দ্বারা বিভাজ্য হতে হবে। এ সংখ্যাটিকেই আজ আমরা 'প্ল্যাঙ্কের ধ্রুবকবলেই জানি। তিনি একটি সমীকরণ আবিষ্কার করেন যা থেকে বিকিরণ থেকে নির্গত শক্তির পরিমাণ হিসাব করা যায়। সমীকরণটি হচ্ছে: E= শক্তির পরিমাণপ্ল্যাঙ্কের ধ্রুবক h= ৬.৬২৬*১০-৩৪, v= কম্পাঙ্ক। তৃতীয় অধ্যায় (বর্ণনামূলক) আস্তিক্যবাদী সৃষ্টি তত্ত্ব এই সৃষ্টিতত্ত্ব বিজ্ঞানমনস্ক ধর্মবিশ্বাসী সাধারণ জ্ঞানী-বিজ্ঞানীদের ধারণা-বিশ্বাসের উপর প্রতিষ্ঠিত। আস্তিক্যবাদী এই সৃষ্টি তত্ত্বের নাম ইমানিসনিজম (Emanisnim)|। ইমানিসনিজম’ (মহাবিশ্বের উৎপত্তিসৃষ্টি ও পরিবর্তন সম্পকিত একটি ধারণার নাম। ইংরেজী ‘Emanisnism’শব্দটি এসেছে ল্যাটিন ‘Emanare’ শব্দ থেকে যার অর্থ To flowfrom...to pour fourth or out ofঅর্থাৎ কোন উৎস হতে বয়ে আসাপ্রবাহিত বা আগতউৎসারিত ইত্যাদি। ইমানিজমের ধারণা-বিশ্বাস হচ্ছেসব সৃষ্টিরসব বস্তুর উদ্ভব হয়েছে First Reality বাFirst Principleবা Perfect Godথেকে। ইমানিশনিজম হচ্ছে Transcendental Principle অর্থাৎ অলৌকিক বা মানুষের জ্ঞানে কুলায় না-এমন একটি বিষয় (Beyond human knowledge: Source: A Student Dictionary)|এই সৃষ্টিতত্ত্ব মতেঃ Nothingথেকে Everythingসৃষ্টি হয়নি বরং অত্যন্ত সূক্ষ্ণদর্শী এবং মহা প্রবল প্রতাপশালী মহাজ্ঞানী একক সৃষ্টিকর্তা-ই সুপরিকল্পিত ও সুশৃঙ্খলিত এবং কঠোর নিয়মানুবর্তিতার মধ্য দিয়ে এই মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেছেন (সুবহা-নাল্লাহি ওয়াবিহামদিহীসুবহা-নাল্লাহিল আজীম)। মহাবিশ্ব সৃষ্টির রহস্য উদঘাটনে আরো একধাপ মহাজাগতিক ঘর্ষণ বা বিগ ব্যাং-এর পরে মহাকাশ থেকে মাধ্যাকর্ষণের যে তরঙ্গ প্রবাহিত হয়প্রথমবারের মতো তা আবিষ্কৃত হয়েছে৷ এর থেকে মহাবিশ্বের সৃষ্টিতত্ত্ব সম্পর্কে অনেক অজানা রহস্যের সমাধান সম্ভব হবে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। মহাজাগতিক ঘর্ষণ বা বিগ ব্যাং ঠিক কত বছর আগে হয়েছিলঅর্থাৎমহাবিশ্ব সৃষ্টি ঠিক কত কোটি বছর আগে – এটা নিয়ে আছে নানা জল্পনা-কল্পনা৷হার্ভার্ড-স্মিথসোনিয়ান সেন্টারের জ্যোতির্পদার্থবিদরা জানানযে তরঙ্গ প্রবাহের সন্ধান তাঁরা পেয়েছেনতা একটি মাইল ফলক। ১৪শকোটি বছর আগে এই তরঙ্গের উৎপত্তি হয়েছিল বলে জানান তাঁরা৷ এর সাথে আলবার্ট আইনস্টাইনের এক শতকের পুরোনো আপেক্ষিক তত্ত্বের মিল পাওয়া যায় ৷ এ থেকে এই প্রথম কসমিক ইনফ্লেশনবা মহাজাগতিক স্ফীতির সরাসরি তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেল৷ শুধু তাই নয়এই তত্ত্ব থেকে এ কথা সহজেই বলা যায় যেমহাবিশ্ব চোখের পলক ফেলার সময়ে একশ ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন গুণ বিস্তার লাভ করেছে৷ দক্ষিণ মেরুতে অবস্থানরত বিআইসটেলিস্কোপের সাহায্যে এই আলোক তরঙ্গ নির্ণয় করা সম্ভব হয়েছে৷ধারণা করা হচ্ছেঅন্যান্য বিশেষজ্ঞদের দ্বারা স্বীকৃত হলে এই গবেষণাটি নোবেল পুরস্কারের জন্য পাঠানো হবে৷ সময়ের ব্যবধানের সাথে সাথে তরঙ্গগুলোর পরিবর্তনকে বিগ ব্যাং-এর প্রথম কম্পন বলে বর্ণনা করেছেন বিজ্ঞানীরা। বর্তমানের মহাজাগতিক মডেল অনুযায়ী মহাবিশ্বের মূল উপাদান মূলতঃ কৃষ্ণ বা অন্ধকার শক্তি। ধরা হচ্ছে যে এই শক্তি সারা মহাবিশ্বে ছড়িয়ে আছে এবং মহাবিশ্বের প্রসারণের পিছনে মূল ভূমিকা পালন করছে। কৃষ্ণ শক্তির পরিমাণ যেখানে ৭৪% ভাগ ধরা হয়মোট বস্তুর পরিমাণ সেখানে ২৬%। কিন্তু এই বস্তুর মধ্যে ২২% কৃষ্ণ বস্তু ও ৪% দৃশ্যমান বস্তু। কৃষ্ণ বস্তুর অস্তিত্ব পরোক্ষভাবে গ্যালাক্সির ঘূর্ণনগ্যালাক্সিপুঞ্জমহাকর্ষীয় লেন্সিংইত্যাদি পর্যবেক্ষণ মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে। কৃষ্ণ বস্তু যেহেতু মহাকর্ষ ছাড়া অন্য কোন বলের সংঙ্গে পারতপক্ষে কোন মিথষ্ক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে নাসেই জন্য তাকে সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা কঠিন। মহাবিশ্বের সংঙ্গে আমাদের পরিচয় দৃশ্যমান বস্তুর আঙ্গিকে। পরমাণু ও পরমাণু দ্বারা গঠিত যৌগ পদার্থ দিয়ে এই দৃশ্যমান বিশ্ব গঠিত। পরমাণুর কেন্দ্রে নিউক্লিয়াস প্রোটন ও নিউট্রন দিয়ে গঠিত। প্রোটন ও নিউট্রনকে "ব্যারিয়ন" বলা হয়। ব্যারিয়ন তিনটি কোয়ার্ক কণা দিয়ে গঠিত। অন্যদিকে দুটি কোয়ার্ক কণা দিয়ে গঠিত কণাদের "মেজন" বলা হয়। অন্যদিকে লেপটন কণা কোয়ার্ক দিয়ে গঠিত নয়। সবেচেয়ে পরিচিত লেপটন কণা হচ্ছে ইলেকট্রন। প্রমিত মডেল বা স্ট্যান্ডার্ড মডেল কোয়ার্কলেপটন ও বিভিন্ন বলের মিথষ্ক্রিয়ায় সাহায্যকারী কণাসমূহ (যেমন ফোটনবোজন ও গ্লুয়ন) দিয়ে তৈরি। বর্তমানের কণা পদার্থবিদ্যাকে ব্যাখ্যা করতে এই মডেল সফল হয়েছে। মহাবিস্ফোরণ (Big Bang)ঘটার পূর্বেকার অবস্থাঃ Computer simulationএর মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা এ সিদ্ধান্তে উপনীত হন যেসর্ম্পূণ নাই/শুন্য/নিল (Nil)/জিরো(Zero) থেকে মহাবিশ্বের মহাসৃষ্টির সূচনার পূর্বে র্অথাৎ মহাবিস্ফোরণ(Big Bang) ঘটার পূর্বে মহাশক্তিশালী এক প্রকার আলোক শক্তিই বিদ্যমান ছিল-যার বৈজ্ঞানিক নামঃ মহাসূক্ষ্ণ আলোক বিন্দু” (Highest Energetic Radiation)। এতেই সম্মিলিতভাবে(Combined) নিহিত ছিল আজকের আসমান ও যমিন বা পৃথিবী। বিজ্ঞানীদের ধারণাপ্রায় ১৫০০ কোটি থেকে ২০০০ কোটি বৎসর পূর্বে উক্ত মহাসূক্ষ্ণ” বিন্দুটি 10º³e.s.aপর্যায়ে স্থিতি লাভ করেছিল। ১৯৬৫ সালে পশ্চাৎপদ বিকিরণ (Back Ground Radiation)আবিস্কারের ফলে বিজ্ঞান এ সত্য মানব জাতিকে অবগত করাতে সক্ষম হয় যেশুণ্য থেকে সৃষ্ট উক্ত Highest Energetic Radiation নামক মহাআলোক গোলকটি মহাবিস্ফোরণ (Big Bang)এর পূর্বে (১) আলো (২) শক্তি ও (৩) তাপ-এই ত্রিমাত্রিক অবস্থায় বিরাজমান ছিল । এই সময় তাপমাত্রার পরিমাণ ছিল 10³²ডিগ্রি কেলভিন অর্থাৎ ১০,০০০ কোটিকোটিকোটিকোটি ডিগ্রি কেলভিন। মহাবিস্ফোরণ (big bang)ঘটার পরবর্তী মুহুর্তের অবস্থা বৈজ্ঞানিক ভাষ্যমতে Highest Energetic Radiation-এ মহাবিস্ফোরণ (big bang) ঘটার পর মুহুর্তে তাপমাত্রা 10³ºkথেকে দ্রুত 10²8-এ নেমে আসে তখন (highest energetic photon)কণিকারা নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটিয়ে পদার্থ কণিকা হিসেবে প্রথম বারের মত কোয়ার্ক’ এবং এন্টি কোয়ার্ক এর জন্ম দেয়। অতঃপর তাপমাত্রা যখন আরো নিচে নেমে 10¹³kকেলভিনে দাঁড়ায় তখন কোয়ার্ক এবং এন্টি কোয়ার্কের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। এতে উভয় এর ব্যাপক ধ্বংস সাধন ঘটে এবং অবশিষ্ট থেকে যায় কিছু কোয়ার্ক। এরপর যখন তাপমাত্রা আরো কমে গিয়ে 10¹ºkকেলভিন-এ দাঁড়ায় তখন ৩টি কোয়ার্ক (১টি আপ কোয়ার্ক এবং ২টি ডাউন কোয়ার্ক মিলিত হয়ে প্রোটন কণিকা (Proton Particle)এবং ৩টি কোয়ার্ক (২টি আপ কোয়ার্ক এবং ১টি ডাউন কোয়ার্ক) মিলিত হয়ে নিউট্রন কণিকা (Neutron Particle) সৃষ্টি হতে থাকে। তারপর তাপমাত্রা যখন 10000000000কেলভিন-এ নেমে আসে তখন পরিবেশ আরো অনুকুলে আসায় সৃষ্ট প্রোটন কণিকা ও নিউট্রন কণিকা পরষ্পর মিলিত হয়ে প্রথমবারের মত মহাবিশ্বে এটমিক নিউক্লি গঠিত হতে থাকে। এরপর তাপমাত্রা আরও কমে গিয়ে 1000000000 কেলভিন তখন এটমিক নিউক্লি মহাবিশ্বে বিক্ষিপ্ত ভাবে ছুটে চলা ইলেকট্রনিক কণিকাকে (Electronic Particle)চর্তুদিকের কক্ষপথে ধারণ করে। ফলে প্রথমবারের মত অণু'র (atoms)সৃষ্টি হয়। আরও পরে যখন তাপমাত্রা ৩,০০০ কেলভিনে উপনীত হয় তখন মহাবিশ্বের মূল সংগঠন গ্যালাক্সি (Galaxy) সৃষ্টি হতে থাকে। পরবর্তীতে এর ভেতর নক্ষত্রগ্রহউপগ্রহ ইত্যাদি সৃষ্টি হতে থাকে। অতঃপর তাপমাত্রা যখন আরো নিম্নগামী হয়ে মাত্র ৩ কেলভিনে নেমে আসে তখন সার্বিক পরিবেশ অনুকূলে থাকায় পৃথিবীতে গাছ-পালাজীব-জন্তু ও প্রাণের ব্যাপক সমাবেশ সমাগম ঘটতে থাকে-এই হচ্ছে ২০১২ সালের ৪ঠা জুলাইয়ের পূর্ব পর্যন্ত সময়ের আধুনিক বৈজ্ঞানিক সৃষ্টিতত্ত্বের ইতিকথা।

হিগস-বোসন কণা আবিস্কারের ইতিকথাঃ হিগস্-বোসন” নামক কণাটি বিজ্ঞানীদের কাছে একটি হাই-পোসেটিক্যাল” কণিকা হিসেবে বিবেচিত ছিল। পদার্থ বিজ্ঞানের বিশেষ থিওরী Standard Modelথেকে বিজ্ঞানীরা এ কণা সম্পর্কে সম্যক ধারণা পান। সাধারণতঃ হিগস-বোসনের ভর ১২৫ থেকে ১২৬ এবং এ কণিকার স্পিন হচ্ছে শূণ্য। হিগস-বোসন কণাকে বলা হয় সুপার সিমেট্রিক (super Semetric)) পদার্থ যা-সৃষ্টির শুরুর সময়কার প্রাথমিক কণিকা বিবেচিত। হিগস-বোসন কণা আবিস্কারের ইতিকথাঃ হিগস্-বোসন” নামক কণাটি বিজ্ঞানীদের কাছে একটি হাই-পোসেটিক্যাল” কণিকা হিসেবে বিবেচিত ছিল। পদার্থ বিজ্ঞানের বিশেষ থিওরী Standard Modelথেকে বিজ্ঞানীরা এ কণা সম্পর্কে সম্যক ধারণা পান। সাধারণতঃ হিগস-বোসনের ভর ১২৫ থেকে ১২৬ এবং এ কণিকার স্পিন হচ্ছে শূণ্য। হিগস-বোসন কণাকে বলা হয় সুপার সিমেট্রিক (super Semetric)) পদার্থ যা-সৃষ্টির শুরুর সময়কার প্রাথমিক কণিকা বিবেচিত। অধ্যাপক পিটার হিগস কর্তৃক বস্তু/পর্দাথের ভরের উৎস সর্ম্পকে হিগস-বোসন কণার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা হিগস-বোসনের অচিন্ত্যনীয় গুরুত্বভূমিকা ও অবদান এবং এর সন্ধানে বিজ্ঞানীদের প্রচেষ্টা অংশ হিসাবে ১৯৬৪ সালে এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পিটার হিগস বস্তু/পর্দাথরে ভরের উৎস হিসেবে হিগস-বোসনের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা প্রদান করেন। তিনি বলেনআমরা একটা আঠালো ব্যাক গ্রাউন্ড ক্ষেত্রের কথা ভাবতে পারি। কণাগুলো এর মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় ভরপ্রাপ্ত হয়। অবশ্য এর পিছনে প্রভাবক হিসেবে কাজ করে একটি ঘটক যে প্রক্রিয়ায় হিগস-বোসন কণার অস্তিত্ব প্রমাণিতকণা’ (PARTICLE)সম্পর্কিত গাণিতিক মডেলের (Mathematical Model) সূত্রমতেউচ্চ গতিতে প্রোটনের সঙ্গে প্রোটনের আন্তঃসংঘর্ষ ঘটানো হলে বেশ কিছু মৌলিক কণা উৎপন্ন হয়। সেমতে, CERN এর লার্জ হ্যাড্রন কোলাইডার যন্ত্রে উচ্চ গতিতে প্রোটনের সঙ্গে প্রোটনের আন্তঃসংঘর্ষ ঘটিয়ে বেশ কিছু মৌলিক কণা উৎপাদন করা হয়। উৎপাদিত এই মৌলিক কণা-কে বলা হয় হিগস্-বোসন” কণা। হিগস-বোসন কণা আবিস্কারের ইতিকথাঃ হিগস্-বোসন” নামক কণাটি বিজ্ঞানীদের কাছে একটি হাই-পোসেটিক্যাল” কণিকা হিসেবে বিবেচিত ছিল। পদার্থ বিজ্ঞানের বিশেষ থিওরী standard model থেকে বিজ্ঞানীরা এ কণা সম্পর্কে সম্যক ধারণা পান। সাধারণতঃ হিগস-বোসনের ভর ১২৫ থেকে ১২৬ এবং এ কণিকার স্পিন হচ্ছে শূণ্য। হিগস-বোসন কণাকে বলা হয় সুপার সিমেট্রিক (super cemetery)) পদার্থ যা-সৃষ্টির শুরুর সময়কার প্রাথমিক কণিকা বিবেচিত। যে প্রক্রিয়ায় হিগস-বোসন কণার অস্তিত্ব প্রমাণিত হলো কণা’ (PARTICLE) সম্পর্কিত গাণিতিক মডেলের (Mathematical Model) সূত্রমতেউচ্চ গতিতে প্রোটনের সঙ্গে প্রোটনের আন্তঃসংঘর্ষ ঘটানো হলে বেশ কিছু মৌলিক কণা উৎপন্ন হয়। সেমতে, CERNএর লার্জ হ্যাড্রন কোলাইডার যন্ত্রে উচ্চ গতিতে প্রোটনের সঙ্গে প্রোটনের আন্তঃসংঘর্ষ ঘটিয়ে বেশ কিছু মৌলিক কণা উৎপাদন করা হয়। উৎপাদিত এই মৌলিক কণা-কে বলা হয় হিগস্-বোসন” কণা। হিগস-বোসন কণা'র অস্তিত্ব প্রমাণে CERNএর বিপুল আয়োজন! পদার্থবিদরা বিশ্বাস করেন যেরহস্যময় হিগস-বোসনের সঙ্গে সংঘর্ষে বিভিন্ন মাত্রার ভরের (Mass) জন্ম হয়। পদার্থ বিজ্ঞানের এ সংক্রান্ত বেশ কিছু প্রশ্নকে সামনে রেখে ১৯৭১ সাল থেকে কণাত্বরণ যন্ত্র লার্জ হ্যাড্রন কলাইডারে এ বিষয়ে বাস্তব প্রমাণের উদ্যোগ নেয়া হয় । তবে ২০০৮ সাল থেকে এই কলাইডারের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।বিপুল শক্তিসম্পন্ন অতি পারমাণবিক কণার জন্ম-তত্ত্ব আবিস্কার করতে CERNআয়োজন করেছিল বিশাল আকারের মহাপরিকল্পনা। এই পরীক্ষা মানব ইতিহাসে শুধু গুরুত্বপূর্ণই নয়দীর্ঘ সময়সাপেক্ষ এবং ব্যয় বহুলও বটে। অতি পারমাণবিক কণার জন্ম-তত্ত্ব গবেষণার প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল তৎকালীন প্রায় ৫০০ কোটি পাউন্ড এবং তাতে উপস্থাপিত হয়েছে অন্ততঃ ৬০,০০০ (ষাট হাজার) অত্যাধুনিক কম্পিউটার। হিগস-বোসন কণার নির্ভুল অস্তিত্বপ্রমাণে CERN এর সর্বোচ্চ সর্তকতা বস্তু-পদার্থজাত বিশ্ব সৃষ্টির নির্ভুল ও অভিন্ন রহস্য বা উৎসমূল আবিস্কারের মহৎ লক্ষ্যে আজিকার বিশ্বের খ্যাতনামা সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি গবেষণা কেন্দ্রে CERNকর্তৃক বিশ্বের খ্যাতনামা বিজ্ঞানীদের-কে যথাক্রমে (১) Atoroidallhc apparatus (atlas) এবং (২) Compact muon solenoid (cms) নামক দু'টি দলে বিভক্ত করা হয়। সর্ম্পূণ পৃথক ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনায় একদল-কে জেনেভা এবং অপর দল-কে লন্ডনে নিয়োজিত করা হয়েছিল-যাতে উভয় দল একে অপরের কার্যক্রম সর্ম্পকে বিন্দুমাত্র অবহতি না হতে পারে। উদ্দেশ্য: নির্ভুলভাবে অভিন্ন ফলাফল লাভ। অবশেষে উভয় দল বিশাল দূরত্বে (জেনেভা হতে লন্ডন) অবস্থান করে কোন প্রকার পূর্ব যোগাযোগ ব্যতিরেকেই হিগস-বোসন অতিপারমানবিক কণা প্রাপ্তির বিষয়ে একই সঙ্গে একই ফলাফলে উপনীত হয়। যার ফলে CERNকর্তৃপক্ষ ২০১২ সালের ৪ঠা জুলাইবুধবার এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মলেনে বিশ্ববাসীকে এ মর্মে বিজ্ঞাপিত করে যেস্ট্যান্ডার্ড মডেলের স্বীকৃত ১২তম হিগস-বোসন নামক বহুল প্রত্যাশিত মৌলিক কণারটির সন্ধান পাওয়া গেছে। 

মহাবিশ্বের গঠন ও আকার: নিউটনের গতি ও মহাকর্ষ সংক্রান্ত গভীর ধারণা পর্যবেক্ষণের সাথে সৌরকেন্দ্রিক জগতের সামঞ্জস্য নির্ধারণ করে। ধীরে ধীরে জ্যোতির্বিদরা আবিষ্কার করেন সূর্যের মতই কোটি কোটি তারা দিয়ে এক একটি গ্যালাক্সি গঠিত। কয়েক শত বছর পূর্বে বিজ্ঞানীদের ধারণা ছিল সমগ্র মহাবিশ্ব মানে শুধুমাত্র আমাদের এই ছায়াপথ গ্যালাক্সিটিই। ১৯২০র দশকে উন্নত দুরবীনের কল্যাণে জ্যোতির্বিদরা আবিষ্কার করলেন ছায়াপথের বাইরে অন্য গ্যালাক্সিদের। [৭][৮] সেই কোটি কোটি গ্যালাক্সিদের মধ্যে ছায়াপথের মতই কোটি কোটি তারাদের অবস্থান। সেই সমস্ত গ্যালাক্সিদের থেকে আগত আলোর বর্ণালি বিশ্লেষণে বোঝা যায় যেসেই গ্যালাক্সিগুলি আমাদের থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। [৯] এর সহজতম ব্যাখ্যা হল গ্যালাক্সিদের মধ্যে স্থানের প্রসারণ হচ্ছে এবং প্রতিটি গ্যালাক্সিই অন্য গ্যালাক্সি থেকে দূরে সরছে। 

কৃষ্ণ বা অন্ধকার বস্তু (Dark matter): বিজ্ঞানীদের ধারণা হল সুদূর অতীতে সমস্ত গ্যালাক্সিগুলি বা তাদের অন্তর্নিহিত সমস্ত পদার্থই একসাথে খুব ঘন অবস্থায় ছিল এবং কোন এক কালে মহা বিস্ফোরণের ফলে বস্তুসমূহ একে অপর থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। এই বিস্ফোরণের নাম দেওয়া হল বিগ ব্যাং(Big Bang)। ১৯৬০এর দশকে বিজ্ঞানীরা বিগ ব্যাং-এ সৃষ্ট উষ্ণ বিকিরণের শীতল অবশেষের সন্ধান পেলেন।[১০] এই তরঙ্গ বিগ ব্যাং ঘটনার প্রায় ৪,০০০০০ (চার লক্ষ) বছর পরেবস্তু ঘনত্বের হ্রাসের পরমুক্ত হয়েছিল। এই মাইক্রোওয়েভ বিকিরণ মহাবিশ্বের প্রতিটি জায়গাতেই পাওয়া যায়। এক অর্থে বলা যায় এই তরঙ্গ দৃশ্যমান মহাবিশ্বের শেষ প্রান্ত থেকে আসছে। বিংশ শতাব্দীর শেষে এসে জ্যোতির্বিদরা আবিষ্কার করলেন মহাবিশ্বের প্রসারণ ত্বরাণ্বিত হচ্ছে।[১১] বিগ ব্যাং মডেল অনুযায়ী মহাবিশ্বের শুরু হয়েছিল একটা ভীষণ ঘন ও উষ্ণ দশা থেকে। সেই সময় থেকে মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ চলেছে। 

উল্লেখ্য, মহাবিস্ফোরণের শুরুর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই (চোখের পলক ফেলারও কম সময়ের মধ্যে অর্থাৎ (10-²± সেকেন্ডের মধ্যেই) মহাবিশ্বের অতিস্ফিতী (Inflation) হয়- যা কিনা স্থানের প্রতিটি অংশে প্রায় একই তাপমাত্রা স্থাপন করতে সাহায্য করে।[১২] এই সময়ে সুসম ঘনত্বের মাঝে হ্রাস-বৃদ্ধির ফলে ভবিষ্যত গ্যালাক্সি সৃষ্টির বীজ তৈরি হয়। বিজ্ঞানীদের ধারণা, মহাকর্ষ শক্তির মাধ্যমে বস্তুজগতকে আকর্ষিত করে গ্যালাক্সি সৃষ্টির পেছনে কৃষ্ণ বা অন্ধকার বস্তুর(Dark matter) এর বিশেষ ভূমিকা আছে। অন্যদিকে মহাবিশ্বের বর্তমান প্রসারণের মাত্রার ত্বরণের জন্য কৃষ্ণ বা অন্ধকার শক্তি বলে একটি জিনিসকে দায়ী করা হচ্ছে। বর্তমান মহাবিশ্বের মূল অংশই হচ্ছে কৃষ্ণ শক্তিবাকিটা কৃষ্ণ বস্তু। আমরা চোখে বা ডিটেকটরের মাধ্যমে যা দেখি তা মহাবিশ্বের মাত্র ৫ শতাংশেরও কম।

ডুবে গেল বুঝি নতুন বিজ্ঞান জগতের স্বপ্নিল নভোতরী!

কণাদের মধ্যে নিউট্রিনো সবচেয়ে আশ্চর্য রকমের সব ধর্ম দেখায়। ১) নিউট্রিনো (প্রায়) ভরহীনঃ নিউট্রিনোকে আপাতভাবে ভরহীন (Mass less) মনে হয়। তবে সূক্ষ্ম পরীক্ষায় দেখা গেছে নিউট্রিনোর অত্যন্ত ক্ষুদ্র ভর আছে। ইলেকট্রনের ২.৫ লক্ষ ভাগের এক ভাগ অর্থাৎ নিউট্রিনোর ভর যেন থেকেও নেই- জ্বীন ভূতের মত! ২) নিউট্রিনো (প্রায়) মিথষ্ক্রিয়া বিহীনঃ কণারা সাধারণত মহাকর্ষতড়িৎ চুম্বকীয়সবল এবং দুর্বল বল এই চারটি মহাজাগতিক বলের মাধ্যমে মিথষ্ক্রিয়া করতে পারে অর্থাৎ অন্য কণাদের প্রভাবিত করতে পারে বা নিজে প্রভাবিত হতে পারে। পক্ষান্তর নিউট্রিনো আধানহীন তাই তড়িৎচুম্বকীয় মিথষ্ক্রিয়া দেখায় না। কোনকিছুতেই প্রভাবিত হয়না বলে নিউট্রিনো সমস্ত কিছু ভেদ করে সহজেই চলে যেতে পারে। প্রতি মুহূর্তে বিলিয়ন বিলিয়ন নিউট্রিনো আমাদের দেহ থেকে শুরু করে গোটা পৃথিবীটাসৌরজগতগ্যালাক্সি- সবকিছু ভেদ করে চলে যাচ্ছে। ঠিক ভূতেরা নাকি এমনকি করে মানব দেহে আছর করে থাকে যা অআছরকারী নিজে অনুভব করতে পারলেও সাধারণ মানুষ দেখতে পায় না ভূতদের। দেখতে পাবে কেমন করে। প্রতি মুহূর্তে বিলিয়ন বিলিয়ন নিউট্রিনো আমাদের দেহের এক প্রান্ত দিয়ে ঢুকে অপর প্রান্ত দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে অনায়াসে অথচ আমরা না দেখতে পাইনা অনুভব করতে পারি! এর কারণ ভূতদের মত নিউট্রিনোও নাকি রূপ বদলাতে পারে। নিউট্রিনোর জ্বীন-ভূতের মত রূপবদলঃ দেখা যায় নিউট্রিনো স্থানের মধ্য দিয়ে চলতে চলতেই এই ৩ রূপের মধ্যে একরূপ থেকে আরেকরূপ ধারণ করে। নিউট্রিনো ৩ রকমের রূপ বদলাতে পারে যেমনঃ কখনও ১. ইলেকট্রন নিউট্রিনোকখনও ২. মিউয়ন নিউট্রিনো কখনও ৩. টাও নিউট্রিনো-তে অনায়াসে রূপ পরিবর্তন করে থাকে যেমনটি ভূতেরা নাকি এমনটি করে কখনও সাপকখনও কালো বেড়ালকালো কুকুরের রূপ ধরে থাকে। শুধু তাই নয়। নিউট্রিনো নাকি তরঙ্গের মত পর্যায়ক্রমে ভোলও পাল্টাতে পারে ভূতের মত। যাকে ‘Neutrino Oscillation’ বলে। জ্বীন ভূতের যত সব লক্ষণাদি নিউট্রিনোর মধ্যে পাওয়া যাওয়াকে নিউট্রিনোকে বলা হয়ে থাকে ভূতুড়ে কণা। নিউট্রিনো যেকোনো সাধারণ পদার্থকেই অনায়াসে ভেদ করে চলে যেতে পারে এমনকি সে পদার্থ যদি পৃথিবীর আকারের একটি গ্রহও হয় বা সূর্যের আকারের একটি নক্ষত্রওতাতেও নিউট্রিনোকে আটকানো যাবে না। একটি নিউট্রিনোকে আটকাতে অর্থাৎ তাকে সনাক্ত করতে গেলে হয় এমন কিছু দরকার যেটি অন্ততঃ কয়েক আলোকবর্ষ পুরু হবে অথবা এমন কিছু যেটির ঘনত্ব একটি নিউট্রন স্টার’(neutron star) এর অভ্যন্তরীণ ঘনত্বের (যা কিনা পৃথিবীর তুলনায় প্রায় 10141014 গুণ বেশি!) অনুরূপ হতে হবে । নিউট্রিনোর ভূতুতে গতি আবিস্কারের ইতিকথা প্রজেক্ট অপেরা’ নামের এক বৈজ্ঞানিক প্রকল্পের অধীনে ইউরোপীয় পারমাণবিক গবেষণা কেন্দ্র সাড়া জাগানো নিউট্রিনোর গতিবেগ আবিস্কারের পদক্ষেপ গ্রহণ করে। নিউট্রিনোর গতিবেগ আবিস্কারের ক্ষেত্রে গৃহীত এক পরীক্ষার প্রথম ধাপে সুইজারল্যান্ডের সিনক্রোটোন নামের একটি ভূগর্ভ যন্ত্রে প্রোটন কণা তৈরী করে তা গ্রাফাইটের ওপর নিক্ষেপ করা হয়। এতে প্রোটন কণাগুলি ভেঙে কিছু জটিল কণা তৈরী হয়যেগুলি অল্প সময়ের মধ্যেই ক্ষয় হয়ে মিউয়ন এবং মিউ নিউট্রিনো তৈরী করে। এ কণাগুলিকে তখন লোহার ওপর নিক্ষেপ করা হয়। এতে মিউয়ন নিউট্রিনো বাদে অন্য সব কণা প্রতিফলিত বা শোষিত হয়। মিউয়ন নিউট্রিনোগুলি পৃথিবীর মাটি-পাথর ভেদ করে চলে প্রায় ৭৫০কিলোমিটার দূরে ইতালিতে পৌঁছায়। এই নিউট্রিনো লোহাও ভেদ করে অনায়াসে এপার থেকে ওপারে ছুটে যেতে পারে আলোর গতির চাইতেও বেশী গতিতে। মজার ব্যাপার হলো যেভরবিহীন অর্থাৎ অশুন্য ভরের (Mass-less) অধিকারী আলোর কণাই সাধারণতঃ ভরপূর্ণ পারমানবিক কণার চাইতে দ্রুতগামী হয়ে থাকে। কিন্তু অশুন্য ভরের অধিকারী অর্থাৎ ভরযুক্ত নিউট্রিনো যার গতিবেগ নাকি শুন্য ভরের আলোকেও ছাড়িয়ে গেছে। এখানেই বৈজ্ঞানিক জগতের চরম ও পরম বিস্ময়। অপেরা পরীক্ষণের ফলাফলে দেখা যাচ্ছে যেনিউট্রিনোর গতি হলো আলোর গতির ১.০০০০২৫ গুণ অর্থাৎ অন্ততঃ ৬০ ন্যানো সেকেন্ড বেশী। যে কারণে নিউট্রিনোর ভূতুতে গতি আবিস্কারে বিজ্ঞানীরা হতভম্ভ হয়েছিলেন বি ১৯০৫ সাল। জার্মানীর জগদ্বিখ্যাত বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন তাঁর ঐতিহাসিক ও সবচেয়ে উচ্চমানের যে তত্ত্ব (theory)বৈজ্ঞানিক জগতে উত্থাপন করে রীতিমত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত বিপ্লব সাধন করেছিলেন সে তত্ত্বটিকে বলা হয় E=MC² (Theory of special relativity) বা বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব। এই তত্ত্বে মূল কথা আলোর চেয়ে দ্রুতগতির কোন কিছু এ জগতে নেই। এ তত্ত্বের ওপর ভিত্তি করেই দাঁড়িয়ে আছে পদার্থ বিজ্ঞানের অন্য সব তত্ত্ব। তাই আইনস্টাইনের special relativity তত্ত্বে কোন প্রকার বিপদ বিপর্যয় ঘটলে তাতে বৈশ্বিক গুরুত্বপূর্ণ যতসব বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব-সূত্রাবলী ধসে পড়তে পারে-এ আশংকার মধ্যেই সুইজারল্যান্ডের জেনেভা শহরের কাছে ফ্রান্সের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্র Center for European Research of Nuclear (CERN) কর্তৃক সেপ্টেম্বর ২০১১ সালে অনেকটা যাদুকরীভাবে ঘোষণা করে বসে: আলোর চেয়েও দ্রুতগতিতে চলে "নিউট্রিনো"। এই ঘোষণা বিজ্ঞানীদের জন্য হয়তো বয়ে আনতো অল্প শোকযদি নিউট্রিনো প্রমাণিত হতো আলো তথা ফোটন জাতীয় ভরশুণ্য (ম্যাসলেস) কণা। তাহলে সাত্বনা হতে পারত এই বলে: অসুবিধা নেই এতো আলোর সমগোত্রীয় কণা বিশেষ তাতে সামান্য গতি নিউট্রিনোর বাড়লে আর যাই হোকআইনস্টাইনের E=MC² (Theory of special relativity) বা বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বে ব্যত্যয় ঘটলেও অন্ততঃ আলোর জাত যাবে না। কিন্তু সার্ণের এই আবিস্কারে বিজ্ঞানীরা যে কারণে অধিক শোকে পাথর হয়ে গিয়েছিলেন তা হচ্ছে নিউট্রিনো অআলো/ফোটনজাতীয় ভরশুন্য নয় বরং হিগস বোসনের মত রীতিমত ভরসম্পন্ন (ম্যাসনেস) কণা। শুধু তাই নয়নিউট্রিনোর ভরসম্পন্ন কণা-এই তত্ত্বের দুই জন যৌথ আবিস্কারক জাপানী এবং কানাডীয় বিজ্ঞানীকে যৌথভাবে নোবেল পুরস্কারেও ভূষিত করা হয় যা বিজ্ঞানীদের অধিক শোকে পাথর হওয়ারই কথা। আসলে এটা আবিস্কার নাকি নিউট্রিনোর ভূতুড়ে কান্ড কারখানাআলোর গতির চেয়ে নিউট্রিনোর গতি অন্ততঃ ৬০ ন্যানো সেকেন্ড বেশি”! Center for European Research of Nuclear (CERN) এর বিজ্ঞানীদের এই দাবীর প্রতিক্রিয়ায় ব্রিটিশ পদার্থবিজ্ঞানী কসমোলজিস্ট ও অ্যাস্ট্রোফিজিসিষ্ট মার্টিন রিস বলেছেন যে,: সার্নের বিজ্ঞানীরা যেটা বলছেন (আলোর চেয়েও দ্রুতগতিতে চলে "নিউট্রিনো")সেটা একটা অতি আশ্চর্যের দাবিই বটে। ফার্মিল্যাবের এক বিজ্ঞানী অধ্যাপক জেনি থোমাস বলছেন সার্নের বিজ্ঞানীদের তথ্য যদি আসলেই সত্য প্রমাণিত হয় তাহলে পদার্থবিজ্ঞানে তার প্রভাব হবে অনেক বড়৷ ব্রিটিশ বিজ্ঞানী ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের কণা-পদার্থবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক জেফ ফোরশাও বলছেনসার্নের গবেষণার ফলাফল যদি সত্যি হয় তার মানে হলো আজকের সুপ্রতিষ্ঠিত সব পদার্থবিজ্ঞানের সূত্রাবলী পাঠিয়ে দেয়া যাবে অতীতে৷ অর্থাৎ তিনি বলতে চাইছেনঃ আমরা কল্পবিজ্ঞানে হরহামেশাই যে টাইম ট্রাভেল'এর কথা পড়ি সেটা সত্যি হবে৷ তবে সঙ্গে সঙ্গে তিনি এও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেনতার মানে এই নয় যেআমরা খুব তাড়াতাড়িই টাইম মেশিন বানাতে যাচ্ছি! নিউট্রিনোর নির্ভুলতা প্রমাণের জন্য সার্ণের নিবিড় গবেষণা ব্রিটিশ পদার্থবিজ্ঞানী কসমোলজিস্ট ও অ্যাস্ট্রোফিজিসিষ্ট মার্টিন রিস বলেছেন যে, : অতি আশ্চর্যের কোনো দাবির সত্যতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন সেরকমই কোনো প্রমাণ ৷ যেকোন বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার ফলাফল পাওয়ার পর বিজ্ঞানীদের প্রথম কাজই হলোপরীক্ষাটির ভুল-ত্রুটি দূর করা। এ ধরণের ভুল-ত্রুটি দূর করার জন্য বিজ্ঞানীরা যা করে থাকেন তা হচ্ছে একই পরীক্ষা বার বার করা। বিভিন্ন কারণে পরীক্ষার ফলাফল অভিন্ন নাও আসতে পারে। তখন একাধিক পরীক্ষার গড় ফলাফল হিসাব করা হয়। সেই সাথে ভুলের আশংকাও হিসাব করা হয়। গবেষণা যাচাই যান্ত্রিক তারের বিচ্ছিন্নতার কারণে আলোর চাইতে নিউট্রিনো-কে বেশী গতি সম্পন্ন দেখা গেছে ব্যাং তত্ত্বের স্থপতি বৃটিশ পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং বলছেন সার্নের গবেষণার ফলাফল নিয়ে মন্তব্য করার সময় এখনো আসেনি৷ তিনি বলেন এর জন্য আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন ৷ হকিংসহ বিশ্ব বরেণ্য বিজ্ঞানীদের অআবিস্কারটি পুনর্বিবেচনার জোর দাবীর পরিপ্রেক্ষিতে সার্নের বিজ্ঞানী দারিও তাঁদের গবেষণা প্রতিবেদনটি আরও যাচাই বাছাই করে দেখতে মার্কিন ও জাপানি বিজ্ঞানীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন৷ উল্লেখ্যঅ্যামেরিকার ফার্মিল্যাবও জাপানের টিটুকেনামের দুটি গবেষণা কেন্দ্র নিউট্রিনো বিষয়ে কাজ করছে৷ এই দাবীর পরিপ্রেক্ষিতে সার্ণে কর্তৃক নিউট্রিনোর গতিবেগের পুনরায় গবেষণার সর্বশেষ ফলাফলে জানা গেছেঃ যান্ত্রিক তারের বিচ্ছিন্নতার কারণে আলোর চাইতে নিউট্রিনো-কে বেশী গতি সম্পন্ন দেখা গেছে। ডুবে গেল বুঝি নতুন বিজ্ঞান জগতের স্বপ্নিল নভোতরী ! বৃটিশ সাহিত্যিক সেক্সপিয়ার একবার এক অনুষ্ঠানে অআইনস্টাইনকে সুধী মহলে পরিচিত করতে গিয়ে এক অবিস্মরণীয় উক্তি করছিলেন এই বলেঃ অ্যারিস্টটলের যুগ টিকেছিল হাজারহাজার বছরনিউটনের যুগ টিকেছিল তিন শত বছরএখন আইনস্টাইনের যুগ জানি না কত বছর চলবে। আইনস্টাইনের এ যুগ পৃথিবীকে রীতিমত এনালগ থেকে ডিজিটালে পরিণত করে দোর্দন্ডপ্রতাপে এখনও চলছে। কিন্তু কে জানতো নিউট্রিনোর ভূতুড়ে গতি একশত বছরের মাথায় ২০১১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ইউরোপীয় পারমাণবিক গবেষণা কেন্দ্র সার্ণ কর্তৃক আইনস্টাইনের সেই সোনালী যুগের বিখ্যাত সমীকরণ E=MC²(Theory of Special Relativity বা বিশেষ আপেক্ষিক) তত্বকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দেবে যে আইনস্টাইনীয় সমীকরণ বর্তমানে মহাবিশ্বের স্ট্যান্ডার্ড মডেলের সর্বাধুনিক ভিত্তি। কার্যত নিউট্রিনোর এই ভূতুড়ে গতি ডিজিটাল পৃথিবীকে রাতারাতি পুনরায় এনালগ যুগে ফিরিয়ে আনতে যেতে যথেষ্ট ছিলযদি না সার্ণ কর্তৃক ষোল হাজার এক তম গবেষণায় যান্ত্রিক তারের বিভ্রাটের কারণে নিউট্রিনোর ভূতুড়ে গতি এই গতি ভুল প্রমাণিত না হতো! সুতরাংডুবে গেল বুঝি নতুন বিজ্ঞান জগতের স্বপ্নিল নভোতরী! 

ডুবে নাই বুঝি সায়েন্স ফিকশনিস্টদের স্বপ্নের ওয়ার্মহোলর‍্যাপ ড্রাইভএক্সোটিক ম্যাটার  নামক আশার তরী !

আলবার্ট আইনস্টাইনের বিখ্যাত সমীকরণ E=MC²(Theory of Special Relativity বা বিশেষ আপেক্ষিক) তত্ত্ব ছিল সায়েন্স ফিকশনিস্টদের স্বপ্নের ওয়ার্মহোলর‍্যাপ ড্রাইভএক্সোটিক ম্যাটার তরী- যা আলোর গতি ছাড়িয়ে মহাবিশ্বের এফোড়ঁ-ওফোঁড় করে স্বাচ্ছ্বন্দে ভ্রমণের স্বাপ্নিক তত্ত্বের বড় বাধা, বড় অন্তরায়। নিউট্রিনোর গতি আলোর চাইতে অন্ততঃ ৬০ ন্যানো সেকেন্ড দ্রুত হওয়ার সংবাদে সায়েন্স ফিকশনিস্টরা আশার আলো দেখতে পেয়েছিলেন কিন্তু যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে তা সত্য প্রমাণিত না হওয়ায় হতাশা নেমে এসেছিল সায়েন্স ফিকশনিস্টদের মন মুকুরে। মনে হচ্ছিল আশার তরী বুঝি এবার ডুবে গেল!  নাডুবে নাই সায়েন্স ফিকশনিস্টদের আশার তরী। এখনও সায়েন্স ফিকশনিস্টরা আশার তরিতে ভর করে চেয়ে আছে নতুন জগতের নতুন বিজ্ঞানের পথপানে। কল্পলোকের মহাসাগরে এখনও দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ওয়ার্মহোলর‍্যাপ ড্রাইভএক্সোটিক ম্যাটার নামক আশার তরীতে পাল তুলে। ওয়ার্ম হোল” গোটা মহাবিশ্ব যার আনুমানিক পরিধি কল্পনা করা হয়েছে কমপক্ষে যে ৪৬ দশমিক ৫ বিলিয়ন আলোক বর্ষ তার মাইলেজ কিংবা কিলোমিটার বা কত?-এই অচিন্তনীয় দূরত্ব বৈজ্ঞানিক কল্পলোকে মুহুর্তের মধ্যে পাড়ি দিয়ে আবার পৃথিবীতে ফিরে আসতে কত দ্রুতগতি সম্পন্ন নভোতরী বা নভোভেলার প্রয়োজন তা সহজেই অনুমেয়। এ কারণে সায়েন্স ফিকশনিস্টরা কোন ভেলা বা তরীতে নয় শর্টকাট বিকল্প পথে বৈজ্ঞানিক পন্থায় মহাবিশ্ব মুহর্তের মধ্যে পাড়ি দিয়ে মুহুর্তের মধ্যে ফিরতে চান। শর্টকাট এই বিকল্প পথের বৈজ্ঞানিক নামকরণও করা হয়েছে ওয়ার্ম হোল” নামে। বিজ্ঞানীদের ধারণাএকটি ওয়ার্মহোলের ভেতরের পথ যদি চারপাশের স্থানের চেয়ে সংক্ষিপ্ত হয়তাহলে একে স্থান-কালের মধ্যে একটি শর্টকাট পথ হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব”(সূত্র: বিজ্ঞানচিন্তামে-২০১৯বর্ষ: ৩সংখ্যা-৮পৃষ্ঠা: ৬৮)। প্রস্তাবিত ওয়ার্ম হোল-কে দুই প্রান্ত বিশিষ্ট এক প্রকার সুড়ঙ্গ (টানেল) যা মহাবিশ্বের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তের অকল্পনীয় দূরত্বের মধ্যে যোগসূত্রক হিসেবে কাজ করবে। ওয়ার্মহোলের ধারণাটা এসেছিল কার্যতঃ ত্রিমাত্রিক স্থান কীভাবে সময়ের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে চতুর্মাত্রিক স্থান-কাল তৈরি করে তার ব্যাখ্যা সমম্বলিত বিজ্ঞানী আইনস্টাইনের বিখ্যাত ক্ষেত্র সমীকরণের বিশেষ একটি গাণিতিক সমাধান থেকে। (সূত্রঃ প্রাগুক্ত পৃষ্ঠা ৬৮)। ওয়ার্মহোলের সম্ভাব্যতার ব্যাপারে হতাশার মাঝেও হাল ছেড়ে দিচ্ছেন না বিজ্ঞানীরা। ওয়ার্ম হোলের বিকল্প আরেক পন্থা নিয়ে বিজ্ঞানীরা কাজ করছেন- যার নাম র্যা প ড্রাইভ। এই পদ্ধতিতে বিশেষ ধরনের বাবল” (বুদবুদ) তৈরি করে কোনো নভোযানের চারিদিকের স্থান-কালকে সরাসরি বাঁকিয়ে দেয়া যেতে পারে যাতে নভোযানের ভেতরে আলোর স্থানীয় বেগ কখনও সীমাতিক্রম করবে না। তবে আইনস্টাইনের বিশেষ অআপেক্ষিকতার সূত্র অনুসারেএতটাই বাঁকানো যেতে পারে যাতে বাবল বা বুদবুদটি নিজেই মহাকাশের বিপুল স্থানব্যাপী আলোর চেয়ে বেশি গতিতে চলতে পারে। আর এই নভোযানকে বুদবুদটি সঙ্গে করে নিয়ে যাবে মহাকাশের গভীর থেকে গভীরান্তরের বহু দূরদেশে। আইনস্টাইন-রোজেন ব্রিজও ওয়ার্ম হোল-কে আইনস্টাইন-রোজেন ব্রিজও বলা হয়। বস্ত্ততঃ মহাবিশ্বে যাতে আইনস্টনীয় আলোর গতির (১,৮৬,০০০ মাইল) চাইতে বেশি দ্রুতগতিতে মহাবিশ্বের মহা দূরত্ব সহজে অতিক্রম করা যায় তাত্ত্বিকভাবে ওয়ার্ম হোল দিয়ে তা-ই নির্দেশ করা হয়েছে। নতুন ধরনের ওয়ার্মহোলের ধারণা! স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ড্যানিয়েল জাফারিস এবং অ্যারন ওয়াল সম্প্রতি নতুন ধরনের ওয়ার্মহোলের সম্ভাবনার সুসংবাদ দিয়েছেন। খ্যাতনামা ইপিআর প্যারাডক্স’ (আইনস্টাইন-রোজেন-পোলানস্কি প্যারাডক্স) নিয়ে গবেষণাকালীন সময়ে এই সম্ভাবনার কথা জানতে পারেন। এ ধরনের ওয়ার্ম হলের প্রান্তগুলো প্রাকৃতিকভাবেই পরস্পর সংযুক্ত থাকার সম্ভব্যতার কথা জানিয়ে গবেষকরা বলেনএর জন্য নেগেটিভ বা ঋণাত্মক শক্তিসম্পন্ন এক্সোটিক ম্যাটারের প্রয়োজন নেই। ইপিআর প্যারাডক্স’ তত্ত্ব অনুসারে দুটি কণার মধ্যে কোয়ান্টাম অ্যান্টেঙ্গলমেন্ট’ বা কোয়ান্টাম বিভাজন’ নামে বিশেষ ধরনের ধর্ম থাকে। এই বিশেষ ধর্মানুযায়ীমাইক্রো স্কেলের ওয়ার্মহোলের মাধ্যমে মহাবিশ্বের দূরপ্রান্তে থেকেও পরস্পরের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপন সম্ভবপর হবে। তবেবিজ্ঞানীদের স্বীকারোক্তি যে, ‘ইপিআর প্যারাডক্স এর অনেক বিষয় এখনও বিজ্ঞানীদের অজানা রয়েছে। অবশ্য বিজ্ঞানীদের প্রত্যাশাএকজোড়া কৃষ্ণগহ্বরে কোয়ান্টাম প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে এধরনের নন ট্রান্সভার্স-কে আমাদের চলার উপযোগী ট্রান্সভার্স করা সম্ভবপর। কসমোলজির ইপিঅআর মডেল সঠিক হলে উক্ত কৃষ্ণ গহ্বর সিস্টেমে কিছু সমতুল্য ঋণাত্মক শক্তি যোগ করে আইনস্টাইন-রোজেন ব্রিজের জ্যামিতি পরিবর্তন করে আমাদের চলার উপযোগী ওয়ার্মহোল তৈরি করা সম্ভবপর। ওয়ার্ম হোলের প্রতিস্থাপক র‍্যাপ ড্রাইভ! ওয়ার্মহোলের সম্ভাব্যতার ব্যাপারে হতাশার মাঝেও হাল ছেড়ে দিচ্ছেন না বিজ্ঞানীরা। ওয়ার্ম হোলের বিকল্প আরেক পন্থা নিয়ে বিজ্ঞানীরা কাজ করছেন- যার নাম র‍্যাপ ড্রাইভ। এই পদ্ধতিতে বিশেষ ধরনের বাবল” (বুদবুদ) তৈরি করে কোনো নভোযানের চারিদিকের স্থান-কালকে সরাসরি বাঁকিয়ে দেয়া যেতে পারে যাতে নভোযানের ভেতরে আলোর স্থানীয় বেগ কখনও সীমাতিক্রম করবে না। তবে আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিকতার সূত্র অনুসারেএতটাই বাঁকানো যেতে পারে যাতে বাবল বা বুদবুদটি নিজেই মহাকাশের বিপুল স্থানব্যাপী আলোর চেয়ে বেশি গতিতে চলতে পারে। আর এই নভোযানকে বুদবুদটি সঙ্গে করে নিয়ে যাবে মহাকাশের গভীর থেকে গভীরান্তরের বহু দূরদেশে। বিগত শতাব্দীর ষাটের দশক থেকেই বিজ্ঞান কল্প কাহিনী জুড়ে রয়েছে র‍্যাপ ড্রাইভের বর্ণনা। ১৯৯৪ সালে প্রথমবারের মতো মেক্সিকান পদার্থবিজ্ঞানী মিগুয়েল আলকুবিরি বিশেষ ধরনের র‍্যাপ ড্রাইভের প্রস্তাব দেন। মিগুয়েলের মতেসাধারণ আপেক্ষিকতায় স্থানের যে নমনীয়তা রয়েছেসে স্থানটির মধ্যে একটি তরঙ্গমালা সৃষ্টি সম্ভব। এই তরঙ্গ বা ঢেউয়ের মধ্যেই চলমান কোনো নভোযানের পেছনের স্থান প্রসারিত করে সামনের স্থান সংকুচিত করে মহাকাশের অসীম দূরত্ব ঘুচিয়ে দেবে। এখানে নভোযানটি বুদবুদের ভেতর তরঙ্গের ঠিক মধ্যখানে স্বাভাবিক সমতল স্থানে থাকতে পারবে। তরঙ্গটি নিজেই আলোর চেয়ে বেশি বেগে মহাবিশ্বের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে কার্যকরভাবে তরাঙ্গায়িত হতে থাকবে। বিকল্প প্রযুক্তির র‍্যাপ ড্রাইভ ২০১১ সালে নাসার জনসন স্পেস সেন্টারের অ্যাডভান্সড প্রোপালশন ফিজিকস ল্যাবরেটরির ইন্জ্ঞিনিয়ার হ্যারল্ড জি. সোনি হোয়াইট বিকল্প প্রযুক্তির র‍্যাপ ড্রাইভের প্রস্তাব দেন। প্রস্তাবিত র‍্যাপ ড্রাইভে প্রয়োজন হবে না সমতল স্থানসম্পন্ন বুদবুদের (বাবল)। এটি শক্তি সাশ্রয়ীও। মাত্র কয়েক কিলোগ্রাম ভরশক্তিই যথেষ্ট যদিও বর্তমান ডিজিটাল প্রযুক্তি এ পরিমাণও বিরাট-বিশাল ব্যাপার! যাহোকএ পরিমাণ ভরশক্তিতে টেকসই এবং বিশাল তরঙ্গমালা তৈরি করা সম্ভব হবে যা দিয়ে মস্তবড় একটা স্পেসশিপ অনায়াসে চালিয়ে নেয়া যেতে পারে। সুখের বিষয়নাসার প্রকৌশলী সোনি হোয়াইটের প্রস্তাবিত র‍্যাপ ড্রাইভ নাসার গবেষণাগারে তাত্ত্বিকভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এতে যে যন্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে তার নাম র্যাভপ ফিল্ড ইন্টারফেরোমিটার। তাত্ত্বিকভাবে যন্ত্রটি সম্ভাব্য র্যা প সৃষ্টিকারী কোনো যন্ত্রের মাধ্যমে সৃষ্ট স্থানের জ্যামিতিতে খুবই ক্ষুদ্র পরিসরের পরিবর্তন শনাক্ত করতে পারবে। এক্সোটিক ম্যাটার তাত্ত্বিকভাবে থার্নের এক্সোটিক ম্যাটার’ বিস্ফোরণে প্রতিটি কৃষ্ণ গহ্বরের জ্যামিতি পাল্টে দিয়ে আইনস্টাইন-রোজেন সেতুর প্রান্তগুলো ঘটনাদিগন্তের বাইরে নিয়ে আসে। আর তাতে সুড়ঙ্গের ভেতর দিয়ে এক প্রান্ত থেকে আলোর চেয়ে বেশি দ্রুত আরেক প্রান্তে পৌঁছা সম্ভবপর হতে পারে। বিজ্ঞানীদের মতেদুটি প্রান্তে থাকা সুড়ঙ্গ তাদের চারপাশের বিশেষ ধরনের পদার্থের’ বিস্ফোরণে পরিবর্তন করা সম্ভব। নেগেটিভ বা ঋণাত্মক শক্তিসম্পন্ন বিশেষ ধরনের এই পদার্থকে বলা হয় এক্সোটিক ম্যাটার। তবে আপনাআপনি (অটোমেটিক্যালি)প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট দুটি কৃষ্ণগহ্বর পরস্পরের সাথে সংযুক্ত হয়ে এ রকম সুড়ঙ্গ তৈরি হয়ে যাবে এমনটিরও নিশ্চয়তা বিজ্ঞানীরা দিতে পারছেন না। (অসমাপ্ত ইনশা আল্লাহ)

                                            কোথায় স্বর্গ কোথায় নরক কে বলেছে বহুদূর ?


  
১৯৭১ সালে কিছু সোভিয়েত প্রকৌশলী তুর্কমেনিস্তানে খনিজ তেলের অনুসন্ধান চালায়। তাঁরা ক্ষেত্রটিতে তেলের বদলে গ্যাস আবিষ্কার করেন এবং খোড়াখুড়ির এক পর্যায়ে দুর্ঘটনাবশত বিরাট একটি খাদ সৃষ্টি হয় যাতে খনিজ অনুসন্ধানকারীদের ক্যাম্পও ধ্বসে বিলীন হয়ে যায়। কথিত আছেআশপাশ অঞ্চলে বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় প্রকৌশলীরা গ্যাসীয় জ্বালামুখে আগুন ধরিয়ে দেন। যাইহোকসেই ১৯৭১ থেকে এই জ্বালামুখ জ্বলছে। স্থানীয়রা তাই এর নাম দিয়েছেন 'নরকের দুয়ার'

 



Comments

Popular posts from this blog

ইসলামী বিজ্ঞান-প্রযুক্তি তথ্য ব্যাংক (বাংলাদেশ)

Science-Tech News

আধুনিক বৈজ্ঞানিক সৃষ্টিতত্ত্বের আলোকে মহাবিশ্বের জন্মোতিহাস